আউটসোর্সিং কর্মীদের অব্যাহতির নির্দেশ দিল খুলনা সিভিল সার্জন

# পনেরো মাস বেতন বকেয়া #
শেখ ফেরদৌস রহমান ঃ খুলনা সিভিল সার্জন অফিসের আওতাধীন মোট ৯টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ,সংক্রমান ব্যাধি হাসপাতাল সহ অন্যান্য স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মোট ২৩৭ জন আউটসোর্সিং কর্মচারীদের দীর্ঘ ১৫ মাস ধরে বেতন-ভাতা বকেয়া থাকার মধ্যেই আউটসোর্সিং জনবলের কর্মীদের অব্যাহতি দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে সিভিল সার্জন কার্যালয় খুলনা। এ ঘটনায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন সংশ্লিষ্ট গরীব অসহায় কর্মচারীরা। দীর্ঘ দিন কর্মরত থাকার পরও বকেয়া বেতন পরিশোধ না করে অব্যাহতির উদ্যোগ নেওয়াতে তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কর্মচারীরা। এ দিকে খুলনা সিভিল সার্জন গেল ২৬ শে অক্টোবর একটি দাপ্তরিক চিঠিতে উল্লেখ্য করেছেন খুলনা জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আউটসোর্সিং জনবলের প্রায় ১৫ মাস ধরে বেতন-ভাতা প্রদান করা হয়নি। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ঠিকাদারি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান গুলো নিয়মিত বেতন পরিশোধের শর্ত থাকলেও তা পরিশোধ করেনি। চিঠিতে বিদ্যমান রাজস্ব খাতভুক্ত কর্মচারীদের দিয়ে রোগীদের সেবা কার্যক্রম চালু রেখে আউটসোর্সিং কর্মীদের অব্যাহতি প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। খুলনা ৯টি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষকে চিঠিটি পাঠানো হয়েছে। এদিকে দীর্ঘদিন বেতন না পাওয়ার কারণে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের সংসার পরিচালনা, ঋণ পরিশোধ ও দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহ কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন একাধিক কর্মচারীরা। এর মধ্যে চাকরি হারানোর পরিস্থিতি তৈরি হলে তাঁদের আর্থিক সংকট আরও বাড়তে পারে। এ দিকে কর্র্মীদের বকেয়া বেতন পরিশোধ, তাঁদের কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায় দায়িত্ব¡ নির্ধারণের বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান চান। বিষয়টি নিয়ে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইউ এইচ এন্ড এফ পিও ডাঃ মোঃ রেজাউল করীম বলেন, খুলনা সিভিলসার্জন অফিস থেকে একটি চিঠি দিয়েছে। যেখানে উল্লেখ রয়েছে আউট সোর্সিং কর্মচারীদের অব্যহতি দিতে। পাশাপাশি সরকারী কর্মচারীদের দিয়ে কার্জক্রম চলমান রাখতে। বর্তমান আমাদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৯ জন আউটসোর্সিং কর্মচারী। আর সরকারীভাবে রয়েছে চারজন। তবে এখন যদি এসব কর্মচারীদের অব্যহতি দেয়া হয় তাহলে চলমান সেবা থমকে যাবে। তবে বিষয়টি নিয়ে আউটসোর্সিং কর্মচারী নিয়োগ প্রতিষ্ঠান মেসার্স তাকবীর এন্টারপ্রাইজের স্বত্তাধিকারি মোঃ ইখতিয়ার বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানের সাথে কোন ধরণের আলোচনা ছাড়া এমন চিঠি দিতে পারে না সিভিল সার্জন অফিস। আমাদের সাথে চুক্তি রয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থ বছরে চার মাস কাজ করছি। আমি বিষয়টি আইনিভাবে মোকাবেলা করব। বিষয়টি নিয়ে খুলনা সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের পক্ষ হতে বেতন পরিশোধ করবে। সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর থেকে নির্দেশনা আছে যে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান জনবল দিতে পারবেনা। যে কারণে আমি চিঠি দিয়েছি। হাসপাতালে সেবার কোন সমস্যা হবেনা। তবে বিষয়টি নিয়ে খুলনা স্বাস্থ্য বিভাগ খুলনা পরিচালক ডাঃ শেখ মোঃ মোশাররফ হোসে বলেন, আউটসোর্সিং নীতিমালায় কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। তবে সকল আউটসোর্সিং কর্মচারী অব্যহতির চিঠির বিষয়ে আমি খোঁজ নিব।



