স্থানীয় সংবাদ

শ্রমিক লীগ নেতা ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি জিয়াউল ৫ আগস্ট পরবর্তী আত্মগোপনে খুলনায়

# করছে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র, সহযোগিতা করছে মাদক ব্যবসায়ীদের
# জিয়াগং’-এর বিরুদ্ধে মাদকবিরোধী আন্দোলনের বিএনপি নেতাকর্মীদের দমনে মামলা
# বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণেœ পরিকল্পিত অপতৎপরতার অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টারঃ ঢাকার ভাটারা থানা শ্রমিক লীগের নেতা হিসেবে পরিচিত জিয়াউল হক জিয়া এবং তাঁর স্ত্রী, মহিলা লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রোজিনা সুলতানার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ৫ আগস্ট ঢাকা ছেড়ে খুলনায় আত্মগোপনে খানজাহান আলী থানাধীন গিলাতলা দক্ষিণপাড়ায় অবস্থান করে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র ও মাদক ব্যবসায়ীদের সহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে তারা বিএনপি’র ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে এবং এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের প্রতিষ্ঠিত করতে কাজ করছে। তাঁরা এলাকার মাদকবিরোধী অবস্থানকারী বিএনপির একাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দায়েরসহ বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, মাদকবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় নেতাকর্মীদের দমিয়ে রাখা এবং বিএনপির অভ্যন্তরে বিভেদ সৃষ্টির মাধ্যমে দলটির ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করার উদ্দেশ্যে একটি পরিকল্পিত তৎপরতা চালানো হচ্ছে। এ তৎপরতার পেছনে জিয়াউল হক জিয়া ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের ভূমিকা রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মাদকবিরোধী আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনা ঃ
স্থানীয় সূত্রের দাবি, গিলাতলা দক্ষিণপাড়ায় মাদকবিরোধী তৎপরতা জোরদার হওয়ার পর আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ঘটনা এলাকায় উদ্বেগ তৈরি করেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, মাদকসংক্রান্ত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের পরিবর্তে আন্দোলনকারীদের হয়রানি করা হচ্ছে। এসব ঘটনায় কারা জড়িত এবং মামলাগুলোর পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণেœর পরিকল্পনার অভিযোগ ঃ অভিযোগকারীদের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি এবং তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে। তাঁদের ভাষায়, ‘জিয়াগং’ নামে পরিচিত একটি গোষ্ঠী বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। তবে এই অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এদিকে, অভিযোগকারীরা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয়, মাদকসংক্রান্ত অভিযোগ এবং বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। তাঁরা প্রশাসনের কাছে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। জিয়াউল হক জিয়া, রোজিনা সুলতানা এবং সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য, মামলার নথি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা যুক্ত করা হবে। উল্লেখ্য খুলনার খানজাহান আলী থানাধীন শিরোমণি ও গিলাতলা এলাকায় অর্থ আত্মসাৎ, প্রতারণা, হুমকি ও চাঁদা দাবির অভিযোগে জিয়াউল হক জিয়া ও তাঁর স্ত্রী রোজিনা সুলতানাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে আদালতে নালিশি মামলা করা হয়েছে। মামলা নম্বর সি.আর. ৬০৯/২০২৫।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button