স্থানীয় সংবাদ

নৈহাটী ভূমি অফিসের নায়েবের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল, নিন্দার ঝড়

বিতর্কিত নায়েব জালালের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়!
অসহায় বৃদ্ধের পাওনা পরিশোধ এবং চাকরিতে বহালের দাবি

স্টাফ রিপোর্টার : তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে খুলনার রূপসায় নৈহাটী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অস্থায়ী কর্মচারী হাবিবুর রহমানকে বেতন না দিয়ে বের করে দেওয়ায় স্থানীয় পত্রিকা ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে। মূলহোতা ভুমি অফিসের নায়েব জালালের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টের কমেন্টে বিভিন্ন পেশার মানুষ সরাসরি মন্তব্য লিখেছেন। এমনকি তাঁর সহকারী রবিউল ও কথিত সহকারী আব্দুর সবুরের বিরুদ্ধেও একইভাবে মন্তব্য করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক আইডিতে প্রকাশিত সংবাদের পোস্টের কমেন্টে এসব মন্তব্য করা হয়।
যেসব ব্যক্তিরা মন্তব্য করেছেন তারা হলেন, মনির আহমেদ লিখেছেন, “হাবি কাকা” একজন নিরীহ মানুষ। ঘুষখোর ও বাটপার নায়েব শুধু চাকরি খায়নি, বরং এই নিরীহ হাবি কাকার কষ্টে অর্জিত সরকারি খাস জমির হলুদ বাগান, কচু বাগান, সজিনা ও কালোজাম সব খেয়ে ফেলেছে। এই বৃদ্ধ প্রতিবাদ করায় তাকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি তদন্ত করে বৃদ্ধকে পুনরায় চাকরিতে বহাল, বকেয়া বেতন প্রদান এবং নায়েব চোরের বিচারের জোরালো দাবি জানিয়েছেন।
মুহাম্মদ নূরুজ্জামান মন্তব্যে নায়েবের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন এবং এই বৃদ্ধ লোকটির চাকরি ও পাওনা পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন।
আসাদ হালদার মন্তব্য লিখেছেন, ওকে অর্থাৎ নায়েবকেও বের করে দেওয়া উচিত।
আরাফাত হুসাইন মন্তব্য করেছেন, “এই মুরব্বী একজন ভালো লোক, ওই খানে বাচ্চা-কাচ্চারা খেলাধুলা করে। উনি অফিস টাইম ব্যতীত দেখাশোনা করেন, বাচ্চাদের অনেক ভালোবাসেন, শুনলাম নায়েব সাহেব নাকি উনাকে অফিস থেকে বের করে দিয়েছেন। আগে পরে নায়েবের অনেক রিপোর্ট দেখছি। উনি একটা ঘুষখোর। আওয়ামী লীগের আমলে উনি নেতাদের পা চেটে চলতেন। এখনো পা চেটেই চলেন। মাঝে একদিন দেখলাম এই হাবি কাকার সঙ্গে অনেক খারাপ ব্যবহার করতেছে। এই মুরব্বি হাবিব কাকার কোন দোষ নেই। ওনাকে শুধু শুধু বের করে দেওয়া হয়েছে। তাই ওপরের মহলকে বলব আপনারা এই ঘুষখোর নায়েবের বিচার করুন।
নুসাইব ইবনে শহিদুল ফরাজী নামের একজন লিখেছেন, ‘হাবি কাকা’ নামের এক নিরীহ মানুষকে একজন ঘুষখোর নায়েব শুধু চাকরি থেকেই কেড়ে নেননি, বরং তাঁর কষ্টের সরকারি খাসজমিতে লাগানো হলুদ বাগান, কচুবাগান, সজিনা ও কালোজাম গাছের ফলও ভোগ করেছেন। প্রতিবাদ করায় তাঁকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্ত ও অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করার বিচার দাবি করা হয়েছে।
শেখ সুমন নামের অন্য একজন মন্তব্য করেছেন, তার ১৫’শ টাকার খাজনার জায়গায় ৭ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে এবং নায়েবের সহকারী রবিউল সবার থেকে বেশি খারাপ।
রিশা উদ্দিন নামের আরেকজন মন্তব্য করেছেন, “অসহায় মানুষটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ ভাই।
শেখ সোহাগ মন্তব্য করেছেন, এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। সমাজে এই নায়েবের মতন মানুষরা সমাজকে নষ্ট করছে, এনার শাস্তি হওয়া উচিত আইন অনুযায়ী। কিন্তু দেশের আইন তো খুব দুর্লভ। কিন্তু জেনে রাখো বিচার হবে টুডে টুমোরো।
রফিকুল ইসলাম লিখেছেন, “নায়েবের বিরুদ্ধে সঠিক তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
জাহিদুল ইসলাম রাজ লিখেছেন, “একটা নিরিহ মুরুব্বি মানুষের উপর এটা খুব ই অন্যায় হয়েছে।
