বিক্রির আগের দিন ভেসে উঠল ৩০ লাখ টাকার মরা মাছ

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ মৌলভীবাজারের জুড়ীতে প্রায় ৪০ বিঘা জমিতে গড়ে তোলা একটি মাছের খামারে বিভিন্ন জাতের মাছ মরে ভেসে উঠেছে। এতে তাৎক্ষণিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন খামারি। তার দাবি, এতে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তবে কী কারণে মাছগুলো মারা গেছে, তা এখনও জানা যায়নি। বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) বিকেল থেকে ধামাই চা-বাগানের হাতলিঘাট এলাকায় মরা মাছ ভাসতে শুরু করে।
জানা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত খামারি ইলিয়াছ মিয়া কয়েক বছর ধরে এই খামারে বাণিজ্যিকভাবে বিভিন্ন জাতের মাছ চাষ করছেন। ইলিয়াছ মিয়ার বাড়ি জুড়ী উপজেলার পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের পশ্চিম বাছিরপুর গ্রামে।
শুক্রবার (২ অক্টোর) বড় আকারের মাছ ধরে বিক্রির কথা ছিল। এর আগেই বৃহস্পতিবার সব মাছ মরে ভেসে ওঠে। খামারে গিয়ে এ পরিস্থিতি দেখে অসুস্থ হয়ে পড়েন ইলিয়াছ। পরে স্বজনেরা তাকে সিলেট শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ইলিয়াছ মিয়ার স্বজনেরা জানান, প্রায় ১০ বছর আগে স্থানীয় ধামাই চা-বাগান কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে টিলার ঢালে থাকা ৪০ বিঘা নিচু জমি ইজারা নেন ইলিয়াছ। বছরে দুই লাখ টাকা করে পাঁচ বছরের জন্য জমিটি ইজারা নেওয়া হয়। পরে বাঁধ দিয়ে সেখানে মাছের খামার গড়ে তোলেন তিনি। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে খামারে তেলাপিয়া, সিলভার কার্প, রুইসহ বিভিন্ন জাতের মাছ মরে ভেসে উঠতে থাকে। মাছগুলোর ওজন আধা কেজি থেকে তিন কেজি পর্যন্ত ছিল। খবর পেয়ে ইলিয়াছ খামারে ছুটে যান। একপর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
ইলিয়াছের দুই ছেলে কয়েছ আহমদ ও জসিম উদ্দিন জানান, তাদের ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতেও অনেক মাছ মরে ভেসে ওঠে। মৃত মাছগুলো মাটিতে গর্ত করে পুঁতে ফেলবেন তারা।
তারা আরও জানান, খামারে কেউ বিষ ছাড়ল না অন্য কোনো কারণে এত মাছ হঠাৎ করে মারা গেল, কিছুই বুঝে উঠতে পারছেন না। তাদের কারো সঙ্গে কোনো বিরোধ নেই। এখন খামার মালিকের চিকিৎসায় ব্যস্ত। সিলেট থেকে এসে জুড়ী থানায় এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেবে তারা।
পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বলেন, খামারে মাছের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা প্রয়োজন।
জুড়ীতে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা পার্শ্ববর্তী বড়লেখা উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা মিছবাহ উদ্দিন জানান, বিষ ছেড়ে মাছ নিধন করা হতে পারে। আবার পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা কমে অ্যামোনিয়া গ্যাস বেড়েও এটা ঘটতে পারে। বিষাক্রান্ত মাছ পরীক্ষার যন্ত্রপাতি তাদের নেই। তবে অক্সিজেন ও অ্যামোনিয়ার মাত্রা পরীক্ষার যন্ত্রপাতি আছে। খামারের পানি পরীক্ষা করে দেখা হবে।
এ বিষয়ে জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। অভিযোগ পেলে ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হবে।



