মিথ্যা তথ্য উপস্থাপনের অভিযোগ খুলনা প্রেসক্লাবে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার ১ নম্বর জলমা ইউনিয়নের মাথাভাঙ্গা মৌজায় ১.০৭ একর জমি নিয়ে বিরোধের ঘটনায় প্রতিপক্ষের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত তথ্যকে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর দাবি করে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন জমির দাবিদার পক্ষ। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, মাথাভাঙ্গা মৌজার সি.এস. খতিয়ান নং-১০৬, এস.এ. খতিয়ান নং-১৬৫ এবং বি.আর.এস. খতিয়ান নং-১৭০ থেকে আগত বি.আর.এস. খতিয়ান নং-৩৬৯৫ ও পরবর্তীতে বি.আর.এস. খতিয়ান নং-৪৫৮৪-এর অস্তর্ভুক্ত ২৫৮০ নং দাগের ১.০৭ একর জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়, জমিটির মালিকানা ও ভোগদখল নিয়ে অতীতে একাধিক দেওয়ানি মামলা হয়েছে। কোরবান আলী শেখের দায়ের করা দেওয়ানি মামলা নং-১৭৬/৭৯ পরবর্তীতে ৩২০/৯০ নং মামলায় রূপান্তরিত হয়। ১৯৯১ সালের ৭ আগস্ট আদালতের রায় ও ডিক্রির মাধ্যমে কোরবান আলী শেখ জমিটি লাভ করেন বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়। ওই রায় ও ডিক্রির বিরুদ্ধে দায়ের করা মিস আপিল নং-৫১/৯১ পরবর্তীতে ১৯৯২ সালের ১৬ মার্চ খারিজ হয় বলেও লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে জমিটি নিয়ে মিসেস মর্জিনা সিদ্দিকীর সঙ্গে বায়নাপত্র এবং দেওয়ানি মামলা নং-১৫২/২০১৩ হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। ওই মামলায় ২০১৪ সালের ৪ মার্চ আপোষনামা দাখিলের পর আদালতের রায় এবং ১০ এপ্রিল চূড়ান্ত ডিক্রির মাধ্যমে জমির অধিকার পাওয়ার দাবি করেন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ব্যক্তিরা। এছাড়া ভূমি অফিসের নামজারি, জমাখারিজ ও জমা একত্রিকরণ কার্যক্রমের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট জমি আর.এস. ৩৬৯৫ নং খতিয়ানে রেকর্ডভুক্ত করা হয়েছে এবং ভূমি উন্নয়ন করসহ সরকারি রাজস্ব পরিশোধ করা হয়েছে বলেও লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি হেবার ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে জমিটি হস্তাস্তর করা হয়। পরবর্তীতে ভূমি অফিসের কার্যক্রম সম্পন্ন করে বি.আর.এস. ৪৫৮৪ নং খতিয়ানে ২৫৮০ নং দাগে ১.০৭ একর জমি রেকর্ডভুক্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এদিকে, প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে জমি নিয়ে ভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে দাবি করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এতে বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। জমি সংক্রান্ত বিরোধের প্রকৃত তথ্য যাচাইয়ের জন্য আদালতের রায়-ডিক্রি, দলিলপত্র, নামজারি ও ভূমি রেকর্ড পর্যালোচনার আহ্বান জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, কয়েকজন ব্যক্তি ওই জমিতে প্রবেশ ও দখলের চেষ্টা করছেন। এ নিয়ে জমির দাবিদার পক্ষের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে বলেও জানানো হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।জমি সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়ে খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতিতে উভয় পক্ষের আইনজীবীদের উপস্থিতিতে আলোচনা হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়। সংবাদ সম্মেলন থেকে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি জমি সংক্রাস্ত সব দলিলপত্র, আদালতের রায়-ডিক্রি, নামজারি ও ভূমি রেকর্ড যাচাই করে নিরপেক্ষভাবে বিষয়টি তদন্তের আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি বিরোধপূর্ণ জমিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি যাতে না ঘটে এবং কোনো পক্ষ যাতে আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।



