বাগেরহাটে প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের যোগসাজশ টেন্ডার হওয়া ব্রিজ না করে ৫০ লাখ টাকা উত্তোলন

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ
বাগেরহাট প্রতিনিধি ঃ অনিয়ম-দুর্নীতিতে আলোচিত বাগেরহাটে এবার টেন্ডার হওয়া ব্রীজ না করে এলজিইডি’র প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার যোগসাজশ করে সরকারের অর্ধকোটি টাকা উত্তোলন করে আত্মসাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জনস্বার্থে টেন্ডার হওয়া রাস্তার ব্রীজ না হওয়ায় স্থানীয় মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে এলাকাবাসীর পক্ষে স্থানীয় বিএনপি নেতা প্রকৌশলী মশিউর রহমান সোহেল মঙ্গলবার দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে সরকারের উপর মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য ও সংবাদ কর্মীদের প্রশ্নের উত্তরে বলা হয়, ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৪ হাজার ২১ টাকা অনুমোদিত চুক্তিমূল্যে বাগেরহাট সদর উপজেলার পূর্ব সায়েড়া লক্ষ্মীখালী ব্রিজের কাজ শুরু না করেই ৫০ লাখ টাকা আত্মসাত করা হয়। যা বাগেরহাট এলজিইডির দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যোগসাজশ করে করেছে। ব্রিজটির কাজ গত ২০২৪ এর ১৮ ডিসেম্বর তারিখে শুরু হয়ে ২০২৬ এর ১২ এপ্রিলের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। আর ব্রিজের কাজটি করার অনুমতি পান ঝিনাইদহ কাঞ্চন নগর এলাকার নিশীথ বসু। তবে নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আজ পর্যন্ত কোন কাজ শুরু করেনি। এই সংবাদ সম্মেলনে আরো অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় আল আমিন নামের এক ব্যক্তি বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে অবৈধ যোগসাজসে মাধ্যমে এই ব্রিজের কাজ সংক্রান্ত ৫০ লাখ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলীর যোগসাজশে কাজ না করেই ব্রিজের নির্মাণকাজ স্থগিত রাখা হয়েছে। ব্রিজটি নির্মাণ না হওয়ায় এলাকার জনসাধারণ কয়েক ঘণ্টা পায়ে হেটে ছাত্র-ছাত্রীদের বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া এবং অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এই ব্রীজের দাবীতে সম্প্রতি খুলনা-বাগেরহাট সড়কের বারাকপুর বাজারে স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতিতে মানববন্ধন এবং এলজিইডি অফিসে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। সংবাদ সম্মেলন থেকে অতিসত্বর পুনরায় দরপত্রের (টেন্ডার) মাধ্যমে ব্রিজটির নির্মাণকাজ শুরু করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি এই ঘটনার সাথে জড়িত ঠিকাদার, দায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী, পিডি, সিনিয়র প্রকৌশলী এবং অভিযুক্ত আল আমিনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়।



