স্থানীয় সংবাদ

কেসিসিসহ খুলনায় আজ থেকে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু

# ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে কোন বৈষম্যের সুযোগ নেই ঃ কেসিসির প্রশাসক #

স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) এলাকায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ বিষয়ক অবহিতকরণ প্রেস কনফারেন্স সোমবার বিকেলে কেসিসির শহিদ আলতাফ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে খুলনাপ্রান্ত থেকে ঢাকায় তথ্য অধিদফতরের সম্মেলনকক্ষে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মোঃ জাহিদ হোসেন এবং প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীনের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় প্রেস কনফারেন্সে অনলাইনে সকল অতিথিসহ অংশগ্রণকারীরা যুক্ত হন। মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী এসময় ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। খুলনা প্রান্তের প্রেসকনফারেন্সে কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে কোন বৈষম্যের সুযোগ নেই। তথ্য সংগ্রহককারীরা ট্যাবের মাধ্যমে তথ্য ইনপুট দিলে তা কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে যুক্ত হবে। তিনি বলেন, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের আওতায় ১ হতে ৩১ নং ওয়ার্ড এর মধ্যে ২ নং ওয়ার্ড ৩ নং ওয়ার্ড ও ১২ নং ওয়ার্ড (আংশিক), ১৬নং ওয়ার্ড, ১৭ নং ওয়ার্ড (আংশিক), এবং ২৯নং ওয়ার্ড, ৩০ নং ওয়ার্ড (আংশিক) এ প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। উক্ত ওয়ার্ড সমূহের জন্য মোট ৬০ টি ট্যাব পাওয়া গিয়েছে। পরবর্তিতে ট্যাব পাওয়া সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে বাকিদের প্রশিক্ষণ ও তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হবে। এর মধ্যে ২, ৩ ও ১২ নং ওয়ার্ড খুলনা-৩ আসনের অন্তর্ভুক্ত এবং ১৬, ১৭ ২৯ ও ৩০ নং ওয়ার্ড খুলনা-২ আসনের অন্তর্ভুক্ত। তিনি আরও বলেন, খুলনা-৩ আসনের আওতাধীন (শহর সমাজসেবা কার্যালয়-৩) ১ হতে ১৫ নং ওয়ার্ডে রিজার্ভসহ মোট ১১৭ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ১২ জন সুপারভাইজার নিয়োজিত করা হয়েছে এবং খুলনা-২ আসনের আওতাধীন (শহর সমাজসেবা কার্যালয়-১) ১৬, ১৭, ১৮,১৯, ২০,২৫ ও ২৬ নং ওয়ার্ডে রিজার্ভসহ মোট ৮৪ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ৯ জন সুপারভাইজার এবং (শহর সমাজসেবা কার্যালয় ২) ২১, ২২, ২৩, ২৪, ২৭, ২৮,২৯, ৩০ ও ৩১ নং ওয়ার্ডে রিজার্ভসহ মোট ১০৪ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ১০ জন সুপারভাইজার নিয়োজিত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, আজ থেকে দেশব্যাপী একযোগে সকল এলাকায় খানা বা পরিবারের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড খানা তথ্যভান্ডার এর তথ্য সংগ্রহ নির্দেশিকা ২০২৬ প্রণয়ন করা হয়েছে। তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের জন্য ৬৬ হাজার ৮১৫ জন্য তথ্য সংগ্রহকারী ও ৬ হাজার ৬৮১ জন সুপারভাইজার নিয়োজিত করা হয়েছে। কর্মীগণ মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বিশেষায়িত ট্যাবলেট ডিভাইস এর মাধ্যমে প্রতিটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করবে এবং সংগৃহীত তথ্য সরাসরি অনলাইন ডেটাবেইজে ইনপুট করবে। এ পদ্ধতিতে ডিসেম্বর, ২০২৬ এর মধ্যে দেশব্যাপী আনুমানিক ৪.৪৫ কোটি পরিবারের (প্রতি ৫ জন সদস্য মিলে একটি পরিবার) তথ্য সংগ্রহ ও ডেটাবেইজে ইনপুট প্রদান করা হবে। পিএমটি পদ্ধতিতে ডেটাবেইজ হতে যোগ্য উপকারভোগী নির্বাচন সম্পন্ন হবে। বর্তমান অর্থবছরে নতুন ৪০ লাখ নারী পরিবার প্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফ্যামেলি কার্ড কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ‘ফ্যামেলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা’ ২০২৬ প্রণয়ন করা হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো কর্তৃক হালনাগাদকৃত প্রক্সি মিন টেস্ট (পিএমটি) পদ্ধতিতে দেশের সকল পরিবার কে আর্থ-সামাজিক পেক্ষাপটে ৫টি কোয়ান্টইলে (অতিদরিদ্র, দরিদ্র, ঝুঁকিপূর্ণ নি¤œবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত) বিভাজন করা হয়েছে। সকল নারী পরিবার প্রধান ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। তবে শুধু ১ম ,২য় এবং ৩য় কোয়ান্টইলভুক্ত (নি¤œ স্কোর প্রাপ্ত পরিবার) নারী পরিবার প্রধান ভাতা পাবেন। খুলনা সিটি কর্পোরেশন ও শহর সমাজসেবা কার্যালয় (১, ২ ও ৩) আয়োজিত প্রেস কনফারেন্সে কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, সচিব মো: রেজা রশিদ, বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক অনিন্দিতা রায়, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাসহ গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button