স্থানীয় সংবাদ

পিটিয়ে মারার উদ্দেশ্য ছিল না : দুর্ঘটনাবশত হয়েছে

# সাতক্ষীরায় শামীম হত্যা মামলার আসামি #

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ঃ ‘পিটিয়ে মারার উদ্দেশ্য ছিল না, দুর্ঘটনাবশত হয়ে গেছে’। সাতক্ষীরার দেবহাটায় ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে পিটিয়ে হত্যার মামলার প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনী গ্রেপ্তারের পর সাংবাদিকদের কাছে এমন দাবি করেছেন। হত্যাকা-ের ঘটনায় অনুতপ্ত কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অনুতপ্ত নই’। শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে কালীগঞ্জ উপজেলা থেকে আমিনীকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি-৬। পরে রোববার দুপুরে সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিকেল ৪টার দিকে তাকে আদালতে পাঠায় পুলিশ। থানায় হস্তান্তরকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আমিনী বলেন, ‘আইনের দৃষ্টিতে আমি অপরাধী। যে কাজটি করেছি, আপনারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছেন। আল্লাহ পাক ফয়সালা করবেন। পিটিয়ে মারার উদ্দেশ্য ছিল না, দুর্ঘটনাবশত হয়ে গেছে।’ শামীমকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় অনুতপ্ত কি না জানতে চাইলে আমিনী বলেন, ‘অনুতপ্ত নই। সে যে ওভাবে নাস্তিক ছিল, আমরা ধারণা পাইনি। বিভিন্ন দেশ থেকে নাস্তিকেরা যেভাবে মোবাইল করে হুমকি দিয়েছে, তাতে নিশ্চিত হয়েছি, সে নাস্তিক ছিল।’ দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচএম শাহীন বলেন, ফজলুল হক আমিনী হত্যাকা-ে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেবেন বলে জানিয়েছেন। এ কারণে তাকে রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন নেই বলে মনে করছে পুলিশ। গত ১৩ অক্টোবর সাতক্ষীরার দেবহাটায় ইসলাম ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে দুই দফায় গণপিটুনি দেওয়া হয়। প্রথমে স্থানীয় একটি বাজারে তাকে মারধর করা হয়। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। ওই রাতেই একদল লোক হাসপাতালে ঢুকে তাকে আবারও মারধর করে। পরে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই আবদুল জলিল ১৫ অক্টোবর দেবহাটা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়। ফজলুল হক আমিনী মামলার এজাহারভুক্ত এক নম্বর আসামি। এ মামলায় এজাহারনামীয় তিনজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button