স্থানীয় সংবাদ

অপার সম্ভাবনা থাকা সত্বেও এখানে গড়ে উঠেনি কোন পর্যটন কেন্দ্র

অবহেলিত একটি জনপদের নাম কয়রা- (৫)

রিয়াছাদ আলী, কয়রা (খুলনা) ঃ খুলনার কয়রা উপজেলা সুন্দরবনের সবচেয়ে কাছাকাছি জনবসতি এলাকা হওয়া সত্ত্বেও পর্যটন খাতে এখনো পিছিয়ে রয়েছে এজনপদটি। অথচ এখান থেকে সুন্দরবনের হিরণপয়েন্ট, শেকের টেক, কলাগাছিয়া ও বঙ্গোপসাগর খুব সহজেই দেখা যায়। রয়েছে ৯০০ বছরের প্রাচীন মসজিদকুঁড় মসজিদ, রাজা প্রতাপাদিত্যের বাড়ি, খালাস খাঁর দিঘির মতো ঐতিহাসিক স্থাপনাও। তবুও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধার অভাবে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারছে না এলাকাটি। জানা গেছে,
২০২১ সালে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড কয়রার গোলখালীতে পর্যটনকেন্দ্র নির্মাণের অনুমোদন দিলেও বন বিভাগের আপত্তির কারণে কাজ শুরু হয়নি। পরে স্থান পরিবর্তন করে ৬নং কয়রা গ্রামে কেওড়াকাটায় কেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু ৫ বছর পার হলেও কাজের গতি খুব ধীরগতি। অন্যদিকে, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, বরগুনা ও পটুয়াখালীতে সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠলেও খুলনার কয়রা উপজেলায় এখনো কোনো উল্লেখযোগ্য কেন্দ্র নেই। স্থানীয় বাসিন্দা ৫নং কয়রা গ্রামের শফিকুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনের সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিবছর হাজার হাজার পর্যটক আসেন, কিন্তু মানসম্মত হোটেল, রিসোর্ট ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবের কারণে তারা দ্রুত চলে যান। এই এলাকায় পরবর্তিতে কেউ আসতে চায় না। আমাদী ইউনিয়নের বাসিন্দা ও ইয়ুথ ফর দ্যা সুন্দরবনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ রাসেল আহমেদ বলেন, কয়রার আমাদী ইউনিয়নের ঐতিহাসিক মসজিদকুড় মসজিদকে কেন্দ্র করে একটি পর্যটন এলাকা গড়ে তোলা হলে এখানে শত শত মানুষের সমাগম ঘটতো। বিগত সরকার এখানে একটি পরিকল্পনা তৈরী করার আশ্বাস প্রদান করলেও সেটি আলোর মুখ দেখেনি। আইসিডির প্রতিষ্ঠাতা মোঃ আশিকুজ্জামান আশিক বলেন, কয়রার সুন্দরবন সংলগ্ন, কেওড়াকাটা, কাশিয়াবাদ, কাটকাটা, বজবজা এলাকায় একটি ইক্যুটুরিজম কেন্দ্র গোড়ে তলা হলে এখানে প্রচুর পর্যটক আসতে পারতো। এখন খুলনা হতে কয়রার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল। সে কারনে অনমায়াশে পর্যটকদের কাছে কয়রা হতো একটি আক্রশনীয় স্থান। এতে করে কয়রার মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব হতো। এ ছাড়া কয়রার মতো সম্ভাবনাময় এলাকায় পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠলে সরকার প্রচুর পরিমান রাজস্ব আদায় করতে পারতো। কাটকাটা ট্রলার মাঝি সমিতির সভাপতি রিপন শেখ বলেন, সুন্দরবন-নির্ভর জেলেদের জন্য পর্যটন একটি বিকল্প আয়ের উৎস হতে পারে। এ অঞ্চলে একটি পর্যটন শিল্প গড়ে উঠলে বনজীবীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে, যা সুন্দরবন সংরক্ষণেও ভূমিকা রাখবে। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে কয়রাকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা গেলে এখানকার অর্থনীতি যেমন চাঙ্গা হবে, তেমনি বিশ্বের দরবারে সুন্দরবনের সৌন্দর্য আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাবে। কয়রা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আব্দুল্লাহ আল বাকী বলেন, কয়রার মসজিদকুঁড় মসজিদ সহ সুন্দরবন বেষ্ঠিত কেওড়াকাটা, কাটকাটা এলাকায় পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলা হলে এখানকার অর্থনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এজেডএম হাছানুর রহমান বলেন, অনেক আগে কয়রা এলাকায় একটি ইক্যুট্ররিজম কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য একটি প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। এটি এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। কয়রা-পাইকগাছার সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, কয়রা এলাকায় একটি ইক্যটুরিজম কেন্দ্র স্থাপন করার বিষয়টা এখন এ অঞ্চলের মানুষের জন্য সময়ের দাবিতে পরিনত হয়েছে। ইতি মধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়কে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। কয়রা এলাকায় একটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে বলে তিনি জানান।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button