রূপসার বেলফুলিয়া হাই স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি নিয়ে আদালতে রিট

# নতুন কমিটির কার্যক্রমে তিন মাসের স্থগিতাদেশ #
স্টাফ রিপোর্টার ঃ রূপসা উপজেলার বেলফুলিয়া ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির পদ নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দাখিল করা হয়েছে। মঙ্গলবার শুনানী শেষে আদালত নতুন কমিটির কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিতাদেশ জারি করেছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন অত্র স্কুল কমিটির সভাপতি ও রীটের বাদী শেখ আাঃ রশিদ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, গত ৩০ আগস্ট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড যশোরের বিদ্যালয় পরিদর্শক মুঃ ্এনামুল কবীর স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে নতুন কমিটি গঠন করে চিঠি প্রেরণ করা হয়। ওই আদেশে বলা হয়, খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার বেলফুলিয়া ইসলামীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নিয়মিত পরিচালনা কমিটি গঠনের লক্ষে গত ২৯ মার্চ এডহক কমিটি পত্র ইস্যুর তারিখ হতে অনধিক ছয় মাসের জন্য অনুমোদন দেয়া হলো। কমিটির সভাপতি শেখ হাফিজুর রহমান, শিক্ষক সদস্য সরদার মামুনুল হক, অভিভাবক সদস্য শেখ মোতাহের হোসেন ও সদস্য সচিব স্কুলের প্রধান শিক্ষক মনিরুল ইসলাম ঢালী । তবে এ এডহক কমিটি অনুমোদন প্রসঙ্গের চিঠিতে সূত্র বলা হয়, প্রধান শিক্ষকের ১৪ মে অনলাইনে আবেদন (আইডি-৩৬৮৩১) প্রেক্ষিতে কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হলো প্রধান শিক্ষক মনিরুল ইসলাম ঢালী ১৪মে পাঠানো চিঠিতে নতুন সভাপতি শেখ হাফিজুর রহমানের নাম ছিল না। প্রশ্ন হলো কে তার নাম প্রস্তাব করে বোর্ডে পাঠিয়েছে। প্রধান শিক্ষক বলেন, একটি কমিটি চলমান রয়েছে। তার মেয়াদ শেষ না হতে কমিটি বাতিল করার কোন চিঠি না দিয়ে নতুন কমিটি কিভাবে অনুমোদন হলো তা বোধগম্য নয়। নতুন কমিটি স্বাক্ষরকারী বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক মুহাম্মদ এনামুল কবীর বলেন, নতুন কমিটির সভাপতি হাফিজুর রহমানের নামের তালিকা কেউ পাঠায়নি। বোর্ডের চেয়ারম্যান ক্ষমতাবলে তাকে সভাপতি করেছেন। ১৪মে প্রধান শিক্ষক কর্তৃক বোর্ডে কমিটির পাঠানো তালিকা হলো সভাপতি হিসেবে শেখ আঃ রশিদ, শেখ আনিসুর রহমান, নাজমুস সাকিব, শিক্ষক সদস্য মামুনুল হক অভিভাবক সদস্য মোতাহের হোসেন। সে তালিকা মতে, গত ৭ জুন আঃ রশিদকে সভাপতি করে স্কুল পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির মেয়াদও ছয় মাসের জন্য দেয়া হয়। সেমতে, মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা হচ্ছে আগামী ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত। কিন্তু তার আগেই কোন আইনে কিভাবে কমিটি বাতিল না করে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে-এ জিজ্ঞাসা স্কুলের অভিভাবক ও এলাকাবাসীর। জেলা শ্রমিকদলের সভাপতি উজ্জল কুমার সাহা বলেন, “আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আসামী করে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা দায়ের করে দুদক। ফ্যাসিস্ট সরকার ওই মামলার বাদী খুঁজে পাচ্ছিলেন না। ঠিক তখনই ফ্যাসিবাদের দালাল ২০০৮ সালে দুদক সাবেক উপ-পরিচালক শেখ সাইদুর রহমান (রূপসার উপজেলার বাসিন্দা) বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। ওই সাজানো মিথ্যা মামলায় ফ্যাসিস্ট সরকার বেগম খালেদা জিয়া ও প্রধানিমন্ত্রী তারেক রহমানকে সাজা দেয়। মামলার বাদী হওয়ার কারণে সাইদুর রহমান আ’লীগ সরকারের আমলে সর্বোচ্চ সুবিধা ও ক্ষমতার অপব্যব্হার করার সুযোগ পেয়েছেন। সেই সুযোগ ওই সময় কাজে লাগন শেখ হাফিজুর রহমান (নতুন কমিটির সভাপতি)। কারণ হাফিজুর রহমান তার ছোট ভাই। তিনি খুলনায় আ’লীগের সকল সুবিধা ভোগ করেছেন। তিনি ছিলেন আ’লীগের নিকট খুবই সমাদরের পাত্র। সেই আ’লীগের সুবিধাভোগী হাফিজুর রহমানকে সম্পূর্ণ অনিয়মতান্ত্রিকভাবে করা হলো বেলফুলিয়া ইসলামিয়া স্কুলের সভাপতি। আর বঞ্চিত করা হলো রূপসা উপজেলা ছাত্র দলের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক সভাপতি রাজপথের লড়–ক জিয়া সৈনিক, বর্তমানে জেলা বিএনপির সদস্য শেখ আঃ রশিদকে।” এ ঘটনায় স্কুলের নতুন কমিটি অবৈধ দাবি করে স্কুলের সভাপতি শেখ আঃ রশিদ মহামান্য হাই কোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করেন। যার নং-১৩৫৯৫/২৬। গতকাল হাই কোর্টে শুনানী শেষে শেখ হাফিজুর রহমানের গত ৩০/০৮/২৬ তারিখের যশোর বোর্ড কর্তৃক প্রেরিত পত্রের কার্যকারীতার উপর তিন মাসের জন্য স্থগিতাদেশ জারি করেন। একই সাথে উক্ত পত্র কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না -মর্মে রুল জারি করেছেন। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দাখিলের জন্য যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ চার বিবাদীকে নির্দেশনা প্রদান করেছেন। হাই কোর্টের বিচারক মোহাম্মদুল্লাহ ও বিচারক কাজী অলিউল ইসলাম’র বেঞ্চ এ আদেশ দেন।



