দিঘলিয়ায় চাঞ্চল্যকর নাসিম হত্যাকান্ড

সিসি টিভি ফুটেজে দু’জন নেপথ্যে অনেকে সাহায্যকারী পথে পথে ওসি মাসুম ক্লোজড
দিঘলিয়া প্রতিনিধি ঃ প্রকাশ্য দিবালোকে বাড়ির সামনে চায়ের দোকানে চরমপন্থী নেতা নাসিমুল গণি নাসিম হত্যার কোন মোটিভ ৪ দিনেও উদ্ধার হয়নি। দিঘলিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ মাসুম ক্লোজড। ঘটনার পর থেকে হত্যার রহস্য উন্মোচনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।
এরই মধ্যে গত সোমবার রাতে নাসিমের স্ত্রী মোসাঃ সেলিনা খাতুন বাদি হয়ে ৪ জনের নাম ঠিকানা উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত অনেককে আসামী করে দিঘলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং-৪ তারিখ ০৫/১০/২০২৬ইং।
পুলিশ ও বিভিন্ন সুত্র থেকে জানা গেছে, দিঘলিয়ার চাঞ্চল্যকর নাসিম হত্যার সাথে সম্পৃক্ত দু’জনকে সিসি টিভি ফুটেজে প্রাথমিক ভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। হত্যার রহস্য উন্মোচন ও আসামীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করলেও অদ্যবধি কাউকে আটক করতে পারেনি।
গতকাল বিকালে দিঘলিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ হাওলাদার সানোয়ার হোসেন মাসুমকে আকস্মিক ভাবে পুলিশ থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে যুক্ত করা হয়েছে। তবে কি কারণে ওসি মাসুমকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে তা জানা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা মতে হত্যাকান্ডের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত ২জন লুঙ্গিপরিহিত অবস্থায় একটি ভ্যানে করে ঘটনাস্থলে নেমে গুলি করতে করতে দোকানের মধ্যে ঢুকে পড়ে। দোকানের ভেতরে বসা নাসিমকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে দুর্বৃত্তরা ওই ভ্যানে করে নির্বিঘেœ চলে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ননার মতো ছবি সিসি টিভি ফুটেজ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। এরকম দু’ব্যক্তি একটি ভ্যানে খালি পায়ে লুঙ্গি পরিহিত ছিল। পুলিশ ওই দু’ব্যক্তির সন্ধানে মাঠে নেমেছে।
এদিকে নাসিম হত্যাকান্ডে স্ত্রী সেলিনা খাতুনের দায়েরকৃত মামলায় ৪ জন নামীয় আসামী অনককে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। এজাহারে যে ৪ জনের নাম উল্লেখ আছে তাদের মধ্যে দুইজন রয়েছে ভ্যানে করে আসা এবং নাসিমকে লক্ষ্য করে গুলি করা ঘাতক।
এব্যাপারে দিঘলিয়া থানার ওসি (তদন্ত) শুভ্র প্রকাশ দাস বলেন, হত্যা রহস্য উদঘাটনে পুলিশ নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে কাজ করছে। আশা করি খুব দ্রুতই হত্যাকান্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে। সে লক্ষ্য নিয়ে পুলিশ কাজ করছে।
দিঘলিয়া থানা নবাগত অফিসার ইনচার্জ অরুপ কুমার চৌধরী এ প্রতিবেদককে জানান, হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত অপরাধীদের গ্রেফতারের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।
ইতোমধ্যে চাওর হতে শুরু করেছে রাজনৈতিক ও সামাজিক কারণের সমন্বয়ে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। মূল ঘটনাকে আড়াল করার জন্যই ঘাতকরা মোবাইলে হুমকির ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে কারণ যাই হোক না কেন চিহ্নিত সশস্ত্র ঘাতকরা গ্রেফতার করতে পারলেই সকল রহস্য উন্মোচন হবে। ভ্যানযোগে ২ ঘাতক হত্যাকান্ড সংঘটিত করলেও হত্যার মিশনে বিভিন্ন পয়েন্টে আরও লোক ছিল। অপরদিকে অপরাধীদের নানাভাবে সাহায্য করার কাজে পথে পথে লোক দাঁড়িয়ে ছিল এমনটাই জনশ্রুতি রয়েছে।
উল্লেখ্য গত রবিবার বেলা পৌনে ১২টায় দিঘলিয়া উপজেলার ফরমাইশখানা গ্রামে নিজ বাড়ির সামনে তৈয়েব আলীর চায়ের দোকানের ভেতর চরমপন্থী দলের এক সময়ের আলোচিত নেতা নাসিমুল গণি নাসিমকে দুর্বৃত্তরা প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে। হত্যার পর পরই সংবাদ পেয়ে দিঘলিয়া থানা ও সেনহাটি পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ, পুলিশের ক্রাইম সিন টিম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ সার্কেল সাইফুল ইসলাম, খুলনা ডিবি পুলিশ ও এসআরবি টিম একে একে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।



