স্থানীয় সংবাদ

খুলনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের চীফ ইন্সট্রাক্টর বুলবুলের খুঁটির জোর কোথায়?

# চাকুরি যোগদান থেকে শুরু করে দীর্ঘ ২০ বছর যাবৎ একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত #

স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের চীফ ইন্সট্রাক্টর (সিভিল) মিনা বুলবুল জাহানের খুঁটির জোর কোথায় ? এ প্রশ্ন এখন পলিটেকটিক এরিয়া বেশ চাউড় হচ্ছে। তার ক্ষমতা এতই বেশী তিনি চাকুরি যোগদান থেকে শুরু করে দীর্ঘ ২০ বছর যাবৎ একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন। এক দিনের জন্যও তিনি অন্য কোন প্রতিষ্ঠানে বদলী হননি। বিভিন্ন ঠিকাদারদের সায়েন্স টেস্ট, রড টেস্ট, সিমেন্ট টেস্ট না করেই ঠিকাদারের পছন্দ মত রিপোর্ট দিয়ে লাখ লাখ টাকা আয় করেছেন। যা সিসি ফুটেজ দেখলেই প্রমাণ মিলবে বলে সূত্রটি জানায়। তাদের মতে টেস্টের জন্য কখনই বালু , সিমেন্ট, রড ল্যাবে ঢোকেনি। বছরের পর বছর তিনি এই ভূয়া টেস্ট রিপোর্ট দিয়ে আসছেন। ২০১৯ সালে থেকে টেস্ট রিপোর্টে স্বাক্ষর শুরু করেছেন। টেস্টের সরকারি খাতে ভ্যাট ১৫%, অন্যান্য খাকে ১০% জমা দেয়ার নিয়ম থাকলে তিনি দেন না। ২০১৯ সালের ৬ জানুয়ারী থেকে ২০২০ সালের ১৭ মে পর্যন্ত তার রিপোর্টে দেখা যায় তিনি এ সময় ২/৪ টি টেস্টের উপর ভ্যাট দিলেও আর কোন টাকা সরকারি খাতে না দিয়ে আতœসাৎ করেছেন। এ কাজে ভূয়া ভ্যাট আইটি কেটে খাতায় লিখে তা সরকারি ট্রেজারি না লিখে আতœসাৎ করেন। তিনি বিভিন্ন কমিটির সদস্য হয়ে মূল্যায়ন কমিটির (বহি: সদস্য) হয়ে টাকা নিয়ে টেস্ট রিপোর্ট (কেসিসি, কেডিএ) পক্ষে দেন। এভাবে ভূয়া রিপোর্ট দিয়ে তিনি বিভিন্ন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা গ্রহণ করে থাকেন। বুলবুল জাহান নিজ প্রতিষ্ঠানের ছাত্রীকে বিয়ে করে আালোচনায় আসেন। দীর্ঘ ২০ বছর একই প্রতিষ্ঠানে থাকার কারণে ছাত্রী অভিভাবকরা সিভিল বিভাগে মেয়েকে ভর্তি করাতে চান না। প্রতিষ্ঠানের নতুন ১০তলা প্রশাসনিক ভবনের নির্মাণকাজ থেকে কিভাবে টাকা আতœসাৎ করা যায় তার নীল নকশা এখন থেকেই তিনি সাজিয়ে রেখেছেন। কলেজের শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত ১ কোটি ৫২ লাখ টাকার কাজ চলমান। এখানে তিনি টুনুর মোড় থেকে মহিলা পলিটেকনিক যাওয়ার দিকে প্রচীরে নতুন ইট না দিয়ে পুরাতন ইটের উপর প্লাস্টার করে ঠিকাদারের অনৈতিক কাজে সহযোগিতার করার অভিযোগ উঠেছে। এজন্য তিনি ঠিকাদারের কাছ থেকে মোটা অংকের উৎকোচ গ্রহন করেছেন। প্রতিষ্ঠানের উন্নতি বাদ দিয়ে শেয়ার ব্যবসা নিয়ে মনোযোগ বেশী। বুুলবুলের চাকুরি জীবন শুরু অভয়নগর যশোর ভকেশনাল শিক্ষা প্রতিষ্টানের ল্যাব এসিটেন্ট কাম ক্লিনার পদে। এবারই প্রথম পলিটেকনিক কলেজের শিক্ষকদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনের তিনি নেতৃত্ব দেন। শিক্ষকদের করেন ঐক্য নস্ট করেন। ওসমান গণি প্যানেলে তিনি নির্বাচনে করেন এবং জয়ী হন। শিক্ষক মিনা মোঃ বুলবুল জাহান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এখন মবের যুগ। আমিও এখানে থাকতে চাই না। তিনি বলেন, ফরিদপুর থেকে তার কর্ম জীবন শুরু। আমি বিভাগীয় প্রধান হিসেবে ল্যাব টেস্ট কমিটির সদস্য মাত্র। আমাকে কোন রিপোর্ট চেপে রাখার ক্ষমতা দেয়া হয়নি। তিনি মাঝে একবার অধিদপ্তরে বদলী হন। ওইখানে তিনি এক সপ্তাহ ছিলেন। এরপর আবার খুলনা পলিটেকনিকে চলে আসেন। এখনও তো ভাউন্ডারী ওয়ালে প্লাস্টারের কাজ শুরু হয়নি। মাঝে অল্প একটু জায়গায় প্লাস্টার করা হয়। তিনি আরো বলেন, তিনি বেশ আগেই শিক্ষকদের কমিটি থেকে পদত্যাগ করেন। সুতরাং আমার দলাদলি করার কিছু নেই। ”

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button