দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লংমার্চ হবে রাজপথে জনতার এক অভাবনীয় ও স্মরণীয় গণজাগরণের প্রতীক —মোবারক হোসাইন

খুলনা মহানগরী ও জেলা জামায়াতের দায়িত্বশীল সমাবেশ
খবর বিজ্ঞপ্তি : আগামী ৩১ অক্টোবর ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চকে সর্বাত্মকভাবে সফল করার জন্য খুলনা মহানগরী ও জেলার প্রতিটি স্তরে সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার করার আহবান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক মোবারক হোসাইন। তিনি বলেন, দেশ ও জাতি এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। দেশের সাধারণ মানুষ, কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র-জনতা আজ তাদের মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে পাওয়ার জন্য প্রহর গুনছে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে, শাসন-শোষণ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আজ এ দেশের মানুষ সোচ্চার ও ঐক্যবদ্ধ। তিনি বলেন, রাজপথকে জনতার সমুদ্রে রূপান্তর করতে হবে। সকল বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে শৃঙ্খলার সাথে এই কর্মসূচি সফল করে জনগণ তাদের অধিকার আদায়ে আজ পুরোপুরি প্রস্তুত। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে আগামী ৩১ অক্টোবর ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ বাস্তবায়ন উপলক্ষে নগরীর সোনাডাঙ্গাস্থ আল ফারুক সোসাইটি মিলনায়তনে খুলনা মহানগরী ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মহানগরী আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এমপির পরিচালনায় বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ এমপি, টিম সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এমপি ও মাস্টার শফিকুল আলম, সিলেট মহানগরী আমীর মু. ফখরুল ইসলাম, নড়াইল জেলা আমীর আতাউর রহমান বাচ্চু এমপি, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, খুলনা মহানগরী নায়েবে আমীর অধ্যাপক নজিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট শাহ আলম ও আজিজুল ইসলাম ফারাজী, জেলা সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান, মহানগরী ছাত্রশিবিরের সভাপতি রাকিব হাসান, মহানগরী জামায়াতের অফিস সেক্রেটারি মীম মিরাজ হোসাইন, অধ্যাপক আবু রুবাবা, মহানগরী যুব বিভাগের সভাপতি মুকারম বিল্লাহ, প্রচার সেক্রেটারি মুহাম্মদ আব্দুল গফুর, অধ্যাপক ইকবাল হোসেন প্রমুখ। এসময় প্রধান অতিথি মোবারক হোসাইন মঞ্চ, ডেকোরেশন, সাউন্ড সিস্টেম, পরিবহন, আপ্যায়ন, মেহমান বিভাগ, প্রচার বিভাগ, আইটি বিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগের সার্বিক প্রস্তুতির খোজখবর নেন। এর আগে তিনি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, খুলনা মহানগরী ও জেলা নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে মহানগরীর পথসভাস্থল বাবরি চত্বর (শিববাড়ি) পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি লংমার্চের গাড়ি বহর কোন রুটে থাকবে তা ঘুরে দেখেন।
প্রধান অতিথি মোবারক হোসাইন বলেন, আগামী ৩১ অক্টোবর ১১ দলীয় ঐক্যের ঐতিহাসিক ‘ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ’ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই লংমার্চ কোনো সাধারণ রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়; এটি এ দেশের নিপীড়িত জনগণের দীর্ঘদিনের জমানো ক্ষোভের এক দাবানল এবং জুলুমের রাজত্ব অবসানের বলিষ্ঠ অঙ্গীকার। ঢাকা থেকে শুরু হয়ে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র খুলনা-যশোর-ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়া ছুঁয়ে যাওয়া এই লংমার্চ হবে রাজপথে জনতার এক অভাবনীয় ও স্মরণীয় গণজাগরণের প্রতীক।
তিনি বলেন, আপনারাই এই আন্দোলনের মূল ভিত্তি ও প্রাণশক্তি। খুলনা অঞ্চল অতীতেও দেশের যেকোনো জাতীয় আন্দোলন ও সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। আগামী ৩১ অক্টোবরের লংমার্চ বাস্তবায়নে খুলনা মহানগরী ও জেলার প্রতিটি দায়িত্বশীলকে এখনই পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে ময়দানে নেমে পড়তে হবে। ওয়ার্ড, থানা, ইউনিয়ন ও পাড়া-মহল্লা পর্যায় পর্যন্ত সাধারণ মানুষের কাছে লংমার্চের বার্তা পৌঁছে দিতে হবে। সাধারণ জনগণকে সংগঠিত করে রাজপথে এক বিশাল ও অপ্রতিরোধ্য গণজোয়ার সৃষ্টি করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।
জামায়াতের এই কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি সুশৃঙ্খল, আদর্শিক ও জনকল্যাণমুখী আন্দোলন। দেশ ও জাতির যেকোনো প্রয়োজনে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলনে জামায়াত সবসময় রাজপথে অগ্রভাগে থেকেছে এবং ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও থাকবে। ১১ দলীয় ঐক্যের মাধ্যমে আমরা জাতীয় রাজনীতিতে একটি বড় পরিবর্তন ও দেশ গড়ার কাক্সিক্ষত প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছি। এই ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় করে দেশের মানুষের বাকস্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ।



