বাড়ি ফেরার পথে স্কুলছাত্রীকে বখাটের মারধর, পড়ে গেছে ৩ দাঁত

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ বরগুনায় স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে নিষ্ঠুর ভাবে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে ফয়সাল নামে এক বখাটের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর মুখের সামনের তিনটি দাঁত পড়ে গেছে। এছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার আরও দুটি দাঁত। বর্তমানে ওই শিক্ষার্থী আহত অবস্থায় বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে বেতাগী উপজেলার সড়িষামুড়ি ইউনিয়নের গাবতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত ফয়সালের মা মোসা. শিরিন বেগমকে আটক করেছে পুলিশ।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন আগে ওই শিক্ষার্থী ওয়াশ রুমে গেলে বখাটে ফয়সাল সেখানে উঁকি দেয়। এ সময় শিক্ষার্থী বিষয়টি টের পেলে এবং দেখে ফেললে দ্রুত সটকে পড়ে ফয়সাল। এরপর ঘটনাটি স্বজনদের জানায় সে। পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই শিক্ষার্থীকে মারধরের হুমকি দেয় অভিযুক্ত ফয়সাল। এতে ভয়ে আজ সোমবার ওই শিক্ষার্থীকে স্কুলেও পাঠায়নি তার মা। পরবর্তীতে বাড়িতে গিয়ে তার এক স্কুল শিক্ষক তাকে স্কুলে নিয়ে আসেন।
এরপর বিকেল চারটার দিকে স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফেরার সময় স্কুল প্রাঙ্গণে ফয়সাল তাকে মারধর করেন। এতে ওই শিক্ষার্থীর মুখের সামনের তিনটি দাঁত পড়ে যায়। এ ছাড়াও তার আরও দুইটি দাঁত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে স্কুলের শিক্ষক ও স্বজনরা আহত অবস্থায় ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর মা বলেন, ফয়সালের ভয়ে সকালে আমার মেয়েকে ঘরে আটকে রেখেছি। আমিও পালিয়ে থেকেছি। আমরা মেয়ে স্কুলের এক শিক্ষককে বিষয়টি মোবাইল ফোনে জানালে ওই শিক্ষক স্কুলের কয়েকজন ছাত্রকে নিয়ে এসে তাকে স্কুলে নিয়ে যায়। এরপর স্কুল ছুটি হলে বাসায় আসার সময় ফয়সাল আমার মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রথমে হাত ধরে টানাটানি শুরু করে। তবে তার কথায় রাজি না হলে একপর্যায়ে ফয়সাল আমার মেয়ের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় চর ও লাথি দিতে শুরু করে। মুখে লাথি দেওয়ায় আমার মেয়ের তিনটি দাঁত পড়ে যায়। খবর শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্কুলের শিক্ষকদের সহযোগিতায় মেয়েকে হাসপাতালে নিয়ে এসে ভর্তি করেছি।
গাবতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ননী গোপাল মালাকার বলেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী এবং অভিযুক্ত ফয়সালের বাড়ি আমাদের স্কুলের কাছাকাছি। স্কুল চলাকালীন ফয়সাল স্কুল এলাকায় লাঠিসহ কয়েকবার ঘোরাঘুরি করেছে, কিন্তু বিষয়টি আমরা কেউ দেখিনি। স্কুল ছুটি হলে ওই শিক্ষার্থী যখন বাড়ি যাওয়া শুরু করে তখন ফয়সাল তাকে স্কুল বাউন্ডারিতেই মারধর শুরু করে। এ সময় আমরা স্কুল বন্ধ করেছিলাম। তবে স্কুলের অন্য সহপাঠীরা তার সঙ্গে ছিল। বিষয়টি টের পেয়ে আমরা পুলিশকে খবর দিয়ে আহত অবস্থায় ওই শিক্ষার্থীকে বরগুনা হাসপাতালে নিয়ে এসেছি।
এ বিষয়ে বেতাগী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হারুন-অর-রশীদ হাওলাদার বলেন, এ ঘটনায় অভিযুক্ত ফয়সালের মাকে আটক করা হয়েছে এবং ফয়সালকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে অভিযুক্ত ফয়সাল বাক প্রতিবন্ধী বলেও জানান তিনি।



