স্থানীয় সংবাদ

রূপসায় লীজের টাকা ও মামলাবাজ ভাগ্নের হুমকিতে ভীত হয়ে সাবেক সেনা সদস্যের সংবাদ সম্মেলন

রূপসা প্রতিনিধি : রূপসায় মামলাবাজ ভাগ্নে নাসির উদ্দিনের গং কবল থেকে রক্ষা পেতে ভূক্তভোগি মামার পরিবার কর্তৃক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নৈহাটী গ্রামের বাসিন্দা লিয়াকত আলী খান। গতকাল সোমবার দুপু ১২টায় নৈহাটি সাংবাদিক কল্যাণ সোসাইটির কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়েছে, রূপসা উপজেলার নৈহাটী গ্রামের বাসিন্দা সুরত আলী খাঁনের ছেলে লিয়াকত আলী খান একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য। উপজেলার জাবুসা গ্রামের মৃত মনির উদ্দিনের ছেলে নাসির উদ্দিনের সাথে তার ক্রয়সূত্রে পাওয়া জাবুসা মৌজার ৫০৭নং খতিয়ানে ১৫১৭ ও ১৬৭২ দাগের ১.০৪ একর জমির লীজের টাকা নিয়ে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। উক্ত জমি ক্রয়সূত্রে ভোগ দখলে থাকাকালে নাসির উদ্দিনকে সাক্ষীগণের সম্মুখে নির্দিষ্ট টাকার বিনিময়ে উক্ত লীজ দেন। বিগত ২ বছর যাবত লীজ নেওয়া বাবদ কোনো টাকা তাকে পরিশোধ করেনি নাসির উদ্দিন। তাকে জমি ছেড়ে দিতে বললে বিবাদীগণ নানা অযুহাতে কালক্ষেপণ করে আসছেন। গত ২৩/০৬/২৬ তারিখ লিয়াকত আলী খান ও তার আরো দুই ভাইয়ের উপর ৭/৮ জন মিলে আনুমানিক বেলা ১১টার দিকে উপর্যপুর হামলা চালায় এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।এ ঘটনায় লিয়াকত আলী খান ১০৭/১১৭ মামলা দায়ের করেন ।মামলা চলাকালীন অবস্থায় আবার নাসির উদ্দিন, তার স্ত্রী তাসলিমা বেগম, মেয়ে নাসরিন আক্তার অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। এ ব্যাপারে গত ১৬/০৮/২৬ তারিখ সংশ্লিষ্ট থানায় জিডি করা হয় (যার নং-৫৪৫)। বাদী লিয়াকত আলী খানের নাম সংশোধনীর ব্যাপারে তারা যে অভিযোগ তুলে ধরেছেন সেটি বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, খুলনার মাধ্যমে এ্যাফিডেভিটের সমাধান করেছেন।অন্যদিকে, বিবাদী নাসির উদ্দিন শেখের কাছে হারি দেওয়া জমি ফেরত এবং হারির বকেয়া ৪৭০০০/-টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য গত ২৯/৪/২০২৬ তারিখ নৈহাটী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বরাবর আবু তালেব খান, নূর মহাম্মাদ খান ও লিয়াকত আলী খান বিষয়টি সমাধানের জন্য লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ৫/৫/২০২৬ তারিখ সমনের মাধ্যমে আদলতে উপস্থিত হওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তী শুনানীর দিন ৭/৫/২০২৬ তারিখ ধার্য্য করা হয়। তবে সেদিন বিবাদী নাসির উদ্দিন অনুপস্থিত ছিলেন। ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ইলিয়াজ হোসেন উভয় পক্ষকে গ্রাম আদালত গঠনের উদ্দেশ্যে সদস্য মনোনয়ন নির্দেশনামা প্রদান করেন এবং সাত (৭) কর্মদিবসের মধ্যে উভয় পক্ষ সদস্য মনোনয়নের নির্দেশ থাকলেও মনোনয়ন করে দাখিল করেননি। ১৯/০৫/২০২৬ তারিখ আবেদনকারীদের পক্ষ হতে ইউপি সদস্য রিনা পারভীন, ইউপি সদস্য রেশমা আক্তার জামির সরদার ও স্থানীয় ব্যক্তি এবং চেযারম্যান উপস্থিত থাকেন। এছাড়া আরো গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে সিদ্ধান্ত মোতাবেক ২৫/৫/২০২৬ তারিখের মধ্যে লিয়াকত আলী খানের পাওনা ৪৭,০০০/ টাকা পরিশোধসহ হারি দেওয়া জমি ফেরত দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। লিয়াকত আলী প্রতি বছর জমি লিজ বাবদ ৩০ হাজার টাকা দেওয়ার শর্তে জমি লিজ দেন মৌখিকভাবে। কিন্ত তিনি অবসরে আসার পর উক্ত জমির বাবদ বাৎসরিক টাকা দেওয়া এবং জমি ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে নাসির উদ্দিনকে বারংবার বলার পরও তিনি বিষয়টি আমলে না নিয়ে বহাল তবিয়তে নিজ আয়ত্বে রেখেছেন। এ পর্যন্ত দীর্ঘ ২ বছর হারির টাকা প্রদান করেনি এবং জমিও ছাড়েননি। এ ব্যাপারে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে নাসির উদ্দিনকে গ্রাম্য আদালতে হাজির থাকার কথা থাকলেও তিনি হাজির হনিন। এমনকি রূপসা থানায় এই ব্যাপারে শালিসী বৈঠক হলেও বিবাদী নাসির উদ্দিন শালিসী বৈঠকের সিদ্ধান্তকে না মেনে পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসক বরাবর তাদের নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসক দপ্তর থেকে থানায় বিষয়টি তদন্ত জন্য আসে উভয় পক্ষকে দলিলপত্র দেখাতে বলা হয়। জমির খাজনা খারিজ সহ সকল প্রকার কাগজপত্র প্রদান করেন তিনি। । কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে লিয়াকত আলী খানের পক্ষে সমর্থন জানান। তারপর লিয়াকত আলী খানের নামে মিথ্যা ১০৭॥১১৭ মামলা করে সেই মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হয়ে খারিজ করে দেয় বিজ্ঞ আদালত। আবার লিগ্যালেটে অভিযোগ করে। অভিযোগ শুনে তারা সমস্ত কাগজপত্র দাখিল করেন। কিন্তু তাদের কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। ভূক্তভোগী পরিবার উক্ত ভূমিদস্যু ও মামলাবাজদের কবল থেকে রক্ষা পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষে কামনা করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button