স্থানীয় সংবাদ

রূপসায় ছেলে হত্যার দেড় মাস পর বাবাকেও গুলি করে হত্যা

স্টাফ রিপোর্টার : রূপসা উপজেলার আইচগাতি ইউনিয়নের দূর্জনীমহল এলাকায় ছেলে হত্যার দেড় মাসেরও কম সময়ের মধ্যে গুলি করে হত্যা করা হলো বাবা আক্তার ঢালীকে (৬০)। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নিজ বাড়ির সামনে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এর আগে গত ১৫ আগস্ট রাতে একই এলাকায় আক্তার ঢালীর ছেলে জয় ঢালীকে (২৭) কুপিয়ে হত্যা করা হয়। অল্প সময়ের ব্যবধানে একই পরিবারের বাবা ও ছেলেকে হত্যার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দুই হত্যাকা-ের মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্র ও স্বজনরা জানান, সোমবার সন্ধ্যায় আক্তার ঢালী বাড়ির সামনের রাস্তার পাশে একটি বেঞ্চে বসেছিলেন। এ সময় হঠাৎ গুলির শব্দ শোনা যায়। পরিবারের সদস্যরা বাইরে এসে তাকে বেঞ্চের পাশে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে স্বজনরা দ্রুত তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
বিষয়টি নিশ্চিত করে রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার জাহিদ বলেন, দুর্বৃত্তদের গুলিতে আক্তার ঢালী গুলিবিদ্ধ হন। স্থানীয়রা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। কারা এবং কী কারণে এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্মী মুরাদ জানান, আক্তার ঢালীর ডান পাশের কাঁধের গোড়ার দিকে গুলির আঘাত রয়েছে। একটি মূল গুলির আঘাতের পাশাপাশি শরীরে ছররা গুলির আঘাতও থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ১৫ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে রূপসার দুর্জনীমহলের শহীদের মোড় এলাকায় জয় ঢালীর ওপর হামলা চালায় ৪ থেকে ৫ জনের একটি দল। হেলমেট পরা দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেলে এসে তাকে কুপিয়ে জখম করে। এতে ঘটনাস্থলেই জয় ঢালীর মৃত্যু হয়। হামলার পর দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেলে করে দ্রুত পালিয়ে যায়।
জয়ের হত্যার রহস্যের মধ্যেই এবার তার বাবা আক্তার ঢালীও একই এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হলেন। ফলে দুই হত্যাকা-ের মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
পুলিশ বলছে, বিষয়টি তদন্তের পরই তা স্পষ্ট হবে।
আক্তার ঢালীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য প্রক্রিয়া চলছে। হত্যায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button