স্থানীয় সংবাদ

কয়রায় সাবেক বিএনপি নেতা ও যুবদলের আহবায়কের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ

# ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুর #

স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনার কয়রা উপজেলায় চাঁদা দাবি ও ব্যবসার মালিকানা ছেড়ে দিতে চাপ দেওয়ার অভিযোগে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উপজেলা যুবদলের আহবায়ক শরিফুল ইসলাম ও উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক হারুনুর রশিদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী গোলাম রব্বানী। তাঁর দাবি, চাঁদা দিতে এবং ব্যবসার অংশীদারত্ব ছেড়ে দিতে রাজি না হওয়ায় তাঁর প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ক্ষতিসাধন করা হয়েছে। আবেদনে তিনি অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, কয়রা উপজেলার মেঘারাইট গ্রামের আব্দুল হাকিমের কাছ থেকে গত ২৭ জুন চার বছরের জন্য জমি লিজ নেন গোলাম রব্বানী। সেখানে ইট, বালু ও কাঠের আড়ৎ গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়ে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণসহ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাজ শুরু করেন তিনি।
গোলাম রব্বানীর অভিযোগ, এ সময় স্থানীয় বিএনপি নেতা আবু সালেক সরদারসহ কয়েকজন তাঁকে ভয়ভীতি দেখিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। পরে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ হারুন অর রশিদের সঙ্গে দেখা করলে তাঁকে ব্যবসার অর্ধেক মালিকানা ছেড়ে দিতে বলা হয়। পাশাপাশি সংগঠনের লোকজনের খরচ বাবদ আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব শর্তে রাজি না হওয়ায় জমির মালিকের ওপর চাপ সৃষ্টি করে লিজের চুক্তি বাতিলের চেষ্টা করা হয়। লিখিত আবেদনে গোলাম রব্বানী উল্লেখ করেন, গত ২৫ অক্টোবর দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে মেঘারাইটে তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। তাঁর অভিযোগ, কয়রা উপজেলা যুবদলের সভাপতি মো. শরিফুল আলম, বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ হারুন অর রশিদ এবং আবু সালেক সরদারসহ ১০ থেকে ১২ জন এ ঘটনায় জড়িত। হামলায় তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কথোপকথন এবং হামলার কিছু ভিডিও ও অডিও রেকর্ড তাঁর কাছে রয়েছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করেছেন গোলাম রব্বানী। লিখিত আবেদনে কপোতাক্ষ ও শাকবাড়িয়া নদ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সিন্ডিকেট পরিচালনা এবং মদিনাবাদ লঞ্চঘাট এলাকায় বালুর আড়ৎ দখলের অভিযোগও তুলেছেন গোলাম রব্বানী। এ বিষয়ে কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশেদুল আলম বলেন, আমি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা যুবদলের আহবায়ক শরিফুল ইসলাম বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছুই জানিনা। অযথা হয়রানী করতেই আমার নাম দিয়েছে বলে আমি মনে করি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক হারুনুর রশিদ বলেন, যে হারুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছে আমি সেই হারুন না। অভিযোগে কি আমার পিতার নাম দেওয়া আছে? নেই। তাহলে কোন হারুন সেটা খোঁজ নেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button