রামপালে হচ্ছে ২৪৯৮ কোটি টাকার বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প

একনেকে ৪৪২ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন
প্রবাহ রিপোর্ট : বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলায় বড় আকারের একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। বাগেরহাটের রামপাল এলাকায় ৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই পিক সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৯ সাল।
এদিকে, বুধবার (৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ একনেকে ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়।
রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট পিক সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে ২ হাজার ৪৯৮ কোটি ৭ লাখ ৯৩ হাজার টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রকল্প ঋণ ও অনুদান থেকে ২ হাজার ১২৩ কোটি ৩৬ লাখ ৭৪ হাজার টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ৩৭৪ কোটি ৭১ লাখ ১৯ হাজার টাকা ব্যয় হবে। প্রকল্পটি ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৯ সালের মার্চ পর্যন্ত বাস্তবায়নের কথা রয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নেওয়া এই প্রকল্প বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) বাস্তবায়ন করবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রামপালের এই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হতে পারে।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস, কয়লা ও তেলের মতো জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্য ওঠানামা, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত চাপের কারণে নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে ঝুঁকছে বিশ্বের অনেক দেশ। বাংলাদেশও সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সৌর, বায়ু ও অন্যান্য পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।
রামপাল সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য উৎসের অংশ বাড়ানো এবং কার্বন নিঃসরণ কমানো। বিশেষ করে সুন্দরবনসংলগ্ন এই অঞ্চলে পরিবেশগত বিষয় বিবেচনায় নিয়ে জীবাশ্ম জ্বালানির বিকল্প হিসেবে সৌরবিদ্যুৎকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রস্তাবিত প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ হাজার ৫০২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। তবে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) পর্যালোচনায় কিছু খাতে প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয় কমিয়ে চূড়ান্ত ব্যয় ২ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ খাত উন্নয়ন তহবিল থেকে প্রায় ২ হাজার ১২৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা এবং বিউবোর নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ৩৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পের বিদ্যুৎ উৎপাদন ট্যারিফ নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি ইউনিট ৬ টাকা ১৮ পয়সা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অন্যান্য অনেক বিদ্যুৎ প্রকল্পের তুলনায় এই উৎপাদন ব্যয় তুলনামূলক প্রতিযোগিতামূলক। তবে ভোক্তারা প্রকৃত সুবিধা পাবেন কি না, তা নির্ভর করবে বিদ্যুৎ কেনার চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারণ এবং পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার ওপর।
রামপালে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য আগে থেকেই জমির ব্যবস্থা করা হয়েছে। ২০১২ সালে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বাগেরহাটের রামপালে মোট ১ হাজার ৮৩৪ একর জমি অধিগ্রহণ করে। এই জমির একটি অংশে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ উদ্যোগের মৈত্রী সুপার থার্মাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে। বাকি অংশের একটি বড় অংশ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য ব্যবহার করা হবে।
প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই অনুযায়ী, রামপালের ব্লক-বি এলাকার প্রায় ৬৮৫ একর জমিতে ৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা সম্ভব হবে। জমিতে বড় ধরনের অতিরিক্ত উন্নয়ন কাজের প্রয়োজন না থাকায় নির্মাণ ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের জন্য সৌরবিদ্যুৎ একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনাময় খাত। দেশের ভৌগোলিক অবস্থান এবং বছরের অধিকাংশ সময় পর্যাপ্ত সূর্যালোক থাকার কারণে সৌরশক্তি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। তবে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে জমি, বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা এবং উৎপাদিত বিদ্যুতের কার্যকর ব্যবস্থাপনা।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ চাহিদা আগামী বছরগুলোতে দ্রুত বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইন্টিগ্রেটেড এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী, ২০৩০ সালে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা ২৯ হাজার ২৫৭ মেগাওয়াট, ২০৪১ সালে ৫৮ হাজার ৫৯৭ মেগাওয়াট এবং ২০৫০ সালে ৯৬ হাজার ৭৬৭ মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে।
অন্যদিকে, বর্তমানে দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ এখনো সীমিত। এই পরিস্থিতিতে সরকার ২০২৫ সালের নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালায় ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
রামপালের মতো বড় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প এই লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করতে পারে। একই সঙ্গে এটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়াতে এবং আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার চাপ কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে প্রকল্পটির বাস্তব সুবিধা নিয়ে কিছু প্রশ্নও রয়েছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ালেই হবে না, বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ, ক্রয় প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং ভোক্তাদের কাছে সুবিধা পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করছে, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকার বিভিন্ন সুবিধা দিলেও তার সুফল যেন শুধু বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ কম খরচে উৎপাদিত বিদ্যুৎ যদি ভোক্তার জন্য সাশ্রয়ী না হয়, তাহলে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য অনেকাংশে ব্যাহত হতে পারে।
সব মিলিয়ে রামপালের ৪৪২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে এটি একদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন উৎস যোগ করবে, অন্যদিকে নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে দেশের দীর্ঘমেয়াদি রূপান্তরের পথ আরও শক্তিশালী করবে। তবে প্রকল্পের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং সাধারণ মানুষের জন্য এর বাস্তব সুফল নিশ্চিত করার ওপর।
