খুলনায় আড়াই শতাধিক আউটসোর্সিং কর্মীকে অব্যাহতির নির্দেশে কর্মচারিদের মানববন্ধন

# কর্মবিরতিতে স্বাস্থ্যসেবা ব্যহত, ১৫ মাসের বেতন নেই #
# হাসপাতালগুলোতে পরিচ্ছন্নতা ও চিকিৎসা সেবা সংকট #
স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনার সিভিল সার্জনের জারিকৃত এক অফিস আদেশে বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আড়াই শতাধিক আউটসোর্সিং কর্মচারীকে কাজ হতে অব্যহতি প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে। আদেশের খবর জানতে পেরে দীর্ঘ ১৫ মাস যাবৎ বেতন ভাতা না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করা কর্মচারীরা কর্মবিরতি শুরু করেছে। এর ফলে খুলনার ৯ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সহ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম ও পরিচ্ছন্নতার পরিবেশ একেবারে ভেঙ্গে পড়েছে। অসুস্থ রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে গিয়ে হিমসিম খেতে হচ্ছে।
রোববার অন্তত চারটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত আউটসোর্সিং কর্মচারীরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। অপরদিকে আউটসোর্সিং কর্মচারী সরবরাহকারী একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সিভিল সার্জনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, খুলনার নবাগত সিভিল সার্জন ডা. মো. মনিরুজ্জামান গত ২৬ অক্টোবর এক অফিস আদেশ জারি করে সকল আউটসোর্সিং কর্মচারীদের অব্যহতি প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেন। জেলার ৯ উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, বক্ষব্যধি ক্লিনিকের জুনিয়র কনসালটেন্ট এবং সদর, খালিশপুর, টুটপাড়া আরবান ডিসপেনসারি ও সংক্রামক ব্যধি হাসপাতালের মেডিকেল অফিসারদের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, ১৫ মাস যাবৎ আউপসোর্সিং জনবলের বেতন ভাতা প্রদান করা হয় নাই। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়মিত বেতন পরিশোধের শর্ত থাকলেও তারা বেতন পরিশোধ করছেন না। এমতাবস্থায় বিদ্যমান রাজস্ব খাতভূক্ত কর্মচারী দ্বারা সেবা কার্যক্রম চলমান রেখে আউটসোর্সিং কর্মচারীদের অব্যহতি প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হলো।
সূত্র জানায়, সিভিল সার্জন হিসেবে মো. মনিরুজ্জামান গত ১৩ অক্টোবর খুলনায় যোগ দেন। এর আগে গত ২২ সেপ্টেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয় খুলনার ১৭ টি স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানের ২১৪ জন আউটসোর্সিং কর্মচারীর এক বছরের বেতন ভাতা বাবদ পাচ কোটি দুই লাখ ৮৯ হাজার টাকা ছাড় দেয়।
জানা গেছে, সিভিল সার্জন যেদিন চিঠি ইস্যু করেন, সেদিন সকালে বটিয়াঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত ২২ জন কর্মচারীর একাউন্টে বেতনের টাকা জমা হয়। বিকেলে সিভিল সার্জনের চিঠি পেয়ে তারা হতবুদ্ধি হয়ে পড়েন। জানতে পেরে সিভিল সার্জন তাদেরকে বকাঝকা করেন এবং তার সাথে যোগাযোগ না করেই বেতন ছাড় করায় চরম ভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এখানকার অফিস সহকারী মো. রেজোয়ান রাজ বলেন, দীর্ঘদিন বেতন ভাতা ছাড়াই তারা কাজ করছিল। হাতে টাকা আসামাত্র আমরা তাদেরকে দিয়ে দেই। এরপর আমার অফিস আদেশ সম্পর্কে জানতে পারি।
এদিকে আউটসোর্সিং কর্মচারীরা কর্মবিরতি পালন করায় স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র গুলোর পরিবেশ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এছাড়া টিকিট কাউন্টার, জরুরী ওটি সেবা, ওয়ার্ড বয় ও আয়া সংকটে গোটা হাসপাতাল জুড়ে হাহাকার সৃষ্টি হয়েছে।
কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রেজাউল করিম বলেন, গত দুদিন ধরে তারা কাজ করছেনা। আমার এখানে রাজস্ব খাতে মাত্র চারজন কর্মচারী। তাদেরকে দিয়ে গোটা হাসপাতাল ম্যানেজ করা সম্ভব হচ্ছেনা। বিষয়টি আমি সিভিল সার্জনকে জানিয়েছি।
ডুৃমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. মনিরুজ্জামান বলেন, তার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুজন ঠিকাদারের কর্মীরা কাজ করেন। সিভিল সার্জনের চিঠির পরে তাকবির এন্টারপ্রাইজের নিযুক্ত ১৫ জন কর্মী কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। মাছরাঙা কোম্পানির ১১জন কাজ করছেন। কিন্ত এই জনবলে সবদিক সামলানো সম্ভব হচ্ছেনা।
চিঠির বিষয়ে সাংবাদিকেরা বিভাবে অবগত হলো এনিয়ে বিষ্ময় প্রকাশ করেন খুলনার সিভিল সার্জন ডা. মো. মনিরুজ্জামান। ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি জানান, এটি অভ্যন্তরীণ বিষয়। বাইরে কেন জানাজানি হবে? এছাড়া রাজস্ব খাতের বাইরের কর্মীদের বেতন ছাড়ে কিছু নিয়ম নীতি আছে। সেগুলো মানা হচ্ছে কিনা পরীক্ষা করতে আমি এ আদেশ দিয়েছিলাম।
তবে তার জবাব ছিল অগোছালো ও পরস্পর বিরোধী। তিনি বিষয়টি গোপনীয় রাখার চেষ্টা করেন।


