চুরির অপবাদে মারধর : চিকিৎসাধীন যুবকের মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনায় চুরির অপবাদ দিয়ে মারধরের অভিযোগে চিকিৎসাধীন সাজমীর (২২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। ৬ সেপ্টেম্বর গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত সাজমীর আড়ংঘাটা থানার তেলিগাতি-বুচিতলা এলাকার রুহুল কুদ্দুসের ছেলে। স্বজনদের অভিযোগ, চুরির অপবাদ দিয়ে তাঁকে ধরে নিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। ঘটনাটি আড়ংঘাটার বুচিতলা বিল এলাকায় ঘটেছে বলে তাঁরা দাবি করেছেন।
নিহতের মা জানান, ঘটনার পর তাঁকে ফোন করে বলা হয়, তাঁর ছেলে টাকা নিয়েছে। টাকা না দিলে তাঁকে ছাড়া হবে না বলেও জানানো হয়। তবে তাঁর দাবি, সাজমীর কোনো টাকা চুরি করেনি। গত এক বছর ধরে ছেলে বিভিন্ন দোকানে কাজ করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, সাজমীর ১০ টাকা নিয়েছে এমন কথাও কেউ বলতে পারবে না।
নিহতের মামা মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, কুয়েটের এক ছাত্র সাজমীরকে তাঁর বাসায় নিয়ে যান। সেখানে চুরির অভিযোগ তুলে ওই ছাত্র বাইরের কয়েকজনকে নিয়ে তাঁকে ধরে বাসায় নিয়ে যান। পরে লাঠি ও দা দিয়ে তাঁকে মারধর এবং মাটিতে ফেলে পেটানো হয়।
আড়ংঘাটা থানার ওসি মো. হালিমুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থল খানজাহান আলী থানার এলাকায়। বিষয়টি নিয়ে ওই থানা ব্যবস্থা নিচ্ছে।
খানজাহান আলী থানার ওসি মো. আবুল বাশার বলেন, সাজমীরের মৃত্যুর খবর পেয়ে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে তাঁকে কোথা থেকে ধরে আনা হয়েছিল, আড়ংঘাটা নাকি খানজাহান আলী থানা এলাকা, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা খোঁজখবর নিচ্ছেন। ওসি আরও বলেন, কী কারণে সাজমীরের মৃত্যু হয়েছে, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। তাঁকে মারধরের কারণে মৃত্যু হয়েছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে। তাঁর কিডনি রোগ ছিল বলেও একটি তথ্য পাওয়া গেছে। হাসপাতালের ডেথ সার্টিফিকেটে শারীরিক নির্যাতনের কথা উল্লেখ আছে কি না, সেটিও পুলিশ এখনও পায়নি। মৃত্যুর পর সাজমীরের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়। এ সময় মা ও স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে হাসপাতাল চত্বর।



