কেসিসির গৃহকর আদায় ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড

# কেসিসির লেগো #
# আদায়ের হার ১২১.২০ শতাংশ
# সরকারি ৭টি প্রতিষ্ঠানের নিকট বকেয়া ৪৭ কোটি টাকা
খলিলুর রহমান সুমন ঃ খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) এবার গৃহকর খাতে ৫৬ কোটি টাকা আদায় করেছে, যা করপোরেশনের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। গত অর্থবছরের তুলনায় আদায় বেড়েছে ৬ কোটি টাকা। গৃহকর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার ১২১.২০ শতাংশ পূরণ হয়েছে এবার।
কর আদায় শাখার প্রধান কাজী ইমরুল হাসান টিটো জানান, গৃহকর আদায় বেড়েছে মূলত কর আদায় শাখার নতুন কৌশল অবলম্বনের কারণে। এর মধ্যে কর আদায় শাখা ৫৮টি ভবনের মালিকককে লাল নোটিশ দিয়ে আগে অঙ্গীকার নামা নিয়েছেন। পরে বকেয়া কর আদায় হয়েছে। নগরীতে ৭৭ হাজার ৮১১টি হোল্ডিং-এর মধ্যে ৬০ হাজার ৪৯৫টি হোল্ডিং-এর বকেয়া কর আদায় করতে সক্ষম হন। যার জন্য রাজস্ব আদায়ে রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তবে কর আদায় বাড়লেও নাগরিক সেবা নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে নগরবাসীর। ফুটপাত দখল, পরিচ্ছন্নতা, মশক নিয়ন্ত্রণ, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণসহ এই চারটি খাতে কেসিসির সেবার মান নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে।
কেসিসির রাজস্ব বিভাগের তথ্য অনুযায়ী,২০২১-২২ অর্থ বছরে গৃহকর খাতে সাড়ে ৩৭ কোটি টাকা দাবি করা হয়েছিল। আদায় হয়েছে ৩৯ কোটি টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে গৃহকর খাতে ৪০ কোটি টাকা দাবি করা হয়েছিল। আদায় হয়েছিল ৪২ কোটি টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে গৃহকর খাতে ৪১ কোটি টাকা দাবি করা হয়েছিল। কিন্তু আদায় হয় প্রায় ৪৬ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে গৃহকর খাতে ৪৫ কোটি টাকা দাবি করা হয়েছিল। আদায় হয়েছে ৫০ কোটি ৪০ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। যা টার্গেটের চেয়ে ৫ কোটি টাকা বেশী। আগের অর্থবছরে ৪১ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল। কিন্তু আদায় হয়েছিল ৪৫ কোটি ৮৯ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে ৪৭ কোটি টাকা দাবি করা হয়। সেখানে আদায় হয় প্রায় ৫৭ কোটি টাকা। যা রেকর্ড সৃষ্টি করেছে।
সরকারি ৭টি প্রতিষ্ঠানের কাছে মোট বকেয়া রয়েছে ৪৭ কোটি ৪২ লাখ ৭৭ হাজার টাকা টাকা। এর মধ্যে কেডিএ’র কাছে ১৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা, বাংলাদেশ রেলওয়ের নিকট ২১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর নিকট ২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, ঢাকা ম্যাচ কোম্পানীর নিকট ৪৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা, সোনালী জুট মিলের নিকট ১ কোটি ৫২ লাখ টাকা, এ্যাযাক্স জুট মিলের নিকট ৩১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ও খুলনা বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার নিকট ৮৪ লাখ ৭ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে আছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরী, সোনালী ও এ্যাযাক্স জুট মিল। এছাড়া ব্যক্তি মালিকানাধীন হোল্ডিং-এ বকেয়া রয়েছে ২৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।
রাজস্ব বেড়েছে কিন্তু অভিযোগও আছে ঃ কেসিসির মোট রাজস্ব আয় হয়েছে ৮৯ কোটি ৪৯ লাখ ১৯ হাজার টাকা। আদায়ের টার্গেট ছিল ৮৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। গত অর্থবছরে আদায় করা হয় ৮০ কোটি ৮১ লাখ টাকা। গৃহকর ছাড়াও ট্রেড লাইসেন্স, ভূমি হস্তান্তর কর, সাইনবোর্ড ফি, যানবাহন ফি, বাজার শাখা, বিজ্ঞাপন করসহ ৫টি খাত থেকে এ রাজস্ব আদায় হয়। তবে নাগরিকেরা বলছেন, কর দিলেও সেবা মিলছে না তেমনভাবে। নগরের বিভিন্ন সড়ক ভেঙে গেছে, যত্রতত্র ময়লা জমে থাকে, মশার ওষুধ ছিটানো হয় না নিয়মিত। নগরের সোনাডাঙ্গা এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, ‘নিয়মিত গৃহকর দিই, কিন্তু এলাকায় মশা মারার ওষুধ বা ময়লা নেওয়ার বিষয়টি তেমন দেখি না।’ খালিশপুর দুর্বার সংঘের সভাপতি মেহেদী হাসান বলেন, গৃহকর নিয়মিত দিলে কাংখিত সেবা মিলছে না। কারণ নিয়মিত মশার ওষুধ দেয়া হয় না। ময়লা আবর্জনা পরিস্কার করা হয় না। ১০নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা মাহফুজুর রহমান মাজু বলেন, তার বাড়ির আশপাশে নিয়মিত ময়লা আবর্জনা পরিস্কার করা হয় না। আর মশার ওষুধ তা তো অনেকটা স্বপ্ন।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) খুলনা জেলা কমিটির সভাপতি এড. কুদরত ই খুদা বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের সেবামূলক কার্যক্রম এখনো গৎবাঁধা। সড়কবাতির অভাব, নিয়মিত ড্রেন পরিস্কারে অভাব, মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ দেখা গেলেও মশার অত্যাচার কমছে না। এ জন্য মশার ওষুধ নিয়মিতভাবে ছিটানোর পাশাপাশি ড্রেনের ¯্রােত ফিরিয়ে আনার জন্য নিয়মিত ড্রেন পরিস্কার করতে হবে। গৃহকর বৃদ্ধির পরিবর্তে সকলকে করের আওতায় আনতে হবে। অনেক লোক কর দিচ্ছে না। বিষয়টি গোপন তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। গণ পরিবহন চালু করতে হবে।



