স্থানীয় সংবাদ

অবশেষে ১৪ দিন পর আলোচিত ‘জলিল’ হত্যাকা-ের আসামী আমিনুল গ্রেফতার

# দৌলতপুর থানা পুলিশের সাফল্য #
# আদালতে আসামির ১৬৪ ধারার জবানবন্দি প্রদান, হত্যাকা-ের গুরুত্ব তথ্য প্রদান #
# পুলিশ বলছে : মামলা তদন্তনাধীন, বাকি আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে #

স্টাফ রিপোর্টার : খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর থানা মোড়স্থ ইস্পাহানী জুট প্রেস কলোনী এলাকার বাসিদা ও মুদি ব্যবসায়ী দেলোয়ার মুন্সি (দিলুর) ছেলে আলোচিত জলিল মুন্সি হত্যাকা-ের ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামী আমিনুল (২৫) কে হত্যাকা-ের ১৪ দিন পর শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে দৌলতপুর থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে রাজধানী ঢাকার কেরানীগঞ্জের মডেল থানাধীন ঘাটারচর এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে খুলনা মহানগর মেট্রোপলিটন আদালতের বিচারক মো: আসাদুর জামান এর সম্মুখে আসামির ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তীমূলক জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়। জবানবন্দিতে আসামী হত্যাকা-ে জড়িত থাকার স্বীকারোক্তিসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তথ্য প্রদান করেন, যা মামলা তদন্তের স্বার্থে আপাতত গোপন রাখা হচ্ছে (পরে জানানো হবে) । জবানবন্দিশেষে আসামিকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেয় আদালত পুলিশি সূত্রে তথ্য জানা গেছে। সূত্রে জানা যায়, খুলনার দৌলতপুরের আলোচিত জলিল মুন্সি হত্যাকা-ের পর পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ, আলামত, তথ্য- উপাত্ত ও তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে মামলার এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের গ্রেফতারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখে। কিন্তু, আসামিরা পেশাদার অপরাধী হওয়ায় সু-কৌশলে বিভিন্ন সময় তাদের অবস্থান পরিবর্তন করছিল। অবশেষে হত্যাকা-ের ১৪ দিন পর শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে দৌলতপুর থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে রাজধানী ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন ঘাচারচর এলাকা হতে ওই আসামীকে গ্রেফতার করে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পাট শ্রমিক জলিল মুন্সি হত্যাকা-ের এজাহারনামীয় আসামী রাসেল @ পঁচি রাসলের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে বিভিন্ন থানায় হত্যাসহ নানামুখি অপরাধ ৭ টি মামলা ও এজাহারনামীয় আসামী আসিফ মাোল্লার বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে বিভিন থানায় হত্যাসহ নানামুখি বিভিন্ন অপরাধে ৬ টি মামলা রয়েছে। এ বিষয়ে নিহতের পিতা ও মামলার বাদী দেলোয়ার মুন্সি (দিলু) প্রতিবেদককে জানান, শুনেছি মামলার এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দ্রুত সময়ের মধ্যে বাকি আসামীদের গ্রেফতারের দাবী জানাচ্ছি। পাশাপাশি কি কারনে হত্যা করা হলো? খুনের পরিকল্পনাকারী, অর্থের যোগানদাতা কে? জানতে চাই। আমি আর আমার ছেলেকে ফিরে পাবো না কিন্তু, বেঁচে থেকে আমার ছেলের হত্যার সুষ্ঠু বিচার দেখতে চাই। এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো.কাউসার মাহমুদ জানান, দৌলতপুরে জলিল হত্যাকা-ে জড়িত এজাহারনামীয় আসামী আমিনুলকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ ঘাটারচর এলাকা থেকে গ্রেফতার করি। রবিবার বিকালে খুলনা মহানগর মেট্রোপলিটন আদালতে আসামি ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তীমূলক জবানবন্দী প্রদান করেন। জবানবন্দিতে আসামী হত্যাকা-ে জড়িত থাকার স্বীকারোক্তিসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তথ্য প্রদান করেন, যা মামলার তদন্তের স্বার্থে আপাতত গোপন রাখা হচ্ছে। আসামিকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন আদালত। মামলাটি তদন্তনাধীন এবং বাকি আসামি গ্রেফতারের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। এ বিষয়ে দৌলতপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুঃ মোরাদুল ইসলাম জানান, দৌলতপুরে যুবক খুনের ঘটনায় জড়িত এক আসামিকে অভিযান করে ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানা এলাকা থেকে আটক করা হয়। গতকাল খুলনার আদালতে আসামি ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেছে। মামলাটি তদন্তাধীন এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে জোরদার প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে বাকি আসামীদের গ্রেফতারে সক্ষম হবো। উল্লেখ্য, গত ১২ সেপ্টেম্বর (শনিবার) আনুমানিক ৮ টার দিকে নিহত জলিল দৌলতপুর থানার মোড় ইস্পাহানী জুট প্রেস কলোনী (কুলিবাগান) এলাকার খুলনা-যশোর সড়কের পূর্বপাশে রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে ছিলেন। এসময় মোটরসাইকেল যোগে আসা দুর্বত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে পালিয়ে যায়। দুর্বত্তদের ছাঁড়াগুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন, তাৎক্ষনিক স্হানীয়রা ও পুলিশ ঘটনাস্হল হতে গুলিবিদ্ধ যুবককে উদ্ধার করে খুমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষনা করে । প্রাথমিক সুরাতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের মরদহে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ এবং ১৩ সেপ্টেম্বর (রবিবার) নিহতের পিতা বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় ৩ এজহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে হত্যা মামলার দায়ের করেন। সর্বশেষ শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ ঢাকা কেরানীগঞ্জ মডেল থানা এলাকা হতে আসামী আমিনুলকে গ্রেফতার করে। দৌলতপুর থানা পুলিশের এই সফল অভিযান সর্বস্তরে প্রশংসা কুড়িয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button