১১ দলীয় ঐক্যের ঐতিহাসিক লংমার্চ ও পথসভা সফল করায় খুলনাবাসীর প্রতি জামায়াত নেতৃবৃন্দের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

খবর বিজ্ঞপ্তি ঃ গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নতি, সর্বস্তরে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ এবং বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের নাগালে আনার দাবিতে খুলনা মহানগরীর শিববাড়ী মোড়ের ঐতিহাসিক বাবরী চত্বরে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত লংমার্চ ও বিশাল পথসভা অভূতপূর্ব সাফল্যের সাথে সম্পন্ন হয়েছে। তীব্র রোদ ও ভ্যাপসা গরমের প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে পুরো কর্মসূচিকে মহাসমুদ্রে পরিণত করায় খুলনা অঞ্চলের সর্বস্তরের সাধারণ জনগণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক এবং ১১ দলীয় ঐক্যের নেতা-কর্মীদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও চিরকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর খুলনা অঞ্চল নেতৃবৃন্দ। রোববার (১ নভেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের বিদ্যমান সার্বিক পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক সংকট ও সামাজিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে খুলনাঞ্চলের মানুষ রাজপথে নেমে যে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছে, তা ন্যায়, ইনসাফ ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে বহু দূর এগিয়ে নেবে। জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, জুলাই গণহত্যার প্রকৃত বিচার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির উর্ধ্বগতি রোধে ১১ দলীয় ঐক্যের এই লংমার্চ ছিল সময়ের এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
বিবৃতিদাতারা বলেন-বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ এমপি, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও অঞ্চল সহকারী পরিচালক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এমপি, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও অঞ্চল টিম সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এমপি, টিম সদস্য মাওলানা মশিউর রহমান খান এমপি, মাস্টার শফিকুল আলম এবং হাফেজ রবিউল বাশার এমপি। অনুরূপ বিবৃতি দিয়েছেন লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটি খুলনার আহ্বায়ক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান এবং মহানগরী সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন এমপি, সাতক্ষীরা জেলা আমীর উপাধ্যক্ষ মো. শহীদুল ইসলাম মুকুল ও জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান। নেতৃবৃন্দ বলেন, সর্বস্তরের দায়িত্বশীল ও নেতা-কর্মীদের দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রমে এই লংমার্চ ও পথসভা পূর্ণাঙ্গ সফলতা লাভ করেছে। লংমার্চটি খুলনা অঞ্চলে প্রবেশ করার সাথে সাথে জামায়াত-এনসিপিসহ ১১ দলের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ বাঁধভাঙা জোয়ারের মতো রাস্তায় নেমে আসে। প্রখর রোদ্দুর ও চরম দাবদাহ উপেক্ষা করে রাজপথের দুই ধারে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে হাজার হাজার নারী-পুরুষ গাড়িবহরকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং ফুল ও জাতীয় পাতাকা নাড়িয়ে করতালির মাধ্যমে শুভকামনা জানানো কর্মসূচিকে অনন্য মাত্রা দান করেছে।
খুলনা মহানগরীর শিববাড়ী মোড়ের ঐতিহাসিক বাবরী চত্বরে আয়োজিত পথসভাটি খুলনাঞ্চলের সর্বকালের অন্যতম বৃহৎ জনসমাবেশে পরিণত হয়। তপ্ত রোদে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে হাজার হাজার মানুষ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে তোলেন পুরো এলাকা। জনমানুষের এই প্রভূত ও স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, দেশের মৌলিক সংস্কার ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে গণমানুষ জামায়াতে ইসলামী ও তার সহযোগীদের ওপর আস্থা রাখছে। নেতৃবৃন্দ তাঁদের যৌথ বিবৃতিতে লংমার্চ ও পথসভা সফল করতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ভূমিকা রাখা সাধারণ জনগণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গণমাধ্যম ও সাংবাদিকবৃন্দ এবং ১১ দলীয় ঐক্য ও সহযোগী সংগঠন নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। বিবৃতিতে শীর্ষ নেতৃবৃন্দ দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন, খুলনাঞ্চলের মাটি ও মানুষের সাথে জামায়াতে ইসলামীর সম্পর্ক বহু পুরনো ও আত্মিক। রাজপথে হাজার হাজার মানুষের এই বিশাল জনস্রোত এবং সাধারণ মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসার বার্তা আবারো সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করেছে যেÑ”খুলনার মাটি জামায়াতে ইসলামীর উর্বর ঘাঁটি।”
জনসমুদ্র ও বৃহৎ গাড়িবহরের কারণে খুলনা মহানগর জুড়ে সাময়িক সময় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, যার ফলে পথচারী ও সাধারণ নগরবাসীকে চলাচলে কিছুটা ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। এ বিষয়টিকে অত্যন্ত সহানুভূতির সাথে দেখে বিবৃতিদাতা নেতৃবৃন্দ নগরবাসীর কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের নাগরিক অসুবিধা সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখার আশ্বস্ত করেছেন।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সারের কৃত্রিম সংকট দূর করা এবং জনগণের ন্যায়সংগত অধিকার ফিরিয়ে আনার এই সংগ্রাম থামবে না। জামায়াতে ইসলামী আগামী দিনেও গণমানুষের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে যেকোনো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে খুলনাঞ্চলের আপামর জনগণকে সাথে নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। আগামী দিনগুলোতেও খুলনাবাসী জামায়াতে ইসলামীর সর্বাত্মক কর্মসূচিতে একইভাবে সাথে থাকবেন ও সমর্থন দিয়ে যাবেন বলে নেতৃবৃন্দ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


