স্থানীয় সংবাদ

উর্দুভাষীদের স্থায়ী পুনর্বাসনসহ দশ দফা দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি

স্টাফ রিপোর্টার ঃ উর্দুভাষীদের সম্মানের সঙ্গে স্থায়ী পুনর্বাসনসহ ১০ দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে উর্দুভাষীদের বৃহৎ সংগঠন এসপিজিআরসি (ঝচএজঈ)। সংগঠনের সভাপতি ফরিদ খান ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে এ স্মারকলিপি দেওয়া হয়। স্মারকলিপিতে উর্দুভাষী তথা বিহারি সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের আবাসন, নাগরিক সুবিধা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক বৈষম্যসহ বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করা হয়েছে। এসপিজিআরসি খুলনা শাখার ১০ দফা দাবি হলোÑ ১. সম্মানের সঙ্গে ও স্থায়ী পুনর্বাসন ঃ বিহারি সম্প্রদায়ের পরিবারগুলোর মতামত ও সম্মতি বিবেচনায় নিয়ে পর্যায়ক্রমে নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। পুনর্বাসনের সময় কোনো পরিবার যেন জোরপূর্বক উচ্ছেদ বা বাস্তুচ্যুতির শিকার না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। ২. মৌলিক নাগরিক অধিকার ও আইনি সুরক্ষা ঃ আইন অনুযায়ী নাগরিকত্ব ও অন্যান্য অধিকারপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন, ভোটাধিকারসহ প্রযোজ্য সব নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। নাগরিক অধিকারসংক্রান্ত জটিলতা আইন ও আদালতের সিদ্ধান্তের আলোকে মানবিকভাবে সমাধান করতে হবে। ৩. ক্যাম্পগুলোর জীবনমান উন্নয়ন ঃ স্থায়ী পুনর্বাসন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ক্যাম্প ও বসতিগুলোতে নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্যসম্মত পয়োনিষ্কাশন, পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, চলাচলের উপযোগী রাস্তা এবং অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। ৪. শিক্ষা ও নতুন প্রজন্মের উন্নয়ন ঃ শিশু-কিশোরদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা, বৃত্তিমূলক ও কারিগরি প্রশিক্ষণ, উচ্চশিক্ষায় বৃত্তি এবং তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়নের বিশেষ সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। ৫. কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ঃ বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণ, ক্ষুদ্রঋণ, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, আত্মকর্মসংস্থান এবং যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। ৬. স্বাস্থ্যসেবা ও নারীর সুরক্ষা ঃ বিহারি অধ্যুষিত এলাকায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, মাতৃ ও শিশুসেবা, নিরাপদ প্রসব, পুষ্টি এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সম্প্রসারণ করতে হবে। পাশাপাশি নারী, শিশু, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিরাপত্তা ও বিশেষ চাহিদা নিশ্চিত করতে হবে। ৭. সামাজিক মর্যাদা ও বৈষম্য দূরীকরণ ঃ বিহারি সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতি বিদ্যমান সামাজিক বৈষম্য, নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও বঞ্চনা দূর করতে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। তাদের মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন ও সমাজের মূলধারায় অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। ৮. সরকারি পুনর্বাসন নীতিমালা প্রণয়ন ঃ বিহারি সম্প্রদায়ের সার্বিক সমস্যা চিহ্নিত করে একটি সমন্বিত ও সময়বদ্ধ পুনর্বাসন নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। এ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সরকারি সংস্থা এবং বিহারি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করতে হবে। ৯. সঠিক পরিসংখ্যান ও চাহিদা নিরূপণ ঃ বাংলাদেশের ক্যাম্প ও ক্যাম্পের বাইরে বসবাসরত বিহারি জনগোষ্ঠীর প্রকৃত সংখ্যা, আবাসন পরিস্থিতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানসংক্রান্ত চাহিদা নিরূপণে নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক জরিপ পরিচালনা করতে হবে, যাতে প্রকৃত চাহিদা প্রতিফলিত হয়। ১০. পুনর্বাসন কার্যক্রমে বিহারি নেতৃত্বের অংশগ্রহণ ঃ পুনর্বাসনসংক্রান্ত নীতিনির্ধারণ, পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় বিহারি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। ঝচএজঈ-এর সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা ও পরামর্শের ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে পুনর্বাসন পরিকল্পনায় তাদের প্রকৃত চাহিদা ও মতামত যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়। সংগঠনের নেতারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে উর্দুভাষী জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ বিভিন্ন ক্যাম্প ও সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যে বসবাস করছে। তাদের দাবি, মানবিক ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনার মাধ্যমে স্থায়ী পুনর্বাসন নিশ্চিত করা হলে এই জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি সমাজের মূলধারায় তাদের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button