নজরুলের সাম্য, মানবতা ও বিদ্রোহের চেতনায় তরুণদের সম্পৃক্ত করতেহবে – সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার ঃ সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাম্য, মানবতা ও বিদ্রোহের চেতনায় নতুন প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করাই নজরুল বর্ষ উদযাপনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। নজরুলের সাহিত্য ও দর্শন তরুণদের মানবিক, অসাম্প্রদায়িক ও দেশপ্রেমিক হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি শনিবার বিকালে চুয়াডাঙ্গা জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ‘জাগো নব সৃষ্টির মহানন্দে’ প্রতিপাদ্যে নজরুল বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী নজরুল উৎসবের পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, মাদকাসক্তি, অনলাইন জুয়াসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর আসক্তি থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসহ সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। তরুণদের সৃজনশীল ও ইতিবাচক কর্মকা-ে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে সংস্কৃতি ও ক্রীড়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তিনি বলেন, দেশীয় সংস্কৃতি, লোকজ ঐতিহ্য, দেশীয় খেলাধুলা, নৌকা বাইচসহ বাংলাদেশের নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে। নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিতাই রায় চৌধুরী আরও বলেন, বাংলাদেশের সংস্কৃতি হাজার বছরের পুরোনো ও সমৃদ্ধ। এই ভূখ-ের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য যুগে যুগে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষকে আকৃষ্ট করেছে। পর্যটক ইবনে বতুতার বাংলাদেশ সম্পর্কে বর্ণনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ভূখ-ের সঙ্গে বিশ্বের মানুষের যোগাযোগের ইতিহাস অত্যন্ত প্রাচীন। তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের জীবনমুখী যাত্রা, বাউলগান, জারি-সারি, ভাটিয়ালি এবং হাসন রাজা, শাহ আবদুল করিম ও রাধারমনের মতো লোকসংগীতের ¯্রষ্টাদের গানকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী বিভিন্ন উৎসব আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশের সমৃদ্ধ লোকসংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি হবে। অনুষ্ঠানে মূল আলোচক হিসেবে নজরুলের সাহিত্য ও জীবনদর্শনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন বিশিষ্ট নজরুল গবেষক ও চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ড. মন্সী আবু সাইফ। চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক লুতফুন নাহার, পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ার এবং জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুকুল কুমার মৈত্র। এছাড়া পৌরসভা প্রশাসক শারমিন আক্তার, জেলা কালচারাল অফিসার, জাসাস চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সকালে মন্ত্রী চুয়াডাঙ্গা সার্কিট হাউসে জেলার সংস্কৃতিকর্মীদের সাথে মতবিনিময়, চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণ, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। এছাড়া হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, পূজা উদযাপন পরিষদ ও পূজা উদযাপন ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ, চুয়াডাঙ্গা জেলার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী ও চুয়াডাঙ্গা জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।



