স্থানীয় সংবাদ

মূল আসামী দক্ষিণ কোরিয়ায় : প্রক্সি আসামী হয়ে জামিন নিয়ে অবশেষে পুলিশের জালে

স্টাফ রিপোর্টার ঃ প্রক্সি আসামী সেজে জামিন নিয়ে অবশেষে পুলিশের হাতে ধরা পড়লেন ফেরদৌস আলম সেতু। শনিবার রাতে দিঘলিয়া উপজেলার বরইতলা গ্রামের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে খুলনা থানা পুলিশ। সেতু দিঘলিয়ার শাহ আলম বিশ^াসের ছেলে। রোববার তাকে আদালতে প্রেরণ করা হলে শুনানী শেষে জেল হাজতে পাঠানো হয়। গত ২২ জুলাই জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-০৪-এর বিচারক ফাতেমা জান্নাত ঞযব ঈড়ফব ড়ভ ঈৎরসরহধষ চৎড়পবফঁৎব-এর ঝবপঃরড়হ ৪৭৬ এবং ১৯৫(র)(প) অনুযায়ী অভিযোগটি করেছেন। এতে আসামি হিসেবে ফিরোজ আলম শাওন, অ্যাডভোকেট সরদার শাহজাহান আলী এবং অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিগণকে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়, দিঘলিয়া আমলী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সিআর ৬৩/২০২৫ (দিঘলিয়া) নম্বর মামলায় ১ নম্বর আসামি ফিরোজ আলম শাওন গত ১৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে অ্যাডভোকেট সরদার শাহজাহান আলীর ওকালতনামা দিয়ে স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। মামলাটিতে দ-বিধির ৩২৩ ও ৫০৬ ধারার অপরাধ আমলে নেওয়া হয়েছিল। জামিনযোগ্য হওয়ায় আদালত ১০০ টাকার বন্ডে একজন বিজ্ঞ কৌশলী ও একজন গণ্যমান্য ব্যক্তির জিম্মায় তার জামিন মঞ্জুর করেন। পরবর্তীতে ২৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে মামলার বাদী মুছা তরিকুল আমিন এফিডেভিটসহ আবেদন করে জানান, মামলার আসামি ফিরোজ আলম শাওন ওই সময় দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থান করছিলেন। তার অভিযোগ, ১৬ মার্চ আদালতে ফিরোজ আলম শাওনের পরিবর্তে অন্য একজনকে আসামি সাজিয়ে আদালতে হাজির করে জামিন নেওয়া হয়েছে। এরপর ২৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সরদার শাহজাহান আলী আদালতে আবেদন করে জানান, বাদীর বক্তব্য অনুযায়ী অন্য একজনকে আসামি সাজিয়ে জামিন নেওয়া হয়েছে। তিনি ওকালতনামা ও জামিননামার ক্ষমতা প্রত্যাহারের আবেদন করেন। আবেদনটি আদালতের নথিতে সংযুক্ত করা হয় এবং আসামির পক্ষ থেকে পরবর্তী কোনো পদক্ষেপ না থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, ৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে প্রকৃত আসামি ফিরোজ আলম শাওনের পক্ষে নতুন ওকালতনামাসহ স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করা হয়। আবেদনের সঙ্গে তার পাসপোর্টের ফটোকপিও দাখিল করা হয়। পাসপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, ১৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে ফিরোজ আলম শাওন দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থান করছিলেন। এ অবস্থায় আদালতের কাছে প্রতীয়মান হয়, দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থানরত আসামির পরিবর্তে ভুল ব্যক্তিকে আদালতে উপস্থাপন করে জামিন গ্রহণের মাধ্যমে আদালতের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, এর সঙ্গে প্রকৃত আসামি ফিরোজ আলম শাওনের সম্মতি ও স্বার্থসংশ্লিষ্টতা এবং আইনজীবী কর্তৃক জাল-জালিয়াতি কাগজপত্র প্রস্তুত ও আদালতে উপস্থাপনের বিষয় থাকতে পারে। একই সঙ্গে ঘটনায় কোনো অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি বা আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত থাকার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
বিচারকের অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, এ ধরনের কর্মকা- ঞযব চবহধষ ঈড়ফব, ১৮৬০-এর ৪১৯/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১ ধারায় দ-নীয় অপরাধ হতে পারে। আদালতে জালিয়াতি ও প্রতারণার আশ্রয় গ্রহণ করে ভুল ব্যক্তিকে উপস্থাপন করে জামিন নেওয়ার ঘটনাটি যে স্থানে ঘটেছে, সেই স্থান ও সময়কে অপরাধ সংঘটনের স্থান ও সময় হিসেবে বিবেচনা করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে অ্যাডভোকেট সরদার শাহজাহান আলী, আসামি ফিরোজ আলম শাওন অথবা অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৭৬ ধারায় আদালতের প্রেরিত অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করে উপযুক্ত আমলি আদালতে প্রেরণ করা হোক বলে জানিয়েনে । দিঘলিয়া থানার সিআর-৬৩/২০২৫ নাম্বার মামলার আসামী ফিরোজ আলম শাওন গত ১৬ মার্চ তার আদালত থেকে জামিন নেন। ২৩ এপ্রিল ওই মামলার বাদী মুন্সী তরিকুল আমিন এফিডেভিড সহকারে জানান, শাওন দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থান করছে এবং সে ভূয়া আসামী সাজিয়ে জামিন নিয়েছে। পরে গত ৭ জুলাই মামলার প্রকৃত আসামী শাওনের পক্ষে নতুন ওকালতনামাসহ স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণের আবেদন করা হয়। আবেদনের সাথে জমা দেওয়া পাসপোর্টের ফটোকপি দেখে প্রমাণ হয় যে জামিন গ্রহণের সময় সে দক্ষিণ কোরিয়া ছিল। আইনজীবীর সহায়তায় জালজালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ভূয়া আসামীর জামিন করানোর অপরাধে ফিরোজ আলম শাওন, অ্যাডভোকেট সরদার শাহজাহান আলী সহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা রুজুর আবেদন করেন তিনি। মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা খুলনা থানার এস আই মেহেদী হাসান খান বলেন, জামিন জালিয়াতির মামলায় ফেরদৌস আলমকে শনিবার রাতে দিঘলিয়া থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রোববার তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়। এছাড়া এ মামলায় অপর আসামি একজন অ্যাডভোকেট জামিনে রয়েছেন। আরেক আসামি বিদেশে পলাতক অবস্থায় আছেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button