জাতীয় সংবাদ

মিড ডে মিল খেয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে ৩ স্কুলের ৩৪ শিক্ষার্থী হাসপাতালে

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে মিড ডে মিলে দেওয়া প্যাকেটজাত দুধ খেয়ে তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩৪ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার মধুপুর (১), মধ্য গোয়ালকারী ও তুলশীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। অসুস্থ শিক্ষার্থীদের পেটে ব্যথা ও বমির উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে মধুপুর (১) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩০ জন, মধ্য গোয়ালকারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩ জন এবং তুলশীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ জন শিক্ষার্থীকে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, দুধের স্বাদ তিতা ছিল এবং কোনো কোনো প্যাকেটে দুর্গন্ধও পাওয়া গেছে। দুধ খাওয়ার পরই শিক্ষার্থীদের পেটে ব্যথা ও বমি শুরু হয় বলে জানান তারা। তবে দুধ নষ্ট ছিল কি না, তা পরীক্ষা করার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। মধুপুর (১) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার বলে, দুধ খাওয়ার পর কয়েকজনের পেটে ব্যথা শুরু হয় এবং কেউ কেউ স্কুলেই বমি করে। তার দাবি, দুধের স্বাদ তিতা ছিল। বিষয়টি শিক্ষককে জানানো হলেও দুধ খেতে বলা হয়েছিল বলে অভিযোগ তার। একই বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী শামীম হাসান বলেন, দুধ খাওয়ার পর থেকেই তার পেটে ব্যথা শুরু হয়েছে এবং বমি বমি ভাব হচ্ছে। মধ্য গোয়ালকারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী মনিকা দেবনাথের বাবা মানিক দেবনাথ বলেন, মেয়ের পেটে ব্যথা শুরু হলে প্রথমে তাকে বাড়িতে নেওয়া হয়। পরে ব্যথা না কমায় হাসপাতালে নিয়ে আসেন তিনি। অভিভাবকদের কেউ কেউ অভিযোগ করেন, দুধ বিতরণের আগে এর মান বা স্বাভাবিকতা যাচাই করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তারা ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। মধুপুর (১) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল্লাহিল সাফি বলেন, ঘটনার সময় তিনি ছুটিতে ছিলেন এবং দিনাজপুর যাচ্ছিলেন। খবর পেয়ে হাসপাতালে আসেন। ওই সময় সহকারী শিক্ষক ফেরদৌসী বেগম দায়িত্বে ছিলেন। প্যাকেটের ভেতরে থাকায় দুধের কোনো সমস্যা আগে থেকে বোঝা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি। বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. নিশাত রায় বলেন, বিকেল ৩টা পর্যন্ত ৩৪ শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন বমি করেছে এবং অনেকে পেটে ব্যথার কথা জানিয়েছে। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে খাবারজনিত কারণে অসুস্থতার আশঙ্কা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে; তবে দুধই এর কারণ কি না, তা পরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিত করে বলা যাবে না। বর্তমানে সব শিক্ষার্থী আশঙ্কামুক্ত রয়েছে বলে জানান তিনি। ঘটনার খবর পেয়ে বিদ্যালয়গুলো পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার দাস, বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি বুলবুল ইসলাম ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অতুল চন্দ্র রায়। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অতুল চন্দ্র রায় বলেন, শিক্ষার্থীরা বর্তমানে ভালো আছে। কী কারণে তারা অসুস্থ হয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার দাস বলেন, মিড ডে মিলে দেওয়া অবশিষ্ট খাবার জব্দ করতে বলা হয়েছে। সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে জানা যাবে। বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্যাকেটজাত দুধ সরবরাহ করে রংপুর ডেইরি ফুড অ্যান্ড প্রাইভেট লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির সরবরাহকারী আবু রিয়াল বলেন, তারা আগের দিন দুধ সরবরাহ করেছেন। অন্যান্য বিদ্যালয়ে কোনো সমস্যা হওয়ার খবর তারা পাননি। তিনটি বিদ্যালয়ে এমন ঘটনা কেন ঘটেছে, তা তারা বুঝতে পারছেন না।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button