অবহেলিত একটি জনপদের নাম কয়রা-( ৮)

# পানি নিষ্কাশনের স্লুুইস গেটগুলো অকেজো ও ঝুঁকিপুর্ণ
# চাষাবাদ নিয়ে চিন্তিত কৃষকরা #
রিয়াছাদ আলী, কয়রা (খুলনা) ঃ উপকুলীয় অঞ্চল খুলনার সুন্দরবন-সংলগ্ন কয়রা উপজেলার কয়েকটি স্লুইসগেট এখন আর কাজে আসছে না। আর কিছু স্লুইসগেট ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে স্লুইসগেটগুলোর পানি নিস্কাশনের পাটগুলো একেবারেই ওঠানো-নামানো যায় না। ফলে লোনাপানি থেকে ফসল রক্ষা, মিঠাপানি ধরে রাখা ও খালগুলোয় পানির প্রবাহ স্বাভাবিক রাখার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে ঝুঁকিপুর্ন স্লুইস গেইটগুলো দির্ঘদিন সংস্কার না করায় পানি নিষ্কাশনে বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে। যে কারনে সব সময় চাষাবাদ নিয়ে সংকিত থাকে কৃষকরা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবোর) সূত্রে জানা যায়, কয়রা উপজেলার কপোতাক্ষ, শাকবাড়িয়া ও কয়রা নদীর তীরবর্তী এলাকায় প্রায় ১৫৫ কিলোমিটার বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ রয়েছে। বাঁধের ভেতরের এলাকা ও আবাদি জমিতে বর্ষায় জমে থাকা অতিরিক্ত পানি অপসারণ ও লোনাপানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের জন্য নদীর তীরবর্তী স্থানে ছোট-বড় মিলিয়ে ২৭টি স্লুইসগেট নির্মাণ করা হয়। ষাটের দশকে স্লুইসগেটগুলো নির্মিত হলেও এগুলো আর মেরামত করা হয়নি। এ কারণে ৫টি স্লুইসগেট একেবারেই অকেজো রয়েছে এবং ১৫টি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া সচল স্লুইসগেটের খালে একাধিক বাঁধ দিয়ে স্থানীয় ব্যক্তিরা মাছ চাষ করছেন। এতে খালের পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তালিকা অনুযায়ী, দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নের হাজতখালী, কয়রা সদর ইউনিয়নের ওড়াতলা, আমাদী ইউনিয়নের নাকশা ও ঘোপেরখাল, মহারাজপুর ইউনিয়নের পবনা এলাকার স্লুইসগেট একেবারেই অকেজো পড়ে আছে।এ ছাড়া মসজিদ কুড়, আমাদী, গিলাবাড়ি, খোড়লকাঠি, শালুকখালী, হোগলা, শেওড়া, বাগালী, নারায়ণপুর, গোবিন্দপুর, সুতিয়া বাজার, দুই নম্বর কয়রা, গড়িয়াবাড়ী, আংটিহারা ও পদ্মপুকুর এলাকার স্লুইসগেট জরাজীর্ণ হয়ে গেছে। কয়রা সদর ইউনিয়নের গোবরা গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কয়রার ওড়াতোলা খাল ও কপোতাক্ষ নদের মুখের স্লুইসগেটটি একেবারেই অকেজো হয়ে পড়ে আছে, গত ৭/৮ বছরে এটি আর পানি নিষ্কাশন হয় না। তিনি ওড়াতোলা স্লুইস গেইটটি সংস্কারের দাবি জানান। এদিকে কয়রার উত্তর বেদকাশীর হাজতখালী এলাকায় গিয়ে স্লুইসগেটের কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। উপজেলার কয়েকটি খালের স্লুইসগেট সচল রয়েছে। তবে এ সব খালে বাঁধ দিয়ে স্থানীয় লোকজন মাছ চাষ করছেন। এতে খালের পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ থাকায় অনেক এলাকায় জলবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। উপজেলার ৬নং কয়রা গ্রামের কৃষক শেখ কওছার আলম বলেন, ‘আমন আবাদের মৌসুম চলছে। এবার বৃষ্টি বেশি। পাশের গড়িয়াবাড়ী এলাকার স্লুইসগেটের জরাজীর্ণ হওয়ার কারণে খালে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনে বাঁধা গ্রস্ত হয়ে থাকে। এ ছাড়া গেইটের পাশে ধব্স নিয়েছে। দ্রুতগতিকে স্লুইসগেট সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি। পাউবোর উপ সহকারি প্রকৌশলী মোঃ মশিউল আবেদীন বলেন, কয়রার অকেজো স্লুইস গেইট সংস্কারের বিষয়টি উধর্তন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। অতি ঝুকিপুর্ন হলে জরুরী ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। কয়রা উপজেলা কৃষি অফিসার তীলক কুমার ঘোষ বলেন, কয়রার অনেক স্লুইসগেট বিকল হয়ে গেছে। আবার অনেক খালে মিষ্টি পানিও সংরক্ষণ করে রাখা যায় না। স্লুইসগেটগুলো জরুরি সংস্কার বা মেরামত করা প্রয়োজন। পানি নিষ্কাশনের পথ সুগম হলে কৃষকরা ভালভাবে ফসল উৎপাদন করতে পারবে। পাউবো খুলনার-২ নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জহির মাজহার বলেন, ‘যে সকল স্লুইসগেটগুলো সংস্কার করলে সচল হবে, সেগুলো আমরা প্রস্তাবনা আকারে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরন করবো। বাজেট বরাদ্দ পেলেই তার কার্যক্রম শুরু করা হবে।