একনেক রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ একনেকে ১৩ প্রকল্প অনুমোদন : জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় মোট ১৬ হাজার ২০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ৬০০ কোটি ৮০ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ৪ হাজার ৮১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১ হাজার ৫২৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ১০টি নতুন, দুটি সংশোধিত এবং একটি মেয়াদ বৃদ্ধির প্রকল্প রয়েছে।
সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, মহিলা ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, শিল্প, বস্ত্র ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানি সম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যয় ধরা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের দ্বিতীয় সংশোধনে। এ প্রকল্পে ব্যয় ১ হাজার ৩১০ কোটি ৪০ লাখ টাকা বাড়িয়ে মোট ৭ হাজার ৩৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা করা হয়েছে। প্রকল্পটির মূল ব্যয় ছিল ৩ হাজার ৪৬৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা। প্রথম সংশোধনে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪ হাজার ৪১৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং দ্বিতীয় সংশোধনে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫ হাজার ৭২৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা। এবার আরও ১ হাজার ৩১০ কোটি ৪০ লাখ টাকা বাড়ানো হয়েছে। প্রকল্পটির পুরো অর্থই সরকারি অর্থায়নে ব্যয় হবে।
সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও নওগাঁ জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে ৩ হাজার ৭৬৭ কোটি ৫০ লাখ টাকার নতুন একটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রকল্পটির পুরো অর্থ সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে দেয়া হবে। ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের সক্ষমতা সম্প্রসারণে ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহে ২ হাজার ৭৬৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকার নতুন প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৮১১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ১ হাজার ৯৫৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ১ থেকে ৮ নম্বর জোনের রাস্তা, নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণে ২ হাজার ৫৮৬ কোটি ৯৯ লাখ টাকার নতুন প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ২ হাজার ১৯৮ কোটি ৯৪ লাখ ১৫ হাজার টাকা এবং সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব অর্থায়ন ৩৮৮ কোটি ৪ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত নতুন পাঁচটি অঞ্চলের ১৮ ওয়ার্ডের সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে ৭৮৪ কোটি ৪৯ লাখ ৮৭ হাজার টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৫৪৯ কোটি ১৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং ডিএসসিসির নিজস্ব অর্থায়ন ২৩৫ কোটি ৩৪ লাখ ৯৭ হাজার টাকা। প্রকল্পটি ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হবে।
রংপুর সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়নে ১ হাজার ৬০২ কোটি ৭৯ লাখ ৩ হাজার টাকার নতুন প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১ হাজার ১২১ কোটি ৯৫ লাখ ৩২ হাজার টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৪৮০ কোটি ৮৩ লাখ ৭১ হাজার টাকা। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
এ ছাড়া রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা পুনর্বাসনে ২১০ কোটি ৪৯ লাখ ২৮ হাজার টাকার নতুন প্রকল্প নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১৬৮ কোটি ৩৯ লাখ ৪২ হাজার টাকা এবং সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব অর্থায়ন ৪২ কোটি ৯ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) জন্য ৩৫টি বাণিজ্যিক ও ৮টি সহায়ক জলযান সংগ্রহ এবং দুটি নতুন স্লিপওয়ে নির্মাণ প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধন অনুমোদন করা হয়েছে। এতে ব্যয় ৭৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা বাড়িয়ে মোট ব্যয় ২ হাজার ১৬৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ২ হাজার ৬০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১০৮ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। একই সঙ্গে প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
ফ্রান্সের প্যারিসে ক্রয় করা চ্যান্সারি ভবন ব্যবহারোপযোগী করতে সংস্কার ও আধুনিকায়নে ২১১ কোটি ৩০ লাখ টাকার নতুন প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রকল্পটির পুরো অর্থ সরকারি অর্থায়নে ব্যয় হবে। এর বাস্তবায়নকাল ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত।
পঞ্চগড়ের ভজনপুর থেকে পঞ্চগড় সড়কের ১৫তম কিলোমিটারে দ্বিতীয় করতোয়া সেতু নির্মাণে ২০৩ কোটি ৫২ লাখ ৬৬ হাজার টাকার নতুন প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর পুরো অর্থ সরকারি অর্থায়ন থেকে ব্যয় করা হবে। প্রকল্পটি ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়নের কথা রয়েছে।
থানচি-রিমাকরি-মদক-লিকরি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনও অনুমোদন করা হয়েছে। এতে ৩৬ কোটি ৫০ লাখ ৩২ হাজার টাকা ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। ফলে প্রকল্পটির মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৯২৬ কোটি ১২ লাখ ৩২ হাজার টাকা। প্রকল্পটির মূল ব্যয় ছিল ৪৬৯ কোটি ৫৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। প্রথম সংশোধনে ব্যয় বেড়ে ৮৫৩ কোটি ১২ লাখ টাকা এবং দ্বিতীয় সংশোধনে ৮৮৯ কোটি ৬২ লাখ ৩২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এবার আরও ৩৬ কোটি ৫০ লাখ ৩২ হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পটির মেয়াদ চতুর্থবার বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।
সমবায়ের মাধ্যমে নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে ১৮৪ কোটি ৮৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকার নতুন প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। প্রকল্পটির পুরো অর্থ সরকারি অর্থায়নে ব্যয় হবে। ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা রয়েছে।
এ ছাড়া পরিকল্পনা মন্ত্রীর মাধ্যমে ইতোমধ্যে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের একটি প্রকল্প সম্পর্কে একনেককে অবহিত করা হয়েছে। এর মধ্যে জয়পুরহাট জেলার নন্দাহার, হারাবতী নদী, নুনগোলা খাল এবং খাড়োয়া খাল পুনঃখনন প্রকল্প রয়েছে।



