জাতীয় সংবাদ

সিইসির পদত্যাগের দাবিতে রণক্ষেত্র ‘যন্তর মন্তর’

সহ¯্রাধিক আটক, বন্ধ মেট্রো-ইন্টারনেট

প্রবাহ রিপোর্ট : ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শুক্রবার দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। বিক্ষোভের সময় সহ¯্রাধিক মানুষকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। আটকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন-আম আদমি পার্টির নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ, সঞ্জীব ঝা ও অতিশী মারলেনা। এ ছাড়া বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের কর্মীরাও আটক হয়েছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীরা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি করছেন। তাদের অভিযোগ, ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর–এর কার্যক্রমে অনিয়ম হয়েছে এবং বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
এই বিক্ষোভে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি বামপন্থী ছাত্র সংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া, ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া এবং অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন।
আম আদমি পার্টির নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে বলেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করার পরও তাঁকে এবং সঞ্জীব ঝাকে আটক করা হয়েছে। তিনি দলের কর্মী ও সমর্থকদের আন্দোলন চালিয়ে যেতে এবং যন্তর মন্তরে পৌঁছানোর আহ্বান জানান।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার প্রায় ৭০০ কর্মী যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তাদের অশোকা রোডের গোলচত্বরে আটকে দেওয়া হয় এবং তাদের অনেককে আটক করা হয়। আরেক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, যন্তর মন্তর এবং এর আশপাশ থেকে বিভিন্ন ছাত্র ও রাজনৈতিক দলের কর্মীসহ প্রায় ৭০০ বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। এর আগে এক কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, আটক ব্যক্তির সংখ্যা প্রায় ১৫০ জন।
বিক্ষোভস্থল এবং আশপাশের এলাকাতেও ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার সাধারণ সম্পাদক আইশে ঘোষ জানান, তাঁর দল এবং আরও বেশ কয়েকটি সংগঠনের বেশ কয়েকজন কর্মীকেও আটক করা হয়েছে। তিনি দিল্লি পুলিশের সমালোচনা করে বলেন, ‘দিল্লি পুলিশ রাজধানীতে অপরাধ বন্ধ করতে পারছে না, কিন্তু জ্ঞানেশ কুমারের মতো কাউকে রক্ষা করার বিষয় এলে তারা রাস্তায় নেমে পড়ে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটি গণতন্ত্র নয়। পুলিশ যদি মনে করে আমাদের আটক করে তারা আন্দোলন থামিয়ে দিতে পারবে, তাহলে আমরা তাদের জানিয়ে দিতে চাই, এটি কেবল শুরু।’
অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের কর্মীরা অভিযোগ করেছেন, আটক করার সময় পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর, এমনকি নারী বিক্ষোভকারীদের ওপরও বলপ্রয়োগ করেছে। যন্তর মন্তরের কাছে আটক হওয়ার সময় সংগঠনটির এক সদস্য বলেন, ‘আপনারা যতই লাঠিচার্জ করুন বা আমাদের যতজনকেই জেলে পাঠান না কেন, জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতেই হবে।’ ছাত্র সংগঠনটি অভিযোগ করেছে, পুলিশের এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ছিল মানুষকে নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা থেকে বিরত রাখা।
ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়ার জাতীয় সভাপতি বিনোদ জাখড়সহ সংগঠনটির বেশ কয়েকজন কর্মীকেও বিক্ষোভস্থল থেকে আটক করা হয়েছে। জাখড় ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়ার কার্যালয় থেকে যন্তর মন্তরের দিকে আয়োজিত এক দযাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন। সেই পদযাত্রার সময় তাঁকে আটক করা হয়।
বিক্ষোভকারীদের ফিরোজ শাহ রোডে ব্যারিকেড টপকে যেতে দেখা যায়। একটি ভিডিও বার্তায় আম আদমি পার্টির নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ বলেন, পুলিশ তাদের জানিয়েছে যে বিক্ষোভ করার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি দেওয়া হয়নি। কিন্তু ভরদ্বাজ প্রশ্ন তোলেন, গণতান্ত্রিক দেশে বিক্ষোভ করার জন্য কেন অনুমতির প্রয়োজন হবে, বিশেষ করে যখন যন্তর মন্তর সরকারিভাবে নির্ধারিত একটি বিক্ষোভস্থল। তিনি আরও বলেন, তাঁর দল প্রায় এক সপ্তাহ আগেই বিক্ষোভের অনুমতি চেয়ে চিঠি দিয়েছিল।
ভরদ্বাজ জানান, যন্তর মন্তরের আশপাশের বেশ কয়েকটি মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি মানুষকে অনুরোধ করেন, যে মেট্রো স্টেশনগুলো খোলা রয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে কাছের স্টেশনে গিয়ে সম্ভব হলে সেখান থেকে হেঁটে বিক্ষোভস্থলে পৌঁছাতে। দিল্লি মেট্রো ১২টি স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে—রাজীব চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট ও যন্তর মন্তর। এ ছাড়া যন্তর মন্তর এবং এর আশপাশের এলাকাতেও ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত করা হয়েছে।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button