ইনসাফ, সাম্য, মানবতা ও শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় হযরত মুহাম্মদ (সা.) সর্বশ্রেষ্ঠ পথপ্রদর্শক : মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান

# পেশাজীবী ফোরাম খুলনা মহানগরীর সিরাতুন্নবী (সা.) সিম্পোজিয়াম #
স্টাফ রিপোর্টার ঃ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেছেন, মানবতার মুক্তিদূত হযরত মুহাম্মদ (সা.) ১৪০০ বছর পূর্বে আরব ভূখ-ের চরম অন্ধকার ও বৈষম্যমূলক সমাজে ইনসাফ, সাম্য ও মানবতার যে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন, তা আজও একটি শোষণমুক্ত সমাজ বিনির্মাণের সর্বশ্রেষ্ঠ পথপ্রদর্শক। তিনি বর্তমান বিশ্বজুড়ে চলমান বৈষম্য, অন্যায় ও সংঘাতময় পরিস্থিতিতে শান্তি ফিরিয়ে আনতে রাসুল (সা.)-এর ইনসাফভিত্তিক নীতি ও আদর্শ অনুসরণের ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি বলেন, ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক পরিম-লে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা গেলেই কেবল প্রকৃত শান্তি ও মুক্তি সম্ভব। শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকালে নগরীর আল ফারুক সোসাইটি মিলনায়তনে পেশাজীবী ফোরাম খুলনা মহানগরীর উদ্যোগে সিরাতুন্নবী (সা.) উদযাপন উপলক্ষে “ইনসাফ সমাজ প্রতিষ্ঠায় রাসুল (সা.)-এর ভূমিকা” শীর্ষক সিম্পোজিয়ামে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন।
পেশাজীবী ফোরাম খুলনা মহানগরীর সভাপতি অধ্যাপক এ এস এম জাফর সাদিকের সভাপতিত্বে ও সহকারী সেক্রেটারি সোহেল রানার পরিচালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন মসজিদ মিশন খুলনা মহানগরীর সভাপতি হাফেজ মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক, খুলনা জেলা ইমাম পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ এ এফ এম নাজমুস সউদ, বাংলাদেশ মাজলিসুল মোফাসরিন খুলনা মহানগরী সভাপতি মাওলানা মো. মনিরুজ্জামান, ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম খুলনা মহানগরী সভাপতি ডা. এহসানুল কবির, আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন খুলনা মহানগরী সভাপতি অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম। অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন পেশাজীবী ফোরাম খুলনা মহানগরীর সাবেক আমীর অধ্যাপক জুলফিকার আলী, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনার সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক রানা, পেশাজীবী নেতা ইঞ্জিনিয়ার আমান উল্লাহ, মো. মনিরুল ইসলাম, কামাল হোসেন, আল আমিন আকাশ, মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ। “ইনসাফ সমাজ প্রতিষ্ঠায় রাসুল (সা.)-এর ভূমিকা” শীর্ষক রচনা প্রতিযোগীতায় প্রথম স্থান অধিকার করেন মো. কামাল হোসেন, দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন মোস্তাহিদুর রহমান ও তৃতীয় স্থান অধিকার করেন মোস্তাফিজুর রহমান ও কুইজ প্রতিযোগীতায় প্রথম স্থান অধিকার করেন মাওলানা হোসাইন বিন আমজাদ, দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন গোলাম কিবরিয়া ও তৃতীয় স্থান অধিকার করেন আহম্মদ উল্লাহ। পরে প্রধান অতিথি বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহফুজুর রহমান আরও বলেন, মানবজাতির ইতিহাসে এমন কোনো যুগ ছিল না, যা আইয়ামে জাহেলিয়াতের অন্ধকার যুগের চেয়ে বেশি নির্মম, অবিচারপূর্ণ ও বৈষম্যমূলক ছিল। ঠিক সেই অন্ধকার যুগে বিশ্বমানবতার মুক্তিরদূত হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হযরত মুহাম্মদ (সা.)। তিনি কেবল একজন আধ্যাত্মিক সাধক ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন এমন এক দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক যিনি ইনসাফ, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও মানবিক মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে একটি আদর্শ সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কুরআন ও সুন্নাহর শাশ্বত আলোর মশাল হাতে নিয়ে তিনি প্রমাণ করেছিলেন যে, জুলুম-নির্যাতন ও বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে কীভাবে ইনসাফভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
মহানগরীর এই আমীর বলেন, আইয়ামে জাহেলিয়াতের সেই অন্ধকার যুগে যখন গোত্রপ্রথা, নারী নির্যাতন এবং আইনের শাসন বলতে কিছু ছিল না, তখন বিশ্বনবী (সা.) আল্লাহর বিধানের আলোকে একটি ইনসাফপূর্ণ সমাজ গড়ে তুলেছিলেন। যেখানে ধনী-দরিদ্র, উচ্চ-নিচ এবং বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সকল মানুষের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, ইনসাফ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ (সা.) কেবল তত্ত্ব দিয়েই ক্ষান্ত হননি, বরং নিজে তার বাস্তব প্রয়োগ করে গেছেন। আইন সবার জন্য সমানÑএই আধুনিক ধারণার বাস্তবায়ন তিনি নিজ পরিবার ও সমাজের প্রতিটি স্তরে করে দেখিয়েছিলেন। বানু মাখজুম গোত্রের এক প্রভাবশালী নারীর চুরির ঘটনায় যখন সুপারিশ করা হয়েছিল, তখন রাসুল (সা.) অত্যন্ত কঠোর কণ্ঠে ঘোষণা করেছিলেনÑযদি মোহাম্মদের কন্যা ফাতিমাও চুরি করে, তবে তিনি তার হাত কেটে দেবেন। এই ঐতিহাসিক ঘোষণা তৎকালীন সমাজে আইনের শাসন ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী মাইলফলক হয়ে রয়েছে।
মহানগরী আমীর আরও বলেন, মদিনায় হিজরতের পর বিশ্বনবী (সা.) ঐতিহাসিক ‘মদিনা সনদ’ প্রণয়নের মাধ্যমে বিভিন্ন ধর্ম ও গোত্রের মানুষের সহাবস্থান এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করেছিলেন। এটি ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম লিখিত সংবিধান, যা বহুত্ববাদী সমাজে ইনসাফ ও নিরাপত্তার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল। এছাড়া বিদায় হজের ভাষণে তিনি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছিলেন যে, কারো ওপর যেন কোনো ধরনের জুলুম বা অবিচার করা না হয়।
মাহফুজুর রহমান আরও বলেন, আজকের এই আধুনিক বিশ্বে যখন বৈষম্য, শোষণ, অন্যায় এবং যুদ্ধবিগ্রহ মানবসভ্যতাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে, তখন শান্তি ও মুক্তির একমাত্র পথ হলো রাসুল (সা.)-এর প্রদর্শনি ইনসাফের নীতি অনুসরণ করা। কুরআন ও হাদিসের আলোকে ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনে তাঁর সেই ত্যাগ, নীতি এবং আদর্শ আমাদের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে বাস্তবায়ন করাই হোক আজকের সিম্পোজিয়ামের মূল অঙ্গীকার।



