স্কুল ফিডিংয়ের দুধ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ পিরোজপুরের নেছারাবাদে শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ স্কুল ফিডিং কর্মসূচির ৩০ প্যাকেট দুধ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে ছাত্রদল নেতা মো. নাদিম মাহমুদকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাতে জেলা ছাত্রদলের সিদ্ধান্তে তাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠনের সব সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন তালুকদার কুমার ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান শাহীন স্বাক্ষরিত সিদ্ধান্তের কথা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক খালিদ হাসান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে নাদিম মাহমুদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে তার সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নাদিম মাহমুদ নেছারাবাদ উপজেলার ১ নম্বর বলদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক এবং সরকারি স্বরূপকাঠী কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন তালুকদার কুমার বলেন, স্কুল ফিডিংয়ের দুধ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগেই নাদিম মাহমুদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ছাত্রদল একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ সংগঠন। এখানে যে-ই অন্যায় করুক, তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংগঠনের নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে গত ২৫ সেপ্টেম্বর নেছারাবাদ উপজেলার ১৪৮ নম্বর দক্ষিণ বিন্না কাইলান্তরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ দুধ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে নাদিম মাহমুদ ও তার ২ সহযোগীর বিরুদ্ধে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় বিন্না খালে নৌকাবাইচ উপলক্ষ্যে কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও বিএনপির নেতাকর্মীরা বিদ্যালয়ে আসেন। এ সময় অতিথিদের বসার ব্যবস্থা ও আপ্যায়নে শিক্ষকেরা ব্যস্ত ছিলেন। এই সুযোগে বিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে রাখা ৭৯ প্যাকেট দুধের মধ্যে ৩০ প্যাকেট নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে।
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর গত ৩০ সেপ্টেম্বর সকালে নাদিম মাহমুদ ও তার সহযোগীরা বিদ্যালয়ে গিয়ে ২৭ প্যাকেট দুধ ফেরত দেন। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাকি ৩ প্যাকেট দুধ তারা খেয়ে ফেলেছেন।
অভিযুক্ত নাদিম মাহমুদ এর আগে বলেছিলেন, তারা ৩ প্যাকেট দুধ খেয়েছিলেন। দুধগুলো শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ ছিল, তা তারা জানতেন না। পরে বিষয়টি জানতে পেরে বাকি ২৭ প্যাকেট দুধ সংগ্রহ করে বিদ্যালয়ে জমা দেন।
এদিকে, ঘটনার বিষয়ে শিক্ষা অফিসকে জানাতে দেরি হওয়ায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। নেছারাবাদ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাইনুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, প্রধান শিক্ষককে ৩ কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।



