সম্পাদকীয়

নারী শ্রমিকদের বিদেশযাত্রায় নিরাপত্তা চাই

নারী শ্রমিকদের বিদেশ যাওয়ার হার বেড়েছেÑএই খবর যেমন ইতিবাচক; একই সঙ্গে উদ্বিগ্ন হতে হয়, যখন দেখা যায় প্রতিবছর অন্তত ১০০ নারী বিদেশ থেকে কফিনবন্দি হয়ে দেশে ফেরেন। নারী শ্রমিকদের বিদেশে হাড়ভাঙা খাটুনির কারণে দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হয়। অথচ পরিতাপের বিষয় , বিদেশে কর্মরত নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়নি। দেশের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকার খবরে দেখা যায়, বিদেশে কর্মরত নারীদের মধ্যে বেশির ভাগই মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকেন। এ ছাড়া মজুরি বঞ্চনা, অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা, পাসপোর্ট আটকে রাখা ও গৃহবন্দি করে রাখার মতো বহু অভিযোগ রয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্যের বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়, ২০২৫ সালে ৬২ হাজার ৩১৭ জন নারী কর্মী বিদেশে গেছেন। আর ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় পাঁচ হাজার ২১৪ জন বা প্রায় ১৪ শতাংশ বেশি নারীকর্মী বিদেশে গেছেন। অর্থাৎ অল্প সময়ের ব্যবধানে নতুন শ্রমবাজারে নারী শ্রমিক যাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি জাতীয় সংসদেও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তিন লাখের বেশি নারী কর্মীর বিদেশ যাওয়ার তথ্য উল্লেখ করে তাঁদের নিরাপত্তাহীনতা, মজুরি বঞ্চনা ও চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি সংসদে অভিযোগ করেন, গত আট বছরে প্রায় ৮০০ নারী কর্মীর মরদেহ দেশে ফিরেছে। আমাদের বাস্তবতা হলো, বেশির ভাগ নারী গৃহকর্মী হিসেবে বিদেশ যান। তাঁদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, ভাষাজ্ঞান, চাকরির চুক্তিপত্রের তথ্য থাকে না। ফলে বিদেশের মাটিতে তাঁরা অথৈ সাগরে পড়েন। এদিকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেন, বিদেশে কর্মরত নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তায় সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। ১৬১৩৫ নম্বরে টোল-ফ্রি হটলাইন চালু রয়েছে। দেশের বাইরে থেকেও কর্মীরা সেখানে অভিযোগ জানাতে পারেন। অভিযোগ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং দূতাবাসগুলো সহায়তা করে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনির বলেন, বিদেশে কর্মক্ষেত্রের প্রতিযোগিতার জন্য নারীরা যথাযথভাবে প্রস্তুত নন। দক্ষতার ঘাটতির কারণে তাঁদের বড় অংশ গৃহকর্মী বা অনানুষ্ঠানিক কাজে আটকে থাকেন। তাই বিদেশ যাওয়ার আগে ভাষা, কাজের দক্ষতা ও গন্তব্য দেশের আইন সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি। আমরাও মনে করি, নারী কর্মীদের বিদেশ পাঠানোর আগে তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ভাবা প্রয়োজন। তারা যেন নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে পারেন সেই ব্যবস্থা থাকা দরকার। একই সঙ্গে এই খাতে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button