ইরানের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে চীনের সঙ্গে বৈঠকে বসবে যুক্তরাষ্ট্র

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং চীনের সঙ্গে তেহরানের আর্থিক সম্পর্কসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক বিষয়ে আলোচনা করতে চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে চীনের উপ-প্রধানমন্ত্রী হি লিফেংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মার্কিন কংগ্রেসের হাউস ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস কমিটির শুনানিতে বেসেন্ট জানান, ইরান যাতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যেতে না পারে, সে বিষয়ে চীনের সঙ্গে ইতোমধ্যে ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা হয়েছে। আসন্ন বৈঠকে সেই আলোচনা আরও এগিয়ে নেওয়া হবে। বেসেন্ট বলেন, ‘চীনের সঙ্গে আমরা বেশ কিছু ভালো ব্যক্তিগত আলোচনা করেছি। চলতি সপ্তাহের শেষে আমার চীনা প্রতিপক্ষ হি লিফেংয়ের সঙ্গে বৈঠকে সেই আলোচনা অব্যাহত থাকবে।’ তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে চীনের আর্থিক সম্পর্ক নিয়েও ওয়াশিংটন বেইজিংয়ের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে পশ্চিমা আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এর মধ্যে তিনটি ব্যাংকও রয়েছে। পাশাপাশি ইরানের তেল বিক্রি এবং নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তাকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও নেটওয়ার্ককে লক্ষ্য করে আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগে বেসেন্ট ও হি লিফেংয়ের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। তবে বৈঠকের স্থান ও নির্দিষ্ট সময় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। একটি সূত্র জানিয়েছে, ইরান ইস্যুর পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়েও দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা হতে পারে। তবে বৈঠকের পূর্ণাঙ্গ আলোচ্যসূচি সম্পর্কে বেসেন্ট বিস্তারিত কিছু জানাননি। এর আগে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ ঘোষণার কথা বলেছিলেন বেসেন্ট। তেহরানকে অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতে ওয়াশিংটন আরও কঠোর পদক্ষেপ নেবে বলেও সতর্ক করেছিলেন তিনি। চীন ইরানের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক অংশীদার। দেশটি ইরানের তেলের বড় ক্রেতা। একই সঙ্গে কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে চীনকে দেখা হয়। ফলে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে বেইজিংয়ের সহযোগিতা পাওয়ার বিষয়টি ওয়াশিংটনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: রয়টার্স।



