ইন্টার্নদের কর্মবিরতির পর খুমেকে মেডিসিন বিভাগের প্রধানের আদেশ স্থগিত

স্টাফ রিপোর্টার : খুলনা মেডিকেল কলেজের (খুমেক) মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক (চলতি দায়িত্ব) ডা. মো. জাহিরুল হককে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব দেওয়ার আদেশ স্থগিত করা হয়েছে। এর আগে ওই আদেশের প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে যান ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। পরে ডেঙ্গু রোগীসহ সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা বিবেচনায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কর্মবিরতি স্থগিত করেন তারা। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) খুলনা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আমানুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে আগের আদেশটি স্থগিত করার কথা জানানো হয়।
অফিস আদেশে বলা হয়েছে, মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. এ বি এম সাইফুল আলমের অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) গমন উপলক্ষে ২৪ সেপ্টেম্বর জারি করা স্মারক অনুযায়ী মেডিসিন বিভাগের দায়িত্বভার গ্রহণ ও বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন সম্পর্কিত ইতোপূর্বে জারি করা আদেশটি এতদ্বারা স্থগিত করা হলো।
এর আগে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টা থেকে ডা. মো. জাহিরুল হককে মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব দেওয়ার প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। পরে রাত ৮টার দিকে কর্মবিরতি স্থগিত করা হয়।
কর্মবিরতি স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করে ডা. কামরান হোসেন বলেন, খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল এবং খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল আলম মনার সঙ্গে তাদের কথা হয়েছে। কেডিএ চেয়ারম্যান সরাসরি হাসপাতালে এসে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন।
ডা. কামরান হোসেন বলেন, ‘আমরা আমাদের সমস্যা ও দাবিগুলো তাদের জানিয়েছি। এরপর যে অফিস আদেশটি হয়েছে, সেটি স্থগিতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গু রোগীদের কথা বিবেচনা করে কর্মবিরতি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানানো হয়। খুলনার সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবার কথা চিন্তা করে আমরা কর্মবিরতি স্থগিত করেছি।’ এদিকে, ডা. মো. জাহিরুল হককে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব দেওয়ার বিরোধিতা করে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে তার রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পরিচয় নিয়েও আপত্তি তোলা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, ডা. জাহিরুল হক বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সুবিধাভোগী ছিলেন এবং আওয়ামী লীগপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) লাইফ মেম্বার। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেও তার বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পাওয়া নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়।



