স্থানীয় সংবাদ

খুলনা বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ২৪৬ রোগী ভর্তি

স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনা বিভাগে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে নতুন করে ২৪৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তবে এ সময়ে ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। খুলনা বিভাগীয় পরিচালকের (স্বাস্থ্য) দপ্তরের ১ সেপ্টেম্বর পরিচালক ডা:শেখ মো: মোশাররফ হোসেন স্বাক্ষরিত ডেঙ্গু রোগীর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হওয়া ২৪৬ রোগীর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ২০৯ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে ৩৭ জন ভর্তি হয়েছেন।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ৬ হাজার ৯৪ জন। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৭ জন, খুলনায় ২ জন এবং বাগেরহাটে একজনের মৃত্যু হয়৷ একই সময়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫ হাজার ১৮৮ জন। এছাড়া ১৫১ জন রোগীকে অন্যত্র রেফার্ড করা হয়েছে।
বর্তমানে খুলনা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৭৩৫ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জেলা ভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন খুলনা জেলায়Ñ১১৬ জন। এর মধ্যে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৬ জন। খুলনা জেলায় চলতি বছরে এ পর্যন্ত মোট ২ হাজার ১৩৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৬৮ জন।
এ ছাড়া বাগেরহাটে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৬ জন, সাতক্ষীরায় ৯ জন, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১ জন, যশোরে ২৩ জন, ঝিনাইদহে ৭ জন, মাগুরায় ৩ জন, নড়াইলে ৭ জন, কুষ্টিয়ায় ৫ জন, চুয়াডাঙ্গায় কোনো রোগী ভর্তি হননি এবং মেহেরপুরে ৩ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই বর্তমানে ১৮১ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ হাসপাতালে চলতি বছরে এ পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৪৩৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১৭ জনের৷
স্বাস্থ্য বিভাগের এ পরিসংখ্যান বলছে, খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে খুলনা ও বাগেরহাটে রোগীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং জ্বর হলে দ্রুত পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button