২১ বারেও জমা পড়েনি হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন : নতুন তারিখ নির্ধারণ

প্রবাহ রিপোর্টঃ ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবারও পিছিয়েছে। আগামী ৭ ডিসেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ আদেশ দেন। এ নিয়ে মামলাটির অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ২১ বারের মতো পেছাল।রাজধানীর পল্টন থানায় দায়ের করা এই হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্তের দায়িত্বে থাকা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) নির্ধারিত দিনে প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। ফলে আদালত নতুন করে সময় নির্ধারণ করেন। এর মাধ্যমে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সিআইডি আদালতের কাছ থেকে ২১ বারের মতো সময় পেল।পল্টন থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কার্যালয়ের এএসআই মামুন হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি মামলাটির অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব সিআইডিকে দেন আদালত। ওই দিন মামলার বাদী ও ইনকিলাব মঞ্চের বর্তমান আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল জাবের আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে নারাজি আবেদন জমা দেন। একই সঙ্গে তিনি মামলাটির অধিকতর তদন্তের দাবি জানান।নারাজি আবেদনে বাদীর অভিযোগ ছিল, হাদি হত্যার পেছনে থাকা মূল পরিকল্পনাকারীকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। হত্যাকা-ের মূল রহস্যও উদ্ঘাটিত হয়নি। এসব কারণ দেখিয়ে তিনি আদালতের কাছে অধিকতর তদন্তের আবেদন করেন। পরে আদালত মামলাটির তদন্তভার সিআইডিকে দেন।এর আগে গত ৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। তবে ওই অভিযোগপত্রে সন্তুষ্ট না হয়ে বাদী নারাজি আবেদন করায় মামলাটি অধিকতর তদন্তের পর্যায়ে যায়।অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর সিআইডি নতুন করে দুজনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের একজন রুবেল। তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ছাড়া হাদি হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগে চট্টগ্রামের অস্ত্র ব্যবসায়ী মাজেদুল হক হেলালকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনিও আদালতে জবানবন্দি দিয়ে অস্ত্র সরবরাহের কথা স্বীকার করেছেন।মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত ১৭ আসামির মধ্যে আগে ১১ জন কারাগারে ছিলেন এবং প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদসহ ছয়জন পলাতক ছিলেন বলে জানা যায়। পরে সিআইডির তদন্তে আরও দুজন গ্রেপ্তার হন। সব মিলিয়ে বর্তমানে এ মামলায় মোট ১৩ জন কারাগারে রয়েছেন।মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে ব্যাটারিচালিত রিকশায় থাকা ওসমান হাদিকে গুলি করে মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা। মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে তার মৃত্যু হয়।এ ঘটনায় হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় মামলা করেন ইনকিলাব মঞ্চের তৎকালীন আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল জাবের। মামলাটি প্রথমে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা হলেও হাদির মৃত্যুর পর তা হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।