নায়েব (সাহেব) ও তার সাগরেত কাকে বলে,ও কি কি.?? যেমন: তারা অফিসে আসার সময় খালি (পকেট/ব্যাগ) নিয়ে আসে, ম্যাজিকালি যাবার আগেই (পকেট/ব্যাগ) গুলি ১ হাজার নোটে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। এটাই তাদের ম্যাজিকালি পাওয়ার। নায়েব সাহেবের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও এক মুরুব্বি ব্যক্তির ওপর অন্যায় করার অভিযোগ তুলে সঠিক তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থার দাবি জানানো হয়েছে।
রবিউল ইসলাম লিখেছেন, নায়েবরা সব ফেরেস্তাতুল্ল! এদের বিরুদ্ধে কি আবার অভিযোগ ?
উল্লেখ্য, এর আগে খুলনার দাকোপ উপজেলার বাকারপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নায়েব মো. জালাল হোসেন থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি, অনিয়ম এবং সেবাপ্রার্থীদের হয়রানির অভিযোগে সোস্যাল মিডিয়ায় ভিডিও সংবাদ প্রকাশিত হয়। সেই প্রকাশিত ভিডিওটি ব্যাপক ভাইরাল হয়। যেটির প্রমাণ এখনও রয়েছে। এমনকি সেবা গ্রহীতাদের নানাভাবে জিম্মি করে এবং বিভিন্ন কাজের জন্য নিয়মিত মোটা অঙ্কের উৎকোচ বা ঘুষ নেওয়া অভিযোগ উঠে আসে। সেখানে নামজারি (মিউটেশন) ও অন্যান্য ফি বাবদ সরকারি নির্ধারিত ফির চেয়ে অতিরিক্ত হাজার হাজার টাকা আদায় করা হয়। এমনকি ভুয়া কাগজপত্র বা জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরি নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে বছরের পর বছর ধরে দুর্নীতি চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছিলো। স্থানীয় জনগণ ও সেবাপ্রার্থীরা তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়ে তাকে বাধ্যতামূলক বদলি বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন।
রূপসার নৈহাটি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নায়েব জালাল হোসেন বদলি হয়ে এসেও থেমে নেই একই দুর্নীতি, অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ এবং সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি। এছাড়া তার দুই সহকারীর বিরুদ্ধেও রয়েছে নানা ধরনের অভিযোগ। এমনকি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বৃদ্ধ অসহায় অস্থায়ী কর্মচারী হাবিবুর রহমানকে অন্যায়ভাবে জোর পূর্বক অফিস থেকে পরিকল্পিত ভাবে বের করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এই নায়েব জালালের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সোমবার (১৯ অক্টোবর) রূপসা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর ন্যায়বিচারের দাবিতে তিনি লিখিত আবেদন করেন।
এদিকে, ভুক্তভোগী অসহায় অস্থায়ী কর্মচারী বৃদ্ধ হাবিবুর রহমানের চাকরি ও পাওনা পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
অভিযোগের বিষয়টি জানতে নৈহাটী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) মো. জালাল হোসেনের মুঠো ফোনে কল করা হলে রিসিভ হয়ে কেটে যায়। পরে একাধিকবার ফোন করা হলেও সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায়। তিনি পরে ফোন চালু করলে আবার তাকে ফোন করলে সংযোগটি কেটে দেন।
রূপসা উপজেলা ভূমি অফিসের প্রধান সহকারী (বড় বাবু) এ, কে, এম আবু জাফর মল্লিক বলেন, অভিযোগের বিষয়টি ফেসবুক ও পত্রিকায় দেখেছি। হাবিবুর রহমানকে মাসে ৩ হাজার টাকা দেওয়া হতো। এখন বরাদ্দ নেই বলে তিনি বেতন পাচ্ছেন না। তিনি একজন অসহায় মানুষ বিধায় ভূমি অফিসের সামনে পরিত্যক্ত জমিতে কিছু ফসল উৎপাদন করে তার জীবন-জীবিকা পরিচালনা করে আসছেন বলে আমি জানি।
তিনি আরও বলেন, নায়েবের সাথে কি হয়েছে এটা আমি জানি না। তবে জানতে পেরেছি তিনি একটি লিখিত অভিযোগ ইউএনও স্যার বরাবর দিয়েছেন।
এ বিষয়ে রূপসা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রিফাতুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের কপি হাতে পেলে তদন্ত করে সত্যতা প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button