স্থানীয় সংবাদ

দৌলতপুরে দিনমজুর ছেলে হত্যাকা-ের মামলার বাদী হলেন ‘বাবা’ : আটক নেই

# ৩ এজাহার নামীয়সহ অজ্ঞাতনামা আসামীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা
# পুলিশ বলছে : মামলা তদন্তনাধীন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে আমরা কাজ করছি #

স্টাফ রিপোর্টার : খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর থানা মোড়স্থ ইস্পাহানী জুট প্রেস কলোনী এলাকার বাসিন্দা ও মুদি ব্যবসায়ী দেলোয়ার মুন্সি (দিলুর) ছেলে জলিল মুন্সির হত্যাকা-ের ঘটনায় নিহতের পিতা বাদী হয়ে রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তিন এজাহারনামীয়সহ অজ্ঞাতনামা আসামীর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন (মামলা নং- ৯, তাং- ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং)। মামলার এজাহারনামীয় আসামীর হলেন- দৌলতপুর থানাধীন পালপাড়া এলাকার বাসিন্দা ১. রাসেল@ পেঁচি রাসেল (২৮), ২. দৌলতপুর থানাধীন মহেশ্বরপাশা ঘোষপাড়া এলাকার বাসিন্দা আসিফ মোল্লা (২৬) ও দৌলতপুর থানাধীন আসাদের মোড় এলাকার বাসিন্দা আমিনুল (২৫)। সংশ্লিষ্টদের তথ্যসূত্রে জানা যায়, পাট শ্রমিক জলিল মুন্সি হত্যাকা-ের এজাহারনামীয় আসামী রাসেল @ পেঁচি রাসেলের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে বিভিন্ন থানায় হত্যাসহ নানামুখি অপরাধে ৭ টি মামলা ও এজাহারনামীয় আসামী আসিফ মোাল্লার বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে বিভিন্ন থানায় হত্যাসহ নানামুখি বিভিন্ন অপরাধে ৬ মামলা রয়েছে। এ রিপোর্টার লেখা পর্যন্ত এ হত্যাকা-ে জড়িত এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার নেই, বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই কাওসার।
পুলিশ বলছে, দৌলতপুর ইস্পাহানী জুট প্রেস কলোনী এলাকার বাসিন্দা পাট শ্রমিক জলিল হত্যাকা-ের ঘটনায় ইতোমধ্যে নিহতের পিতা বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় তিন এজাহারনামীয়সহ অজ্ঞাতনামা আসামীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ইতোমধ্যে সিসিটিভি ফুটেজ, আলামত, তথ্য-প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের মাধ্যমে হত্যাকা-ের রহস্য উৎঘটনে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে মামলার তদন্তের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া খুনের ঘটনায় জড়িতের গ্রেপ্তারে পুলিশসহ বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য কাজ করেছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে খুনের প্রকৃত কারণ, রহস্য উৎঘটন ও জড়িতদের শণাক্ত, আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হবে পুলিশ।
নিহতের পরিবারের দাবি, সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত জলিল একজন সাধারন পাট শ্রমিক। নিহত জলিল বা পরিবারের সাথে কারোও পূর্বের কোনো শত্রুতা নেই ছিল না। তবে সম্প্রতি ৩/৪ দিন ধরে জলিলের ফোনে কোনো একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে কে বা কারা তাকে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। খুনের ঘটনায় জড়িতরা কোনো একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে জলিলকে ঘর হতে ডেকে নিয়ে এ খুনের ঘটনা ঘটিয়েছে। শোকাহত পরিবার এ হত্যাকা-ের সুষ্ঠু তদন্ত, খুনিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে নিহতের পিতা ও মামলার বাদী দেলোয়ার মুন্সি জানান, আমি প্রায় ৫০ বছরের উর্ধ্বে এই এলাকায় সবার সাথে মিলে মিশে বসবাস করছি। আমার জানা মতে, আমার বা আমার পরিবারের সাথে কারো শক্রতা নেই। জলিল আমার ৫ সন্তানের মধ্যে একমাত্র পুত্র সন্তান। ওর দুটি সন্তানসহ সকলকে নিয়ে আমি সুখে শান্তিতে বসবাস করছি। জলিল পাট শ্রমিক হিসাবে ইস্পাহানী জুটে কাজ করে আসছে। এলাকার সবার সাথে মিলে মিশে চলে সে। খুনিরা আমার সন্তানকে খুন করে দুটি বাচ্চাকে এতিম করে দিলো, আমাদের সন্তান হারা করলো। থানায় মামলা করেছি। আমার আদরের সন্তানকে কি কারণে হত্যা করা হলো জানতে চাই। প্রকৃত তদন্তপূর্বক খুনিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবিও জানান তিনি।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই কাউসার মাহমুদ জানান, দৌলতপুর ইস্পাহানী জুট প্রেস কলোনী এলাকায় যুবক খুনের ঘটনায় নিহতের পিতা বাদী হয়ে এহাজারনামীয়সহ অজ্ঞাতনামা আসামীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার তদন্তের কার্যক্রম চলমান রয়েছে, আসামী গ্রেপ্তারেও অভিযান চলছে। এ বিষয়ে দৌলতপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুঃ মোরাদুল ইসলাম জানান, দৌলতপুর ইস্পাহানী জুট প্রেস কলোনী এলাকায় খুনের ঘটনায় নিহতের পিতা তিন এজাহারনামীয়সহ অজ্ঞাতনামা আসামীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন। বিভিন্ন বিষয়কে সামনে নিয়ে আমরা তদন্তের কার্যক্রম চলমান রেখেছি। পাশাপাশি জড়িতদের গ্রেপ্তারেও আমাদের একাধীক টিম কাজ করছে। আশাবাদী দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যাকা-ের প্রকৃত রহস্য উৎঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে সক্ষম হবে পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত ১২ সেপ্টেম্বর (শনিবার) আনুমানিক ৮ টার দিকে নিহত জলিল দৌলতপুর থানার মোড়স্থ ইস্পাহানী জুট প্রেস কলোনী (কুলিবাগান) এলাকার খুলনা-যশোর সড়কের পূর্বপাশে রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে ছিলেন। এসময় মোটর সাইকেলযোগে আসা দুবর্ৃৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে পালিয়ে যায়। দুর্বৃত্তদের ছোঁড়াগুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন, তাৎক্ষনিক স্থানীয়রা ও পুলিশ ঘটনাস্থল হতে গুলিবিদ্ধ যুবককে উদ্ধার করে খুমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষনা করে। প্রাথমিক সুরাতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। একই দিন বাদ মাগরিব ইস্পাহানী কলোনী জামে মসজিদ কমপ্লেক্সের সামনে নিহতের জানাযা নামাজ শেষে সরকারি মহেশ^রপাশা (সাড়াডাঙ্গা) কবরখানায় দাফন সম্পন্ন হয়। পাট শ্রমিক জলিলের হত্যাকা-ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই এলাকার সর্বত্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button