বৃহত্তর খুলনা জেলা ছাত্রশিবিরের প্রথম সভাপতি নজরুল ইসলামের ইন্তিকাল

# জানাজা দাফন সম্পন্ন #
খবর বিজ্ঞপ্তি ঃ বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের বৃহত্তর খুলনা জেলার প্রথম সভাপতি এবং ডুমুরিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর টিপনা আমজাদ মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক শেখ নজরুল ইসলাম (৮৫) ইন্তিকাল করেছেন। দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত নানা রোগের আক্রান্ত হয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ছয় পুত্র, দুই কন্যাসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক, আদর্শ সংগঠক এবং আলোকিত মানুষ গড়ার কারিগরÑযিনি তাঁর পুরো জীবন উৎসর্গ করেছিলেন মানবকল্যাণ ও শিক্ষার প্রসারে। তাঁর বিদায়ে খুলনার শিক্ষা ও সামাজিক অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
বাদ জুময়া ডুমুরিয়া আলিয়া মদরাসা মাঠে মরহুমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও খুলনা জেলা আমীর মাওলানা এমরান হুসাইন। জানাজায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপষিদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল টিম সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এমপি, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, জেলা নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা কবিরুল ইসলাম, জেলা সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, মহানগরী সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট শাহ আলম, এডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্লা, মাওলানা মুখতার হুসাইন, মাওলানা হাবিবুর রহমান, গাজী সাইফুল্লাহ, মোসলেম উদ্দিন, এডভোকেট আবুল কাশেম, বিএনপি নেতা মোল্লা মোশাররফ হোসেন মফিজ, ডুমুরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর বুলু, প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন, ইসলামী ছাশিবিরের জেলা সভাপতি মোমিনুর রহমান, উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মেহেদী হাসানসহ বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ হাজারো মুসল্লী অংশ গ্রহণ করেন। পরে তাকে স্থানীয় সবুজবাগ কবরস্থানে দাফন করা হয়।
ডুমুরিয়া উপজেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া শেখ নজরুল ইসলাম নিজ এলাকা থেকেই তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে লাউড়ি মাদরাসা থেকে ফাযিল পাস করে তিনি খুলনা সিটি কলেজে ভর্তি হন। ছাত্রাবস্থায় তিনি নেতৃত্বগুণের পরিচয় দেন এবং সিটি কলেজ ছাত্রসংসদ নির্বাচনে ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সিটি কলেজ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর তিনি ঢাকায় চলে যান এবং ইসলামী সমাজকল্যাণ সমিতির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি ঢাকা কোতোয়ালি থানা জামায়াতে ইসলামীর নাজিম (সভাপতি) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
পরবর্তীসময়ে খুলনায় ফিরে এসে তিনি ডুমুরিয়া উপজেলার টিপনা আমজাদ মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দীর্ঘকাল অত্যন্ত সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি ডুমুরিয়া উপজেলা জামায়াতের আমীর হিসেবেও সমাজসেবামূলক ও ধর্মীয় খেদমতে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন।
এদিকে ডুমুরিয়া উপজেলা জামায়াতে সাবেক আমীর জনপ্রিয় শিক্ষক শেখ নজরুল ইসলামের ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী খুলনা অঞ্চল নেতৃবৃন্দ।
বিবৃতিদাতারা হলেন-বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ এমপি, সহকারী পরিচালক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এমপি, অঞ্চল টিম সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এমপি, অধ্যক্ষ মাওলানা মশিউর রহমান এমপি, মাস্টার শফিকুল আলম, মুহাদ্দিস রবিউল বাশার এমপি। অন্যরূপ বিবৃতি দিয়েছেন খুলনা মহানগরী আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান ও সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন এমপি, খুলনা জেলা আমীর মাওলানা এমরান হুসাইন ও সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, বাগেরহাট জেলা নায়েবে আমীর মাওলানা রেজাউল করিম ও সেক্রেটারি শেখ মোহাম্মদ ইউনুস, সাতক্ষীরা জেলা আমীর উপাধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম মুকুল ও সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান। অনুরূপ বিবৃতি দিয়েছেন ডুমুরিয়া উপজেলা আমীর মাওলানা মুখতার হোসেন এবং সেক্রেটারি মুহা. আব্দুর রশিদ বিশ্বাস।
এক যৌথ শোকবার্তায় নেতৃবৃন্দ মরহুমের বর্ণাঢ্য কর্মজীবন স্মরণ করে বলেন, শেখ নজরুল ইসলাম তাঁর দীর্ঘ শিক্ষকতা ও বর্ণিল রাজনৈতিক জীবনে এলাকার শিক্ষা বিস্তার, সমাজসেবা এবং মানবকল্যাণে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। তিনি ছিলেন একজন সৎ, পরোপকারী ও আদর্শ শিক্ষক, যিনি আজীবন সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থেকে মানুষের সেবা করে গেছেন। তাঁর এই চলে যাওয়া সমাজ ও জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।
নেতৃবৃন্দ মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেন যেন তার সকল গুনাহখাতা মাফ করে দিয়ে তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করেন। একই সাথে তাঁরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং এই কঠিন শোক সহ্য করার জন্য মহান আল্লাহর নিকট ধৈর্য ধারণের তাওফিক কামনা করেন।



