এলপিজির দাম একলাফে বাড়ল ২৫২ টাকা

নতুন দামে ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি হবে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা
গত মাসেও দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা
প্রবাহ রিপোর্ট : দেশে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন নির্ধারিত দামে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার বিক্রি হবে ১ হাজার ৮৩৭ টাকায়। রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে। গত মাসে ১২ কেজি এলপিজির নির্ধারিত দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশে এলপিজির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে গত ১০ দিন ধরে বাজারে সরবরাহ সংকটের কারণে নির্ধারিত দামে এলপিজি পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। সংকটের মধ্যে খোলা বাজারে আজ ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার প্রায় ২ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
এদিকে, এলপিজি নিয়ে খুচরা বাজারে অস্থিরতা চলছে। নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি কিংবা নিয়মবহির্ভূতভাবে এলপিজি মজুত করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এলওএবি)।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এলওএবির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হকের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, দেশে বর্তমানে এলপিজির সরবরাহ সন্তোষজনক। গত সেপ্টেম্বরে দেশে ১ দশমিক ৫৬ লাখ টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। এর আগে আগস্টে আমদানি করা হয়েছিল ১ দশমিক ৫৮ লাখ টন। ফলে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির কোনো সুযোগ নেই।
এলওএবি জানায়, গত ২৮ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয় ও এলওএবির নেতাদের মধ্যে এলপিজির সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় দেশের এলপিজি সরবরাহ ও বাজার পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও কোনো এলপিজি অপারেটর, পরিবেশক, ডিলার বা খুচরা বিক্রেতা বিইআরসি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি করলে এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে মজুত করলে তা প্রচলিত আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে। এ ধরনের অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর জ্বালানিমন্ত্রী এক অনলাইন সভায় জেলা প্রশাসকদের এলপিজির বাজার পরিস্থিতি কঠোরভাবে মনিটর করার নির্দেশ দিয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে এলওএবির পক্ষ থেকে সব সদস্য কোম্পানি, পরিবেশক, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাকে অবিলম্বে বিইআরসি নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
সাধারণ ভোক্তাদের অধিকার সুরক্ষা ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছে এলওএবি।


