স্থানীয় সংবাদ

আড়ংঘাটার খানাবাড়ীতে চুরির হিড়িক, আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

১শ মিটারের মধ্যে ৫-৬টি চুরির ঘটনা, নিরাপত্তাহীনতায় বাসিন্দারা
জরুরি পুলিশি টহল ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি

ফুলবাড়ীগেট প্রতিনিধি ঃ খুলনা মহানগরীর আড়ংঘাটা থানাধীন খানাবাড়ী এলাকায় চুরির উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। একের পর এক চুরির ঘটনায় চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন এলাকাবাসী। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে মাত্র ১শ মিটারের মধ্যে পাঁচ থেকে ছয়টি চুরির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। সন্ধ্যা নামলেই বাড়ছে উৎকণ্ঠা, রাতের ঘুম হারাম হয়ে উঠেছে অনেক পরিবারের। নিজেদের বসতবাড়ি ও মূল্যবান মালামালের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন নারী, শিশু, বৃদ্ধসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রায় প্রতিনিয়ত কোনো না কোনো বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান পুলিশি তৎপরতা ও কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা তাঁদের চোখে পড়ছে না। ফলে চোরদের দৌরাত্ম্য বাড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এ অবস্থায় এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহল, সন্দেহভাজনদের শনাক্তকরণ এবং চুরির ঘটনাগুলোর দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খানাবাড়ী শাহী জামে মসজিদের দক্ষিণ পাশে কুয়েটের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জয়নাল আবেদিনের বাসায় চুরির ঘটনা ঘটে। চোরেরা বাসার গ্রিল কেটে দোতলায় প্রবেশ করে দুটি কক্ষের মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়। এতে পরিবারটি আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতায় পড়েছে। এর আগে তাঁর পাশের বাসার বাসিন্দা নাসির উদ্দিনের বাড়ির বিদ্যুতের সার্ভিস তার চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
গত ১৬ অক্টোবর একই এলাকার শামসুল হকের বাড়ির ভাড়াটিয়া ওভিদের বাসার বারান্দার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে চোরেরা। এ সময় তিনটি দামি মোবাইল ফোন, ইলেকট্রিক চুলাসহ বিভিন্ন মালামাল চুরি করে নিয়ে যায় তারা। পরের দিন রাতে যুবদল নেতা আলামিন হাওলাদারের বাসার পাশে চোরের অবস্থা টের পেয়ে বাড়ীর সদস্যরা তাড়া করে। ২৩ অক্টোবর পাশের সুলতান সরদারের বাসায় চোরের উপস্থিতি টের পেয়ে ধাওয়া করলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। একই রাতে সুলতান সরদারের বাড়ির সামনে অবস্থিত কুয়েটের অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলামের বাসার বিদ্যুতের সার্ভিস তারও চুরি হয় বলে স্থানীয়রা জানান।
পরপর এসব ঘটনায় এলাকাটিতে চুরির এক ধরনের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অপরাধের ঘটনা ঘটতে পারে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একের পর এক বাড়িতে চুরি হচ্ছে। কোথাও গ্রিল কেটে ঘরে ঢুকছে, কোথাও বিদ্যুতের তার নিয়ে যাচ্ছে। আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে আতঙ্কে আছি। রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারি না। নিজেদের বাড়িতেও নিরাপদ বোধ করছি না। চুরি হওয়ার পর আমরা কার কাছে যাব, কে আমাদের নিরাপত্তা দেবে-এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাচ্ছি না।”
তাঁরা আরও বলেন, “ খুলনায় প্রতিনিয়ত খুনাখুনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে যখন নানা আলোচনা চলছে, তখন আমাদের মতো সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা কে শুনবে। চুরি ছোট অপরাধ নয়; একটি পরিবারের সঞ্চয়, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ওপর এর সরাসরি প্রভাব পড়ে। আমরা চাই না কোনো বড় ধরনের ঘটনা ঘটার পর প্রশাসনের টনক নড়ুক। আগেই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”স্থানীয়দের ভাষ্য, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে পুলিশের কার্যক্রম ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। খানাবাড়ী এলাকার ধারাবাহিক চুরির ঘটনাও সেই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে বলে মনে করছেন তাঁরা।
এলাকাবাসীর মতে, শুধু চুরির ঘটনার পর অভিযোগ গ্রহণ করাই যথেষ্ট নয়; অপরাধ প্রতিরোধে আগাম উদ্যোগ নেওয়াও জরুরি। বিশেষ করে রাতের বেলায় নিয়মিত পুলিশি টহল জোরদার, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিতকরণ, সন্দেহজনক চলাচলের ওপর নজরদারি, চুরির ঘটনাগুলোর তদন্ত এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। পাশাপাশি চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এলাকাবাসীর জোর দাবি, খানাবাড়ী এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আড়ংঘাটা থানা পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। চুরির ঘটনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনা, নিয়মিত টহল বৃদ্ধি এবং অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সমন্বয়ে নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। তাই খানাবাড়ীর বাসিন্দাদের এই উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি। কোনো পরিবার চুরির আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাবে-এটি কোনোভাবেই স্বাভাবিক পরিস্থিতি হতে পারে না। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন দ্রুত এগিয়ে এসে তাঁদের নিরাপত্তাহীনতা দূর করবে এবং এলাকায় স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button