যশোরে ছেলের বটির আঘাতে মা খুনের ঘটনায় কুলাঙ্গার ছেলে আটক

যশোর ব্যুরো ঃ ছেলে কর্তৃক গর্ভধারিনী মা আনোয়ারা খাতুন (৫৫) হত্যা কান্ডর ঘটনায় হত্যাকারীর ছোট ভাই মঞ্জুর হাসান বাদি হয়ে বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে কোতয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ হত্যাকারী মামুনুর রশিদ (৪৩)কে গ্রেফতার করেছে। সে আদালতে হত্যাকান্ডের বর্ণনা দিয়ে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করার কথা রয়েছে বলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রতন মিয়া জানিয়েছেন। হত্যাকান্ডের পিছনে পারিবারিক দীর্ঘদিনের কলহের চাঞ্চল্যকর খবর পাওয়া গেছে।
যশোর সদরের বার্জে দূর্গাপুর গ্রামের আলতাফ হোসেনের ছেলে মঞ্জুর হাসান মামলায় উল্লেখ করেন, তার বড় ভাই মামুনুর রশিদ লাউজানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের শিক্ষক। সে প্রথমে প্রেম করে বিয়ে করে। কিন্তু পরিবারের লোকজনের সাথে বনিবনা না হওয়ার কারনে তার স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যায়। পরবর্তীতে সে আবারও বিয়ে করে কিন্তু পূর্বের ন্যায় পরিবারের লোকজনের সাথে বনিবনা নরা হওয়ার কারনে ২য় স্ত্রীও তাকে ছেড়ে চলে যায়। মামুনুর রশিদের দুই স্ত্রী চলে যাওয়ার জন্য তার মাকে দায়ী করে আসছিল। সে ২য় স্ত্রী চলে যাওয়ার পর মেসে একাই থাকতো। মাঝে মধ্যে বাড়িতে আসতো আবার চলে যেতো। গত ২৭ আগষ্ট বৃহস্পতিবার বিকাল অনুমান ৪ টার সময় মামুনুর রশিদ বাড়িতে এসে উঠানের উপর দাঁড়িয়ে মা আনোয়ারা খাতুনের কাছে গোসল করার জন্য গামছা চায়। তখন মা বড় ছেলে মামুনুর রশিদের কাছে গামছা দিয়ে ভালো মন্দ শুনে খাবার গোছানোর জন্য ঘরের দিকে যাবার জন্য আনোয়ারা খাতুন পেছনে ঘোরার সাথে সাথে উক্ত মামুনুর রশিদ পাশে থাকা ধারালো তরকারি কাটা বটি দিয়ে প্রথমে মায়ের পিঠে স্বজোরে কোপ মারে। প্রথম কোপে আনোয়ারা মাটিতে পড়ে গেলে উক্ত বটি দিয়ে এলোপাতাড়ী কুপিয়ে এবং হত্যা নিশ্চিত করতে গলা কেটে শরীর থেকে মাথা আলাদা করে ফেলে। হত্যাকান্ডের পর মামুনুর রশিদ দ্রুত পালিয়ে যায়। হত্যাকান্ডের পর খবর পেয়ে কোতয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে আনোয়ারার লাশ উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। হত্যাকান্ডের খবর পেয়ে পিবিআই যশোর ইউনিট ঘটনা ছায়া তদন্তে মাঠে নামে। পিবিআই হত্যাকারীকে শুক্রবার ২৮ আগষ্ট সকালে সদর উপজেলার তেঘরিয়া গ্রাম থেকে গোপন সূত্রে খবরের ভিত্তিতে আটক করে। সে আটকের পর হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছ্বায় জবানবন্দি দেওয়ার কথা পিবিআই এর এসআই রতন মিয়াকে জানালে শুক্রবার বিকালে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামুনুর রশিদকে নিয়ে পিবিআই টিম আদালতে অবস্থান করছে।



