খুলনায় মহাসড়কের পাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান

# গোয়ালখালী থেকে ডাকবাংলা পর্যন্ত দুই দিনব্যাপী অভিযান, প্রভাবশালীদের স্থাপনা উচ্ছেদ না করার অভিযোগ এলাকাবাসীর #
স্টাফ রিপোটার ঃ খুলনা নগরীর মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে দুই দিনব্যাপী অভিযান শুরু করেছে খুলনা সড়ক ও জনপথ বিভাগ-১। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে নগরীর গোয়ালখালী এলাকা থেকে এ অভিযান শুরু হয়ে মুজগুন্নি পর্যন্ত পরিচালিত হয়। অভিযানটি বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে। সড়কের জায়গা দখলমুক্ত করার লক্ষ্যে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
অভিযান চলাকালে মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা বেশ কিছু স্থাপনা অপসারণ করা হয়। তবে অভিযানের প্রথম দিনে মুজগুন্নী এলাকা পর্যন্ত উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করে দিনের অভিযান শেষ করা হয়। সড়ক ও জনপথ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পর্যায়ক্রমে ডাকবাংলা পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। এদিকে উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, গোয়ালখালীর করিম টাওয়ার নামে পরিচিত লাল ভবনটিতে মহাসড়কের পাশে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। একইভাবে মুজগুন্নী ভিক্টোরিয়া ক্লাবের দক্ষিণ পাশে মালেকা ডোর নামে একটি ফার্নিচার কারখানা গড়ে তোলা হয়েছে। অভিযানকালে সড়ক ও জনপথ বিভাগের পক্ষ থেকে কারখানাটির স্থাপনা ভেঙে দেওয়া হয়। তবে স্থানীয়দের দাবি, কারখানাটির কিছু অংশ এখনো রয়ে গেছে এবং সেখানে ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা চলছে। এ ছাড়া মুজগুন্নী নেছারিয়া মাদ্রাসার পাশে করিম টাওয়ার মেশিনারিজ নামে একটি যন্ত্রপাতির দোকানও এখনো বহাল রয়েছে এবং গোয়ালখালী মোড় এর উপরেও কয়েকটি পাকা স্থাপনা দোকান সড়ক জনপথ’র জায়গায় থাকা সত্ত্বেও অপসারণ করা হয়নি বলে সরেজমিনে দেখা গেছে। ভবনটির পাশেই সড়ক ও জনপথ বিভাগের সীমানা রয়েছ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, অভিযানে সাধারণ মানুষের স্থাপনা ভেঙে দেওয়া হলেও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কিছু স্থাপনা এখনো উচ্ছেদের আওতার বাইরে রয়েছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেছেন, সবার জন্য আইন সমান হলে উচ্ছেদের ক্ষেত্রেও সমানভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন? যাদের স্থাপনা ভেঙে দেওয়া হয়েছে, তারা যদি পুনরায় সেখানে ঘর নির্মাণ করতে না পারেন, তাহলে অন্যরা কীভাবে স্থাপনা রেখে ব্যবসা পরিচালনা করছেন?
এ বিষয়ে খুলনা সড়ক ও জনপথ বিভাগ-১ নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ তালিমুল হক বলেন, সড়ক ও জনপদের জায়গায় নেব অনুযায়ী যে পর্যন্ত সীমানা রয়েছে সে পর্যন্তই আমরা স্থাপনা যাই থাকুক উচ্ছেদ অভিযান করা হবে। সরকারি জায়গা আমাদের দখলে রাখা হবে। কেউ পুনরায় সেখানে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, রবিবার পুনরায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। রবিবারের অসমাপ্ত উচ্ছেদ অভিযানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তানিমুল হক, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সাগর সৈকত ও মো. শফিকুল ইসলাম হাওলাদার, উপসহকারী প্রকৌশলী মাধুরী সুলতানা, মো. নাজমুল হক ও মিজানুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ ছাড়া পুলিশ প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা অভিযানে সহযোগিতায় উপস্থিত থাকবেন। মহাসড়কের জায়গা দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও উচ্ছেদের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব না করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।



