দিঘলিয়ায় গত সপ্তাহে ঘটে যাওয়া লোমহর্ষক ঘটনার রহস্য শুধু রহস্যই রয়ে গেছে

দিঘলিয়া প্রতিনিধি ঃ দিঘলিয়ায় গত সপ্তাহে ঘটে যাওয়া লোমহর্ষক ঘটনার রহস্য উন্মোচন করতে পারেনি পুলিশ। এলাকায় পুলিশের তৎপরতা সত্ত্বেও ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ আগষ্ট বৃহস্পতিবার গাজীরহাট হাজী নৈমদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী নন্দিনী রায়কে হাতপা ও মুখ বাঁধা অচেতন অবস্থায় বিদ্যালয়ের বাথ রুম থেকে উদ্ধার করা হয়। নন্দিনী স্থানীয় ডোমরা গ্রামের মুক্তা রায়ের কন্যা। এ ঘটনায় নন্দিনী রায়ের মাতা শিমিল রায় বাদী হয়ে দিঘলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেছে। দিঘলিয়া থানায় মামলা হলেও মামলার তদন্তে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি। উক্ত ছাত্রীর বিবরণে জানা যায় একটি মাদক সেবী চক্র এ ঘটনার সাথে জড়িত। তারা পূর্ব থেকেই এখানে ওঁৎ পেতে ছিল। একটি মহল এলাকায় ও বিদ্যালয়ে আধিপত্য বিস্তারে এ ধরণের ঘটনা ঘটাতে পারে এমনটাই জানিয়েছে এলাকাবাসী। অপর এক সূত্রে জানা গেছে বিদ্যালয়টি ছুটির পর এলাকার একটা কিশোর গ্যাং বিদ্যালয়টির আশপাশে আড্ডা দেয়। এলাকার একটা প্রভাবশালী মহলের পৃষ্ঠপোষকতায় এ চক্রটি অপ্রতিরোধ্য। এদিকে গত ২২ আগষ্ট দিবাগত রাত সাড়ে ৩ টার দিকে বারাকপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীকাঠী গ্রামে পল্লী চিকিৎসক অরবিন্দু বিশ্বাসের বাড়িতে ৫ লাখ টাকা চাঁদার দাবীতে ৮/১০ জনের এক সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী গোলাবর্ষণ, ককটেল ও চকলেট বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে। পুলিশ বলছে এটা নড়াইলের পূর্ব ঘটনা। ঘটনার পর থেকে এলাকায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে চরম আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার পর অরবিন্দু ঘরে তালা ঝুলিয়ে নিরুদ্দেশ হয়েছেন বলে জানা গেছে। এদিকে গাজীরহাট এলাকার এক প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে এলাকায় লোকজনের বাড়ি ভাংচুর, লুটপাট ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার বিকালে গাজীরহাট বাজারের কাঁঠাল তলা মোড়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা চাওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি নেতা কর্মীদের ওপর হামলা ও মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। এ ব্যাপারে দিঘলিয়া থানায় ১৫ জনকে নামীয় আসামী ও অজ্ঞাত আরো ১০/১২ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের হয়। উক্ত মামলায় গাজীরহাট ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বাদশাহ গাজী, তার বড় ভাই আকবর গাজী ও তার এক সহযোগী শরিফুল ইসলাম আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করলে বিজ্ঞ আদালত তাদের জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে। এদিকে এই ঘটনার পর পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের একটি সংঘবদ্ধ চক্র গাজীরহাটের শান্তি শৃঙ্খলা বিঘেœর পায়তারা করছে। খবিরবাহিনীর একটা সশস্ত্র সন্ত্রাসীচক্র ও তাদের পৃষ্ঠপোষকতা প্রদানকারী পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন থেকে গাজীরহাট বাজার এলাকায় এসে আধিপত্য বিস্তারে একটা মহল অপতৎপরতা চালাচ্ছে বলে গাজীরহাট এলাকার শান্তিপ্রিয় লোকজন এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন। এদিকে গাজীরহাট ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বাদশাহ গাজীর সমর্থনে একটি মহল গত বুধবার গাজীরহাটে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। অপর এক সূত্রে জানা গেছে, গাজীরহাট এলাকার শান্তিপ্রিয় মানুষ এলাকায় বড় ধরণের বিশৃঙ্খলার আশংকা করছেন। তারা এ ব্যাপারে খুলনার রাজনৈতিক অভিভাবক ও প্রশাসন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। গাজীরহাটের সাধারণ মানুষের শান্তি বিগ্ন ঘটানোর নেপথ্য শক্তিকে শণাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে ব্যর্থ হলে তার দায়ভার স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিকমহল ও আইন প্রয়োগকারী মহলকেই বহন করতে হবে এমনটাই জানিয়েছে এলাকার বিজ্ঞমহল।



