দিঘলিয়ায় কলেজছাত্রীকে উত্ত্যক্ত ও প্রাণনাশের হুমকি : আদালতে মামলা

# দেয়ালে দেয়ালে পোস্টার, থানায় গণঅভিযোগ ও প্রতিবাদ সমাবেশ হলেও প্রতিকার নেই #
স্টাফ রিপোর্টার : খুলনার দিঘলিয়ায় বহুল আলোচিত মো. ফরহাদ হোসেন ওরফে ‘লেডী ফারাক’কে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এক কলেজছাত্রীকে উত্ত্যক্ত, মোবাইল ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে হয়রানি এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগীর বাবা সাইফুল ইসলাম খুলনার দিঘলিয়া আমলি আদালতে নালিশি মামলা করেছেন।
এর আগে এলাকাবাসীর উদ্যোগে একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকা-ের অভিযোগ তুলে এলাকায় দেয়ালে দেয়ালে পোস্টার সাঁটানো, থানায় গণ অভিযোগ এবং প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলেও তার বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
আদালতে দাখিল করা নালিশি মামলার অভিযোগপত্রে মো. ফরহাদ হোসেন ওরফে ফারাক এবং শহিদুল শেখকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। বাদী সাইফুল ইসলাম তাঁর মেয়েকে হয়রানি ও পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে দিঘলিয়া আমলি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ-বিধির ৫০৬, ৫০৬ (২) ও ৫০৯ ধারাসহ সংশ্লিষ্ট ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।
আলোচিত ফারাক উপজেলার ব্রক্ষ্মগাতি গ্রামের মৃত আব্দুল গফুর শেখের পুত্র এবং তার সহযোগি শহিদুল শেখ ফরমাইশখানা গ্রামের আব্দুস সামাদ শেখের পুত্র।
নালিশি দরখাস্তে উল্লেখ করা হয়, ফরহাদ হোসেন ওরফে ফারাক নারীদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে সম্পর্ক গড়ে তোলা, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ আদায়সহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকা-ে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। বাদীর মেয়েকেও কলেজে যাওয়া-আসার পথে তাঁকে অনুসরণ ও উত্ত্যক্ত করতো। এমনকি তার মেয়ের বিবাহ দেওয়ার পরও তাকে উত্যক্ত করা হয় বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ফারাক গত ২৪ মে রাত আনুমানিক ১১টা ১৫ মিনিটে দ্বিতীয় অভিযুক্ত শহিদুল শেখের মাধ্যমে বাদীর মেয়ের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করে তাকে নিউ মার্কেটে যাওয়ার কথা বলে। এমনকি এ সময় তাঁকে বিভিন্ন ধরনের কু-প্রস্তাব দিয়ে বিরক্ত করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া গত ২৬ মে বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে দিঘলিয়ার একটি দোকানের সামনে বাদীর পরিবারের সদস্যদের পথরোধ করে জীবন নাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এতে পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে বাদী আদালতে জানিয়েছেন। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেও প্রতিকার না পাওয়ায় আদালতে মামলা করেছেন বলে নালিশি দরখাস্তে উল্লেখ রয়েছে। এ বিষয়ে গত ১০ সেপ্টেম্বর তিনি আদালতে অভিযোগ দাখিল করেন। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য দিঘলিয়া থানায় প্রেরণ করেন।
এামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রফিকুল ইসলাম বলেন, কয়েকদিন আগে অভিযোগের তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছি। আদালতের নির্দেশে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তবে, রিপোর্ট দাখিলে কিছুটা সময় লাগবে।
অপরদিকে, ফারাকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে এলাকাবাসীর উদ্যোগে মাস খানিক আগে দিঘলিয়া এলাকায় জনসচেতনতামূলক পোস্টার সাঁটানো হয়। এছাড়া স্থানীয়দের উদ্যোগে একটি মাঠে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশও করা হয়। সমাবেশে বক্তারা অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফরহাদ হোসেন ওরফে ফারাককে ঘিরে এর আগেও একাধিক অভিযোগ ও পারিবারিক বিরোধের বিষয় সামনে এসেছে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং স্থানীয়দের অভিযোগে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ও নারীদের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয় নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে।
অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


