দুই সেনাপ্রধানসহ ১৩ সাবেক সেনা কর্মকর্তা এখন দুদকের জালে

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ সাবেক সেনাপ্রধান এসএম শফিউদ্দিন আহমেদকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আগামি ১৪ অক্টোবর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা রয়েছে। এর আগে তাকে হাজির হওয়ার জন্য একবার তলবি নোটিশ পাঠিয়েছিলো সংস্থাটি। ওই নোটিশ অনুযায়ী গত ১৪ সেপ্টেম্বর তার জিজ্ঞাসাবাদের মুখেমুখি হওয়ার কথা । পরে ওইদিন তার পক্ষ থেকে ৩০ দিন সময় চেয়ে আবেদন করা হয়। ফলে অক্টোবরের মধ্যবর্তী যেকোনো দিন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে-মর্মে জানিয়েছে সংস্থাটির অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট শাখা। ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে এই অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। এদিকে দুদক সূত্র জানিয়েছে, শুধু সাবেক সেনাপ্রধান এসএম শফিউদ্দিনই নন। সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব: ) আজিজ আহমেদ ভুইয়ার দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীও যাচাই করছে সংস্থাটি। গত ৬ সেপ্টেম্বর অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগের তথ্য জানানো হয়। এর আগে আজিজ আহমেদের সর্বশেষ ঠিকানা- বাড়ি নং-১৩২০, রোড নম্বর-১৯, এমিলিয়া-২, মিরপুর ডিওএইচএস, পল্লবী, ঢাকা-১২১৬ বরাবর সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ পাঠায় দুদক। এ প্রেক্ষিতে তিনি সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন। দাখিলকৃত বিবরণীতে উল্লেখিত সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত যাচাই ও অনুসন্ধানের জন্যই এই কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। আজিজ আহমেদ ও তার স্ত্রী দিলশাদ নাহার কাকলীর দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীও যাচাই হচ্ছে। এই দম্পতির বিরুদ্ধে ব্যাঙ্ক ও হুন্ডির মাধ্যমে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও দুবাইয়ে অর্থ পাচার করে ব্যবসা ও সম্পত্তি কেনার অভিযোগও অনুসন্ধানাধীন। হাসিনার ফ্যাসিবাদের দোসর সাবেক দুই সেনাপ্রধান ছাড়াও গুম-খুনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরো ১১ সামরিক কর্মকর্তার দুর্নীতি, অর্জিত অবৈধ সম্পদ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থ পাচারের অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। এরই মধ্যে এদের কয়েক জনের বিরুদ্ধে দুদক মামলাও দায়ের করেছে। তদন্ত প্রক্রিয়ায় তাদের অ্যাকাউন্ট জব্দ, সম্পত্তি ক্রোক ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এ তালিকায় রয়েছেন তৎকালিন বিমান বাহিনী প্রধান এয়ারভাইস মার্শাল (অব.) শেখ আব্দুল হান্নান, ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) তৎকালিন মহাপরিচালক ( বরখাস্তকৃত) মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা-এনএসআই’র তৎকালিন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল টিএম জোবায়ের, ডিরেক্টর জনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্সের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাইফুল আলম এবং লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ, স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সেস (এসএসএফ) এর সাবেক প্রধান লে: জে: (অব.) মো: মজিবুর রহমান, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সাবেক প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) মো: সাফিনুল ইসলাম, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এম. সিদ্দিকুর রহমান সরকার, মেজর জেনারেল (অব.) সালাহউদ্দিন মিয়াজী এবং লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। এদের মধ্যে এসএসএফ’র সাবেক প্রধান মজিবুর রহমান ও তার স্ত্রী তাসরিন মুজিবের বিরুদ্ধে যথাক্রমে ২ কোটি ৭১ লাখ টাকা এবং ৭ কোটি ৫২ লাখ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। শেখ মামুন খালেদের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা, স্ত্রী নিগার সুলতানা এবং শ্যালক আমিনুর রহমানের বিরুদ্ধে ৮ কোট ৪ লাখ ৫৯ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পৃথক তিনটি মামলা করা হয়েছে। চব্বিশের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর তার ফ্যাসিজমের দোসর এসব সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। বিগত কমিশন তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে। বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামানের কমিশন এখন তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে। দুদক সচিব সাইদুর রহমান খান জানান, কমিশন সাবেক সামরিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত দ্রুত সম্পন্নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।



