গিলাতলায় প্রফেসরের বিরুদ্ধে সরকারি রাস্তা দখল ও ২১ পরিবার অবরুদ্ধ

## প্রাচীর নির্মাণ ও বাঁশের বেড়া দেয়ায় কবরস্থানে লাশ নেওয়ার রাস্তা বন্ধ, কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা এলাকাবাসীর ##
স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনা ফুলতলা উপজেলার খানজাহান আলী থানাধীন গিলাতলা ৫ নং ওয়ার্ডের মিনাপাড়া ও মীরপাড়া এলাকায় সাধারণ মানুষের চলাচলের একমাত্র সরকারি রাস্তাটি বেআইনিভাবে প্রাচীর তুলে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নওয়াপাড়া কলেজের প্রফেসর মুন্সী আনোয়ারুজ্জামানের বিরুদ্ধে । এর ফলে এলাকার ২১টি পরিবারের শতাধিক মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এবং কবরস্থানে লাশ বহনের একমাত্র পথটি অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গিলাতলা মৌজায় অবস্থিত এই রাস্তাটি দিয়ে বিগত প্রায় ৪৪ বছর (চার যুগ) ধরে স্থানীয় বাসিন্দারা যাতায়াত করে আসছেন। উক্ত চলাচলের রাস্তাটি সরকারি জমির ওপর অবস্থিত, যা তৎকালীন সময়ে নওয়াপাড়া কলেজের প্রফেসর মুন্সী আনোয়ারুজ্জামানের পিতা মরহুম মুন্সী মোসলেম উদ্দিন এবং তাঁর চাচা মরহুম মুন্সী মতলেব উদ্দিন এলাকাবাসীর যাতায়াতের সুবিধার্থে তৈরি করে দিয়েছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি প্রফেসর মুন্সী আনোয়ারুজ্জামান সরকারি জমি নিজের দখলে নেওয়ার উদ্দেশ্যে রাস্তাসহ ইটের সীমানা প্রাচীর ও বাঁশ এবং কুঞ্চির বেড়া নির্মাণ করে ২১টি পরিবারের চলাচলের পথটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেন। রাস্তাটি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় বৃদ্ধ, মুমূর্ষু রোগী ও স্কুলগামী শিক্ষার্থী এবং শিশুরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। এলাকার কোনো ব্যক্তি মারা গেলে পুরাতন কবরস্থানে লাশ নিয়ে যাওয়ার আর কোনো বিকল্প পথ নেই। স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানান, বেআইনি সীমানা প্রাচীর ও বাঁশ এবং কুঞ্চির বেড়া নির্মাণে বাধা দিতে গেলে তিনি ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে জোরপূর্বক কাজ সম্পন্ন করেন। এ ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী ২১টি পরিবারের সকল সদস্যদের স্বাক্ষরিত আবেদন খুলনা জেলা প্রশাসক বরাবর সরকারি রাস্তা দখল মুক্তকরণ এবং অবরুদ্ধ পথ উন্মুক্ত করার আকুল আবেদন জানিয়েছেন। আবেদনপত্রের অনুলিপি খুলনা পুলিশ কমিশনার, ফুলতলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও), খানজাহান আলী থানার ওসি এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে প্রদান করা হয়েছে। অন্যদিকে, উক্ত ঘটনায় মিনা ফারুক হোসেন বাদী হয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, খুলনায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৩৩, ১৩৯(ক) ও ১৪৭ ধারায় একটি নালিশি আবেদন (মামলা নং: এম,পি-৫২৩/২৬) করেন। মামলার প্রেক্ষিতে আদালত কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেন এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে খানজাহান আলী থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে সরেজমিন তদন্তপূর্বক স্কেচম্যাপসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দেওয়া হয়েছে (স্মারক নং- এডিএম/খুলনা-৯২৫৮)। অনতিবিলম্বে সরকারি জমি হতে অবৈধ সীমানা প্রাচীর উচ্ছেদ করে ২১টি পরিবারের চলাচলের একমাত্র পথ ও কবরস্থানের রাস্তা দ্রুত উন্মুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপের দাবি ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর।


