এআই দিয়ে নিজেই গতিপথ বদলাতে পারে এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির দাবি উত্তর কোরিয়ার

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে আকাশে নিজের গতিপথ বদলাতে সক্ষম নতুন একটি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানোর দাবি করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির নেতা কিম জং উন নিজে এই পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ করেছেন। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, শনিবার মধ্যম পাল্লার একটি কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানো হয়। কিম জং উনের বোন ও ক্ষমতাসীন দলের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কিম ইয়ো জং দাবি করেন, ক্ষেপণাস্ত্রটিতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে এটি নিচু উচ্চতায় উড়তে উড়তে গতিপথ বদলাতে পারে। তিনি আরও দাবি করেন, পরীক্ষায় ক্ষেপণাস্ত্রটি ঢেউয়ের মতো গতিপথে চলেছে, যার কারণে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের পক্ষে পুরো যাত্রাপথ অনুসরণ করা সম্ভব হয়নি। তবে এসব দাবির পক্ষে উত্তর কোরিয়া স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো প্রমাণ দেয়নি। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, শনিবার সকালে উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূলের ওনসান এলাকা থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি ছোড়া হয়। এটি সাগরের দিকে ৭০০ কিলোমিটারের বেশি পথ অতিক্রম করে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে ক্ষেপণাস্ত্রটির বিস্তারিত বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করছে দক্ষিণ কোরিয়া। অন্যদিকে জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ৬৮০ কিলোমিটার উড়েছে এবং সর্বোচ্চ প্রায় ৯০ কিলোমিটার উচ্চতায় উঠেছিল। পরে এটি জাপানের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের বাইরে সাগরে পড়ে। কোনো বিমান বা জাহাজের ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে রোববার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আরও দাবি করে, ক্ষেপণাস্ত্রটি পূর্ব উপকূল থেকে ছোড়ার পর ১ হাজার কিলোমিটার দূরের একটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে। একই সঙ্গে এটিকে অতিদ্রুত গতির কৌশলগত অস্ত্র ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। এই দূরত্ব দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের হিসাবের সঙ্গে মিলছে না। এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ক্ষেপণাস্ত্রটির গতিপথ বদলানোর সক্ষমতার দাবিও এখন পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান বা অন্য কোনো স্বাধীন সূত্র নিশ্চিত করেনি। কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনার মধ্যেই এই পরীক্ষা চালানো হলো। গত মাসে দুই কোরিয়ার সীমান্তবর্তী নিরস্ত্রীকৃত এলাকায় মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা নিয়ে পিয়ংইয়ং ও সিউলের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।



