স্থানীয় সংবাদ

কুয়েটের ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে ১ম বর্ষ বি.এস-সি. ইঞ্জিনিয়ারিং, বিইউআরপি ও বিআর্ক প্রোগ্রামের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ৮ জানুয়ারি

# নতুন যুক্ত হয়েছে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড সাইবার সিকিউরিটি’ বিভাগ #

# অনলাইন আবেদন শুরু ১০ নভেম্বর চলবে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত
# ১৭টি বিভাগে আসন ১১০৫টি
# ২১ জানুয়ারি মেধাতালিকা প্রকাশ
# ভর্তি পরীক্ষা খুলনা, ঢাকা ও রাজশাহী কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে
খানজাহান আলী থানা প্রতিনিধি ঃ খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষ বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং, বিইউআরপি ও বিআর্ক কোর্সে ভর্তির পরীক্ষা আগামী ২১ জানুয়ারি ২০২৭ এ অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ১০ নভেম্বর সকাল ১০টা থেকে অনলাইনে আবেদন শুরু হবে, যা চলবে ১০ ডিসেম্বর বিকেল ৫টা পর্যন্ত। তবে এবার ভর্তি আবেদনে জিপিএ যোগ্যতা কমিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। সেই সঙ্গে আসনসংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কমিটির সভাপতি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে বি. এস. সি. ইঞ্জিনিয়ারিং, বিইউআরপি ও বিআর্ক কোর্সে ভর্তি হতে ইচ্ছুক প্রার্থীদের নিকট হতে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য অনলাইনে আবেদনপত্র আহ্বান করা যাচ্ছে। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদসমূহে ১৭টি বিভাগে এক হাজার ১০৫টি আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ১৬ বিভাগে আসন সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৬৫টি।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে প্রার্থীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। যে কোনো মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড/মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড/কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে ২০২৩ অথবা ২০২৪ সালের মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় কমপক্ষে জিপিএ ৪.০০ অথবা সমতুল্য গ্রেড পেয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে। ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক বা তার সমমানের পরীক্ষায় পাস হতে হবে অথবা ২০২৫ সালের নভেম্বর বা তারপরে ‘এ’ লেভেল সার্টিফিকেট প্রাপ্ত হতে হবে।
৪ বিষয়ে জিপিএ ১৮’র বদলে ১৬।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, যে কোনো মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড/মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড/ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে উচ্চ মাধ্যমিক/আলিম/সমমানের পরীক্ষায় গণিত, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন ও ইংরেজি এ চার বিষয়ে কমপক্ষে মোট জিপিএ ১৬.০০ অথবা বিদেশি শিক্ষা বোর্ড থেকে সমমানের পরীক্ষায় উক্ত বিষয়সমূহে কমপক্ষে সমতুল্য গ্রেড পেয়ে পাস হতে হবে। ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে এই চার বিষয়ে জিপিএ যোগ্যতা ছিল ১৮। তবে বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় জীব বিজ্ঞানে কমপক্ষে জিপি ৪.০০ থাকতে হবে। এছাড়া বিদেশি শিক্ষা বোর্ড থেকে পাসকৃত প্রার্থীদেরকে সমমানের পরীক্ষায় উক্ত বিষয়সমূহে সমতুল্য গ্রেড পেয়ে পাস হতে হবে।
আবেদন যোগ্যতায় আরও বলা হয়, প্রার্থী জিসিই ‘ও’ লেভেল এবং ‘এ’ লেভেল পাস করে থাকলে তার ক্ষেত্রে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ‘ও’ লেভেল পরীক্ষায় কমপক্ষে পাঁচটি বিষয়ে ন্যূনতম ‘বি’ গ্রেড পেয়ে পাশ হতে হবে। ‘এ’ লেভেল পরীক্ষায় পদার্থবিদ্যা, রসায়ন ও গণিতে পৃথক পৃথকভাবে কমপক্ষে ‘বি’ গ্রেড পেয়ে পাস হতে হবে। এছাড়া, বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে জিসিই ‘এ’ লেভেল পরীক্ষায় জীব বিজ্ঞানে কমপক্ষে ‘বি’ গ্রেড পেয়ে পাস হতে হবে।
কমপক্ষে ১২ শিক্ষাবর্ষ অধ্যয়নকাল থাকা সাপেক্ষে বিদেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ২০২৫ সালের উচ্চ মাধ্যমিক/সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীর ক্ষেত্রে গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও ইংরেজি বিষয়ের প্রত্যেকটিতে আলাদাভাবে কমপক্ষে ৭০ শতাংশ নম্বর বা সমমানের গ্রেড পেতে হবে। সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে মাধ্যমিক/সমমানের পরীক্ষায় গড়ে কমপক্ষে ৭০ শতাংশ নম্বর বা সমমানের গ্রেড পেতে হবে।
প্রাথমিক সিলেকশনে ১২ হাজার নয়, আবেদন যোগ্যতা উন্মুক্ত থাকবে
ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী নির্বাচন বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রাপ্ত বৈধ আবেদনপত্রের মধ্য থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় গণিত, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন ও ইংরেজি- এই চার বিষয়ে প্রাপ্ত মোট গ্রেড পয়েন্টের ভিত্তিতে একটি তালিকা তৈরি করা হবে এবং সকল প্রার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। তবে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এ চার বিষয়ে প্রাপ্ত মোট গ্রেড পয়েন্টের ভিত্তিতে ১২ হাজার জনের একটি মেধা তালিকা তৈরি করার কথা বলা হয়েছিল।
ভর্তি সংক্রান্ত সময়সূচি:
আবেদনপত্র অনলাইনে পূরণ ও সাবমিশন শুরু: ১০ নভেম্বরে সকাল ১০টা।
আবেদনপত্র ও ফি জয়ামদান শেষ: ১০ ডিসেম্বর বিকেল ৫টা
ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের যোগ্য প্রার্থীদের নামের তালিকা প্রকাশ: ২০ ডিসেম্বর
ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ও সময়: ২০২৭ সালের ৮ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৯টা হতে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত। মুক্তহস্ত অঙ্কন বেলা ১২টা ৪৫ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত।
ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র: খুলনা, ঢাকা ও রাজশাহী কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে খুলনা কেন্দ্রের জন্য ভর্তি পরীক্ষা বাবদ প্রদেয় ফি (সার্ভিস চার্জ ব্যতীত) ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং ঢাকা ও রাজশাহী কেন্দ্রের জন্য ১ হাজার ৮০০ টাকা।
ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের মেধাক্রমের তালিকা প্রকাশ, বিভাগ পছন্দ প্রদানের নির্দেশনা, ভর্তির নিয়মাবলি ও ভর্তির তারিখ ঘোষণা: ২১ জানুয়ারি।
আসন সংখ্যা :
সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদ :
সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং (সিই) বিভাগে ১২০, বিল্ডিং ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন ম্যানেজমেন্ট (বিইসিএম) বিভাগে ৬০, আরবান অ্যান্ড রিজিয়নাল প্ল্যানিং (ইউআরপি) বিভাগে ৬০ ও আর্কিটেকচার বিভাগে ৪০টি আসন রয়েছে। ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদ: ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগে ১২০, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগে ১২০, ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ইসিই) বিভাগে ৬০, বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং (বিএমই) বিভাগে ৩০ ও ম্যাটেরিয়ালস্ সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (এমএসই) বিভাগে ৬০টি আসন রয়েছে। এছাড়া নতুন বিভাগ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড সাইবার সিকিউরিটির জন্য ৪০টি আসন নির্ধারণ করা হয়েছে। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদ: মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (এমই) বিভাগে ১২০, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট, লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং ও টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং (টিই) বিভাগের প্রতিটিতে ৬০টি করে আসন রয়েছে। এছাড়া এনার্জি সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (ইএসই), কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএইচই) ও মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (এমটিই) বিভাগের প্রতিটিতে ৩০ জন করে ভর্তি নেয়া হবে।
আর্কিটেকচার প্রোগ্রামে ৫ বছর মেয়েদী এবং অন্যান্য সকল প্রোগ্রামে ৪ বছর মেয়াদী স্নাতক ডিগ্রি প্রদান করা হয়। ১১০৫টি আসনের মধ্যে সংরক্ষিত আসন রয়েছে ৫টি (ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, চট্টগ্রাম বিভাগের বান্দরবান এবং পার্বত্য জেলার অধিবাসীদের জন্য)। ভর্তি পরীক্ষার বিষয়সমূহ ও নির্ধারিত নম্বর: ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় গণিত, পদার্থবিদ্যা ও রসায়নে যে পাঠ্যসূচি ছিল প্রধানত তার ওপর এবং ঋঁহপঃরড়হধষ ঊহমষরংয-এর ওপর ভিত্তি করে ৩ ঘণ্টাব্যাপী সর্বমোট ৫০০ নম্বরের গঈছ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম বর্ষ বিএসসি. ইঞ্জিনিয়ারিং, বিইউআরপি ও বিমার্ক কোর্সের ভর্তি পরীক্ষা একই প্রশ্নপত্রে অনুষ্ঠিত হবে। এ বছর বিআর্ক কোর্সে ভর্তিচ্ছু প্রার্থীদের ১০০ নম্বরের মুক্তহস্ত অঙ্কন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে না। উল্লেখ্য, ভর্তি সংক্রান্ত সব তথ্যাবলি ধফসরংংরড়হ.শঁবঃ.ধপ.নফ ওয়েবসাইট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নোটিশ বোর্ডে পাওয়া যাবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button