দুই প্রকল্প উদ্বোধনে মোংলা আসছেন প্রধানমন্ত্রী

এইচ.এম.দুলাল মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি ঃ
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর দ্বিতীয়বারের মতো মোংলা বন্দরে আসছেন গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এদিন বন্দরের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে ৪০৬৮ কোটি টাকার নতুন দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে গত ২২ অক্টোবর মোংলা বন্দরের উন্নয়নের জন্য এ বন্দর পরিদর্শন করে যান তিনি।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) মোংলা বন্দরে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মধ্য দিয়ে অঞ্চলটিকে দেশের প্রধান বাণিজ্যিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার সরকারি অবস্থান আরও সুস্পষ্ট হতে যাচ্ছে। তার এ সফরকে কেন্দ্র করে বন্দরে নতুন দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণসহ অবকাঠামো উন্নয়নের একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের নানা দিক ও বন্দরের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা জানান, প্রায় ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ের এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা অভূতপূর্ব উচ্চতায় পৌঁছাবে। প্রকল্পের অধীনে ৩৬৮ মিটার দৈর্ঘ্যের দুটি আধুনিক কন্টেইনার টার্মিনাল, বিশাল কন্টেইনার ইয়ার্ড এবং নতুন টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেমসহ অত্যাধুনিক কার্গো হ্যান্ডেলিং ইকুইপমেন্ট যুক্ত করা হবে। এতে বন্দরের পণ্য খালাসের গতি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং প্রকল্প সম্পন্ন হওয়ার পর মোংলা বন্দর ঘণ্টায় ৩০টিরও বেশি এবং বছরে প্রায় ৪ লাখ টিইইউএস (ঞঊটঝ)কন্টেইনার হ্যান্ডেল করার নতুন রেকর্ড সক্ষমতা অর্জন করবে। তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী চীন সফরে গিয়ে এই উন্নয়ন চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন। এরপর গত ১০ অক্টোবর বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক ও ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। তার ফলশ্রুতিতেই প্রধানমন্ত্রীর এই উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন কার্যক্রম।
মোংলা বন্দর বার্থ শিপ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. জুলফিকার আলী বলেন, এ বন্দর চ্যানেলের নাব্যতা বৃদ্ধিতে পরিকল্পিত ড্রেজিং ও সংরক্ষণ, সড়ক ও রেল যোগাযোগের উন্নয়ন, ফয়লা বিমান বন্দর চালু ও দ্রুত বন্দরের আকরাম পয়েন্টে এলএনজি স্টেশন নির্মাণের দাবি বন্দর ব্যবহারকারীদের।
এ বিষয়ে বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে চীনের সঙ্গে যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে, তার মাধ্যমে মোংলা বন্দরের সঙ্গে রেলওয়ের সংযোগ স্থাপনের সুযোগ তৈরি হবে। এতে আইসিডি থেকে পণ্য রেলপথে মোংলা বন্দরে আনা যাবে। পরে সেসব পণ্য বন্দরের জেটি দিয়ে জাহাজে পরিবহন করা সম্ভব হবে।
অন্যদিকে সফরের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জামিরুল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফর নির্বিঘœ ও নিরাপদ রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তাবেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছে। প্রতিটি কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলিত করতে চার স্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রশাসন ও পুলিশ সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে মোংলা বন্দরের নির্ধারিত কর্মসূচি শেষে সড়কপথে বাগেরহাটে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে হজরত খানজাহান আলীর মাজার জিয়ারত করবেন তিনি। এরপর খুলনায় গিয়ে ‘নতুন কুঁড়ি সিজন-২’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। কর্মসূচি শেষে ঢাকায় ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দরের পণ্য ওঠানামা ও কনটেইনার পরিবহনের সক্ষমতা বাড়বে, যা দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।
সুন্দরবন পাশে অবৈধ ভাবে তৈরী করা রিসোর্টে বনের প্রাণ-প্রকৃতির ক্ষতি হচ্ছে কিনা তা পরিদর্শনে পরিবেশ প্রতিমন্ত্রীর শেখ ফরিদুল ইসলাম
মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
সুন্দরবনের কোল ঘেষে অবৈধ ভাবে গড়ে উঠা রিসোর্টে বনের প্রাণ-প্রকৃতির কোন ক্ষতি হচ্ছে কিনা, তা যাচাই, রিসোর্টগুলো পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ করলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম। বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তিনি সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের ঢাংমারী স্টেশনের আওতায় বনের পাশে ১৮টি রিসোর্ট পরিদর্শন করলেন তিনি। এ সময় তার সাথে ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের (খুলনার) ও বনবিভাগের বাগেরহাট ও মোংলা পুর্ব জোনের কর্মকর্তারা।
এ সময় পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, মিডিয়াতে এসেছে দেখেছি, বনবিভাগের ইসিএ’র ভিতরে অবৈধ ভাবে রিসোর্ট করা হয়েছে। এখানে অবৈধ কর্মকা- হচ্ছে কিনা, এছাড়া সুন্দরবনের প্রাণ-প্রকৃতির ক্ষতি হচ্ছে কিনা এসব দেখতে এসেছি। শব্দ দূষণ, হরিণ শিকারসহ ক্ষতির কোন দিক এবং অবৈধ কিছু ধরা পড়লে সেটি বন্ধ করে দেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, রিসোর্টগুলোতে সোলার এনার্জি করার সুযোগ আছে। জেনারেটর চালানো যাবেনা, শব্দ দূষণ করা যাবেনা। যদিও এগুলো পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকার মধ্যে হয়েছে। এটার বৈধতা যাচাই করতেই আমার আসা। বনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের কাজ। কেউ নিরাপত্তা ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে মালিকদের সতর্ক করা হবে।
রিসোর্ট ঘুরে আপাতত ক্ষতির কোন দিক চোখে পড়েনি, তবে অবৈধ ভাবে করা হয়েছে। এছাড়া পরিবেশ বা সরকারী কোন অনুমোদন তাদের আছে কিনা ফিরে গিয়ে মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
উল্লেখ, গত ৪ অক্টোবর পরিবেশ অধিদপ্তর সুন্দরবন ঘেঁষে গড়ে উঠা ১৮টি রিসোর্ট বন্ধের ঘোষণা দেন। যার প্রেক্ষিতে পরিবেশ প্রতিমন্ত্রীর এ পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ করলেন পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী।



