গত ৩ দিনে সুন্দরবনে ৫৯ অস্ত্রসহ ৫৪১ রাউন্ড গুলি উদ্ধার

# প্রেস বিফ্রিংয়ে র্যাবের ডিজি #
# পাঁচ জলদস্যু বাহিনীর ৫৯ সদস্যের আত্মসমর্পণ#
# দস্যুদের কঠোর হুঁশিয়ারি র্যাব ডিজির #
স্টাফ রিপোর্টার ঃ সুন্দরবনে সক্রিয় পাঁচটি জলদস্যু বাহিনীর ৫৯ সদস্যের আত্মসমর্পণের পর তাদের আস্তানা ও বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫৯টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৫৪১ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৪টি খালি কার্তুজ ও সাতটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় র্যাব-৬-এর সদর দপ্তরে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান র্যাব ফোর্সেসের মহাপরিচালক মো. আহসান হাবীব পলাশ, বিপিএম-সেবা।
র্যাব মহাপরিচালক বলেন, “ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনভূমি। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের প্রায় ২৫ লাখ মানুষের জীবিকার অন্যতম প্রধান অবলম্বন এই বন।”
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবন ও সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় জলদস্যু ও বনদস্যুদের তৎপরতায় জেলে, বনজীবীসহ সুন্দরবননির্ভর মানুষ জিম্মি, নির্যাতন ও অবৈধ চাঁদাবাজির শিকার হয়ে আসছিলেন। সুন্দরবনকে জলদস্যু ও বনদস্যুমুক্ত করতে র্যাব, কোস্ট গার্ড, স্থানীয় প্রশাসন, নৌ-পুলিশ ও বন বিভাগের সমন্বয়ে ‘অপারেশন রি-স্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ নামে বিশেষ অভিযান চলছে।
র্যাব ডিজি জানান, গত ২ মার্চ থেকে দস্যুমুক্ত ও নিরাপদ সুন্দরবন নিশ্চিত করতে ধারাবাহিক অভিযান শুরু করে র্যাব। অভিযানের প্রভাবে সুন্দরবনের প্রতিকূল পরিবেশ ও অপরাধমূলক জীবনের অনিশ্চয়তা থেকে বেরিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেন বিভিন্ন দস্যু বাহিনীর সদস্যরা।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩১ আগস্ট সুন্দরবনে সক্রিয় পাঁচটি জলদস্যু বাহিনীর মোট ৫৯ সদস্য র্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ১৬ জন, আনারুল বাহিনীর ১৩ জন, আফজাল ওরফে দুলাভাই বাহিনীর ১৫ জন, আফতাব বাহিনীর আটজন এবং মিজান বাহিনীর সাতজন রয়েছেন।
আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে যথাসময়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানায় র্যাব।
অন্যদিকে আত্মসমর্পণের পরও সুন্দরবনে অভিযান অব্যাহত রেখেছে র্যাব। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত তিন দিনে বনের বিভিন্ন এলাকায় কয়েকটি চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে চারটি শর্টগান, ৪৭টি ওয়ান শুটারগান, চারটি পাইপগান, তিনটি এয়ারগান ও একটি পয়েন্ট ২২ বোর রাইফেল উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া ৫৪১ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৪টি খালি কার্তুজ ও সাতটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে।
সুন্দরবনে বন্যপ্রাণীর প্রজনন ও বিচরণ নির্বিঘœ রাখা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে গত ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তিন মাস পর্যটক ও বনজীবীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল। নিষেধাজ্ঞা শেষে ১ সেপ্টেম্বর থেকে প্রযোজ্য বিধিবিধান ও অনুমতি সাপেক্ষে সুন্দরবন আবারও পর্যটক ও বনজীবীদের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে।
বন উন্মুক্ত হওয়ার ঠিক আগের দিন পাঁচটি জলদস্যু বাহিনীর ৫৯ সদস্যের আত্মসমর্পণ এবং বিপুল অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধারের ঘটনাকে সুন্দরবনের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছে র্যাব। এতে বনজীবীদের নিরাপদে জীবিকা নির্বাহ, পর্যটকদের নিরাপদ চলাচল এবং সুন্দরবনকেন্দ্রিক স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকা-ে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছে সংস্থাটি।
র্যাব মহাপরিচালক বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শুধু অপরাধ দমনই করে না, অপরাধীদের আলোর পথে ফিরিয়ে আনতেও মানবিক ভূমিকা পালন করে।”
সুন্দরবনে এখনো যারা দস্যুতার সঙ্গে জড়িত, তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “দস্যুতার পথ ছেড়ে আলোর পথে ফিরে আসতে হবে। আত্মসমর্পণ করে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এলে সর্বোচ্চ সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।” তবে দস্যুতার কর্মকা- অব্যাহত রাখলে কঠোর আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে বলেও সতর্ক করেন র্যাব ডিজি।
তিনি বলেন, “সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখা এবং উপকূলীয় অঞ্চলের মেহনতি মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র্যাবের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে।” সুন্দরবনের নিরাপত্তা, বনজীবীদের জীবন ও জীবিকার সুরক্ষা এবং দেশের অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে র্যাব সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান র্যাব ফোর্সেসের মহাপরিচালক মো. আহসান হাবীব পলাশ।



